তাজরীন ফ্যাশন ট্র্যাজেডির ৯ বছর নিহত-আহত শ্রমিকের বাসস্থান চাই

সারাবাংলা

খোরশেদ আলম, আশুলিয়া থেকে
আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশন ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে সকাল থেকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশন কারখানার ভবনের সামনে ফুল দিয়ে সেদিনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের স্বরণ করা হয়। পরে পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশনের ফটকে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধাভারে স্বরণ করা হয় সেদিনের নিহত শ্রমিকদের প্রতি। তাজরীন ফ্যাশনের আগুনের ঘটনার ৯ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কারখানা মালিক দেলোয়ারের হোসেনসহ দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসাসহ সেদিনের আগুনের ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া হতভাগা শ্রমিকরা। এসময় তারা দ্রুত দায়ীদের যথাযথ শাস্তির দাবি তুলেন। একই সঙ্গে শ্রমিক নেতারা তাজরীন ট্র্যাজেডির দিন সাভার শিল্পাঞ্চলে এক দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে কারখানা মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। যাতে করে সাধারণ শ্রমিকরা এই দিনটিতে পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশনের সামনে এসে সেদিনের নিহতদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি), ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স (ইউএফজিডব্লিউ), টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন ও গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ১ মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। বুধবার সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশনের মুল ফটকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা কর্মীরা আহত শ্রমিকরা। সেøাগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে তাজরীন ফ্যাশনের মূল ফটকে, তাদের দাবি একটাই দেলোয়ার এর ফাঁসি চাই না হয় তাদের ক্ষতিপূরণ চাই।
তাজরীন ফ্যাশনের আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পরিত্যক্ত এই ভবনটি আমাদের যদি পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে দিত সরকার তাহলে আমরা একটু ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারতাম, এটাই আমাদের চাওয়া সরকারের কাছে।
শ্রমিক নেতা মো. ইমন শিকদার বলেন, আজ তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ডের নয় বছর পূর্তি হলো। ওই দিন ১১৪ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অনেকে। এখনও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নিহত শ্রমিকের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের আজও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই কারখানার পরিত্যক্ত ভবনটি শ্রমিকদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
শ্রমিক নেতা সরোয়ার হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পুরে যাওয়া যে ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে, সেটির তো কোনো পরীক্ষা এখনো করা হয়নি। পরীক্ষা করা হলে না আমরা জানতে পারবো একটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না। যেহেতু দীর্ঘ সময়েও ভবনটি পরীক্ষা হয়নি, সেহেতু আমরা ভেবে নেবো এটা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। আমাদের দাবি এই ভবনটি ভেঙে বা সংস্কার করে এখানে তাজরীনের আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের পারিবারের বাসস্থান করে দেওয়া হোক।
শ্রমিক নেতা ফরিদুল ইসলাম বলেন আহত ও নিহত শ্রমিকদের তাদের চিকিৎসার পরিপূর্ণ খরচ পায়নি তারা মানবতার জীবন-যাপন করছেন, তাজরীন ফ্যাশনের যে পরিত্যক্ত বিল্ডিংটি রয়েছে এই বিল্ডিংটি আহত নিহত স্বজনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হোক, সরকারের কাছে আমাদের দাবি। তাহলে তারা একটু স্বস্তি খুঁজে পাবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন শ্রমিক। আহত হন আরও প্রায় দুই শতাধিক।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *