তফসিল ঘোষণা হয়নি তবুও দৌড়ঝাপ

সারাবাংলা

সাগর মল্লিক, ফকিরহাট থেকে:
প্রথম ধাপে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ এপ্রিল। আর এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনই দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রতিনিয়তই চায়ের দোকানে উঠছে তর্ক বিতর্কের ঝড়। তবে তর্ক আর বিতর্কের একটিই কারণ। আর সেটি হচ্ছে কে পাবে নৌকার প্রতীক। ইতোমধ্যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চারজন দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী মো. মহসীন, বর্তমান ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর, ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরদার আমিনুর রশীদ মুক্তি, সদ্য প্রয়াত সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার মোড়ল এর জেষ্ঠ পুত্র মিলু রহমান জিমি। উপজেলার এই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন কাজী মো. মহসীন। আর আবারো তিনি নৌকার মাঝি হয়ে ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চান। এক ইউনিয়নে একাধিক ব্যাক্তি নৌকার মাঝি হতে চাচ্ছে ঠিকই। তবে তিনি আশাবাদী জনগণের ভালবাসায় এবং দলের মূল্যায়নে আবারও তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন। কাজী মো. মহসীন নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নে বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তিনি পরপর দুই এই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী হন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে স্বয়ংক্রীয়ভাবে জড়িত। বর্তমানে তিনি ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসাবে দায়িত্বরত রয়েছেন। কাজী মো. মহসীন বলেন, আমি দুইবার নির্বাচনে জয়লাভ করেছি। আশা করি দল আমাকে এবারো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেবে। আর আমি আশাবাদী দল যদি আমাকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়, তবে ইউনিয়নবাসীর ভালবাসায় আবারো নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে পারবো।
অপরদিকে নলধা-মৌভোগ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর ও দলীয় প্রতীক নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। শেখ জাহাঙ্গীর ২০০৩ সাল থেকে অদ্যবদি এই ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসাবে রয়েছেন। রয়েছেন রুপসা চিংড়ি বণিক সমিতির সদস্য, মৌভোগ নূর আফরোজা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, মৌভোগ পশ্চিমপাড়া সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি, আপার মৌভোগ সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের পরপর তিনবারের সভাপতি হিসাবে। শেখ জাহাঙ্গীর এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ২০০৩ সাল থেকে অদ্যবদি এই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য হিসাবে রয়েছি। জনগণের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি। আমি সাধারণ ভোটারদের ইচ্ছাতেই এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। যদিও দল থেকে আমাকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয় তবে ইনশাআল্লাহ এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থাকবো সব সময়।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরদার আমিনুর রশীদ মুক্তি। সরদার আমিনুর রশিদ মুক্তি ২০০৪ সালে ফকিরহাট কাজী আজাহার আলী কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য ও সেই সঙ্গে একই সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন ২০১৫ সালে। বর্তমানে তিনি ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আমিনুর রশীদ মুক্তি ছাত্র রাজনীতি থেকেই দারুন নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নলধা-মৌভোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে চাই। তবে দল যদি আমাকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়। আমি আশা করি আমার রাজনৈতিক স্বার্থকথা বিবেচনা করে আমাকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেবে। যদি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পায় তবে আমি আশাবাদী জয়ী লাভ করে ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকতে পারবো। ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত ইউনিয়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে একটি সুন্দর ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করতে পারবো সবার সহযোগিতায়।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী নলধা-মৌভোগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখের কাতারে সদ্য প্রয়াত সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার মোড়ল এর জেষ্ঠ পুত্র মিলু রহমান জিমির নাম উঠে এসেছে। বাবার নিতীতে আদর্শিত হিয়ে পিতার মত ইউনবাসীর সেবা করতে চান তিনি। জিমির পিতা মরহুম আজহার মোড়ল ১৯৯৩ সাল থেকে পরপর তিনিবারের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। মিলু রহমান জিমি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি যশোরে পড়ালেখার সুবাধে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃকত ছিলেন। সেই সঙ্গে যশোরের সামাজিক সংগঠন হ্যাপী ক্লাব এর সদস্য ও ব্রাদার্স ক্লাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। মিলু রহমান জিমি বলেন, আমার বাবা মরহুম আজহার মোড়ল এই ইউনবাসীর মনে ছিলেন এবং আছেন। আমি আমার বাবার নিতী আদর্শে ও বাগেরহাট-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় ভাইয়ের আদর্শে চলি। আমি এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক পেয়ে নির্বাচন করতে চায়। যদি দল থেকে আমাকে দলীয় প্রতীক দেয়, তবে আমি আশাবাদী সাধারণ ভোটারদের ভোটে জয়লাভ করে তাদের পাশে থেকে সেবা করতে পারবো। আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে মাদক মুক্ত ইউনিয়ন ও বাল্য বিয়ের অবসান করা। সেই সঙ্গে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ। প্রসঙ্গত আগামী ১১ এপ্রিল দেশের ৩২৩টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগে থেকেই শুরু করেছেন দৌড়ঝাপ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *