তলিয়ে গেছে ঘের তালতলী : ক্ষতি ৫০ লাখ টাকা

সারাবাংলা

শাহাদাৎ হোসেন, তালতলী থেকে : বরগুনার তালতলীতে জোয়ারের পানি ও টানা বৃষ্টির ফলে মাছের ঘের সহ শতাধিক পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে অধিকাংশ মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ বের হয়ে গেছে। ফলে ঘের ও পুকুরের মালিকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে ৫০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘের ও পুকুর মালিকরা। গতকাল রোববার সরেজমিনে তালতলী উপজেলার বরবগী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া গ্রামে দেখা গেছে, সেখানকার সব ঘের পানিতে তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। সওদাগর পাড়া গ্রামের মাছের ঘের মালিক তানবীর সিকদার বলেন, গত ৩ বছর ধরে মাছের ঘের করে আসছি। এ বছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ও নিজের অর্থে ২ একর জমিতে মাছের ঘের করেছি। আমার ঘেরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত মাছ চাষে আমার ১০ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। ঘের তলিয়ে না গেলে এখান থেকে আমি প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু পানি বাড়ার কারণে আমার ঘেরের সব মাছ বের হয়ে গেছে। মাছের ক্ষতির পাশাপাশি অন্যান্য শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, পুকুরে মাছ ছেড়ে ছিলাম, বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এই পুকুর থেকে প্রতিবছর আমার এক লাখ টাকার ওপরে আসত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিসার শামীম রেজার সঙ্গে। প্রতিবেদকঃ মৎস্য অফিস থেকে কি মাছ চাষীদের কে আগে সতর্ক করা হয়েছিল এবছর বন্যা বেশি হবে কিনা সে ব্যাপারে? শামীম রেজাঃ হ্যাঁ এবছর আমরা ফেসবুক তারপরে বিভিন্ন সচেতনতা সভা হয় তাতে বলে এসেছি যেন তারা পুকুরপাড়টা উঁচু রাখে পাড় গুলো শক্ত করে এবার বন্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
প্রতিবেদকঃ আপনারা কোথায় কোথায় পরিদর্শন করছেন? শামীম রেজাঃ বন্যা হওয়ার আগে আমরা যেখানে গিয়েছি সেখানে পরিদর্শন করেছি। কিছুদিন আগেও আমাদের সচেতনতা সভা ছিল। আমরা ফকিরহাট, তেতুলবাড়িয়া, বগি, খোট্টার চর, পচাকোড়ালিয়া, সব জায়গায় আমরা মোটামুটি পরিদর্শন করেছি বন্যা হওয়ার পরে কোথাও পরিদর্শন করেছিলেন এমনটা জানতে চাইলে তিনি জানান, হ্যাঁ আমরা তালতলী স্কুলের একজন শিক্ষক আছে তার একটি পুকুর তলিয়ে গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান তার প্রকুরটি তলিয়ে গেছে কোন ভাবে রক্ষা করতে পারছে ও মালিপাড়া আবুলের মাছের ঘেরটি পরিদর্শন করেছি। প্রতিবেদকঃ প্রাথমিকভাবে কতগুলো মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে? শামীম রেজাঃ প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি ৩০ থেকে ৩৫ টি বড় মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ছোট ছোট অনেক পুকুর তলিয়ে গেছে। প্রতিবেদকঃ কত টাকার ক্ষতি হয়েছে? শামীম রেজাঃ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
প্রতিবেদকঃ সরকারিভাবে কোনো অর্থের বরাদ্দ হবে কিনা? শামীম রেজাঃ হ্যাঁ আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আমাদের ডিপার্টমেন্টে পাঠাবো। প্রতিবেদকঃ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে কিনা? শামীম রেজাঃ এখনো তালিকা তৈরি হয়নি তবে চেয়ারম্যান মেম্বার তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার জন্য বলেছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *