তালায় আগাম হাইব্রিড শিম চাষ সফলতার হাসি চাষিদের মুখে

সারাবাংলা

এসএম জাহাঙ্গীর হাসান, তালা থেকে
সবজির এলাকা খ্যাত তালা উপজেলা জুড়ে এবার শুরু হয়েছে আগাম হাইব্রিড জাতের শিম চাষ। আগাম শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলার চাষীরা এখন ঝুঁকছেন এই চাষের দিকে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানাযায়,তালা উপজেলাজুড়ে এবার ৮৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের আগাম শিমের চাষ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন এনজিও সহযোগিতায় এসব শিম চাষীদের পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন। আর এখান থেকে উৎপাদিত শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি অফিস।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালা উপজেলায় হাইব্রিড জাতের আইটেক,কেরেল জাতীয় শিম আগাম চাষ করায় ভালো দাম পাচ্ছেন চাষীরা। যতদুর দৃষ্টি যায় দেখা মিলবে মাঠের পর মাঠে শিম গাছের সবুজ দৃশ্য। এছাড়া ঘেরের আইল এবং রাস্তাার দু’ধারে শিম গাছের দীর্ঘ সারি। শিমের বাগানে শীষে ধরে আছে বেগুনি ও হালকা সাদা ফুল। কিছু কিছু শীষে উঁকি দিচ্ছে তরতাজা শিম। আগাম হাইব্রিড শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষীরা এখন ঝুঁকছেন এই চাষে।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিষুজ কান্তি পাল জানান, আমরা মাঠ পর্যায় থেকে আগাম সবজি শিম উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছি। এসব শিম বিশেষ করে ঘেরের আইল এবং রাস্তার ধারে ভালো ফলন দিচ্ছে। আশা করছি কৃষকরা হাইব্রিড শিম চাষ করে লাভবান হবেন।
স্থানীয় কয়েকজন হাইব্রিড শিম চাষীরা জানান,কয়েক বছর আমরা জমিতে শিম চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে চাষ করতে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। অসময়ের ফসল হিসেবে কেজি প্রতি ৮০-৯০ টাকা বিক্রয় করা হয়। সেই হিসেবে প্রতিচালান ২০-২৫ হাজার টাকার শিম বিক্রয় করা যায়। আশা করছি, ১ বিঘা জমিতে ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করব।
হাইব্রিড শিম চাষ পদ্ধতি: প্রতি মাদায় ৪-৫ টি বীজ বপন করতে হবে। ৫ ফিট পর পর আশেপাশের মাটি কোদাল দিয়ে টেনে এনে উচু ঢিবি আকৃতির মাদা করতে হবে। বর্ষায় যাতে গোড়া পচে না যায়, তার জন্য এই ধরনের মাদা।গাছ লতিয়ে গেলে মাচার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে। শোষক লতা অপসারণ করতে হবে। লতা পেচিয়ে গেলে খুলে দিতে হবে। মধ্যে মধ্যে পাতা ছাটাই করতে হবে।১০ কাঠা (অর্ধ বিঘা) জমির জন্য ১২ কেজী টিএসপি + ৮ কেজী পটাশ + ১ কেজী কার্বোফুরান + ৪ কেজী জিপসাম আর বেশি পরিমান জৈব সার শেষ চাষের আগে ছিটিয়ে দিতে হবে।
গোপালপুরের চাষী গণি শেখ বলেন, বর্তমান আমাদের চাষী শিমগুলো বিক্রি করছি অনেক দামে। বাজারে শিমের পরিমাণ কম হওয়ায় দামও তুলনামূলক বেশি পাচ্ছি।
শিমচাষি ইদ্রিস হোসেন বলেন, আগাম শিম চাষ করে বেশ ভালো দাম পাচ্ছি। প্রতি কেজি শিমের মূল্য বর্তমান ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছি। ফলে অন্য সময়ের তুলনায় এসব হাইব্রিড জাতের শিম কৃষকদের আরো লাভবান করে তুলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, তালা উপজেলার এ বছর বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড শিমের আগাম ফলন হয়েছে। আমাদের সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সর্বক্ষণ চাষীরে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। হাইব্রিড শিমের আগাম চাষে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *