তালায় কলেজ শিক্ষকের ড্রাগন চাষ সফলতার হাতছানি

সারাবাংলা

জাহাঙ্গীর হাসান, তালা থেকে:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে উঠেছে অনেকে। গতানুগতিক কৃষির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সময়ের প্রয়োজনে লাভজনক ফসল উৎপাদনে সফলতা দেখছেন তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফলেয়া চাঁদকাটি গ্রামের প্রফেসর তৌহিদুর রহমান। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে এমন ভাবনা থেকে নিজেই উদ্যোগী হয়ে প্রফেসর তৌহিদুর রহমান চাষ শুরু করেন ড্রাগন ফলের। ইতোমধ্যে এই উপজেলাতেও এই ফলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ফল চাষ করতে জৈব সার একটু বেশি লাগে। রাসায়নিক সার কম লাগে। তাই অধিক লাভ করা যায়। ড্রাগন ফলের দাম আকার ও আকৃতি ভেদে প্রতি কেজি ফল ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। আমরা হর্টিকালচারের পক্ষ থেকে ড্রাগন ফল চাষে চাষিদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাটকেলঘাটা হতে মাগুরা সড়কের পাশে কলেজ শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান এ চাষাবাদ করেছেন। খুলনা সুন্দরবন সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ৭ বিঘা জমি হারী নিয়ে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছেন। ৭ বিঘা জমি বাৎসরিক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হারী নিয়ে চাষ করেছেন। তিনি এ কাজে সার্বক্ষণিক মাসিক বেতনে দুইজন কেয়ারটেকার নিযুক্ত করে রেখেছেন তারা সব সময় তদারকি করেন। বর্তমানে অনেক গাছে ফল আসা শুরু হয়েছে। জমিতে মোট ১২শ খুঁটি রয়েছে। প্রত্যেক খুঁটি সাড়ে সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ছয় ফুট প্রস্তে স্থাপন করে গাছ রোপন করা হয়েছে। প্রত্যেক খুঁটিতে ৪টি করে গাছ আছে। আগামী জুলাই মাস থেকে ফল বাজারজাত করা হবে। দুই বছর পর থেকে লাভের মুখ দেখা যাবে। এ ফল খুব দ্রুত বাড়ে এবং মোটা শাখা তৈরি করে। একটি এক বছরের গাছে ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে। এক বছরের মাথায় ফল সংগ্রহ করা যায়। উপজেলা বাগমারা গ্রামের মৃত. মাষ্টার ওমর আলী ছেলে ড্রাগন চাষি তৌহিদুর জানান, আমি শখের বশে ৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছি এখন ফল হতে শুরু করেছে। প্রকল্প শুরু থেকে ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা কিন্তু আশার বাণী বর্তমান ড্রাগন চাষে আমার জমিতে খুব ভালো অবস্থানে।
তিনি আরও বলেন, এই ড্রাগন ফলের চাষ করতে অনেক খরচ হলেও এটি অনেক লাভজনক ফসল, আমি পেশায় একজন চাকরিজীবী। চাকুরির পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ধারনা নিয়ে এবং দেশের বিভিন্ন ড্রাগন বাগান থেকে এই চাষ পদ্ধতিতে গত ৭-৮ মাস আগে ড্রাগন চাষ শুরু করি। এতে করে আমি বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়েছি এবং বছর শেষে মোটা অংকের টাকা ঘরে আসবে ।
তালা উপজেলায় ও দেশে নবাগত এই ড্রাগন ফল ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজন হয় আর প্রতি কেজি ফল পাইকারি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয় । আমি বলতে চাই আমাদের দেশে অনেক বেকার মানুষ আছে তারা যদি আমাদের মত নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে ড্রাগন ফল চাষ করে, তাহলে আমাদের বেকারত্ব দূর হবে পাশাপাশি মোটা অংকের টাকা ও উপার্জন করা সম্ভব। এলাকার একাধিক কৃষক বলেন এই ড্রাগন চাষের উপরে যদি সরকার ঋণের ব্যবস্থা করেন তাহলে আমরা ড্রাগন চাষ করতে পারবো তাতে বেকার যুবকদের কৃষি পেশার ওপর দক্ষতা বৃদ্ধির পাবে। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, তালা উপজলোয় এই প্রথম বৃহত্তর আকারে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হয়েছে। আমি ড্রগান ফল বাগানে পরিদর্শনে গিয়েছি। ফসলের মান অনেক ভালো এটি একটি উন্নতমানের ফল মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী বিশেষ করে ডায়বেডিস রোগীদের জন্য কার্য্যাকারী একটি ফল। অনেক ব্যায় বহুল থাকলেও ড্রাগন চাষ করলে অনেক লাভবান হবে কৃষকরা। তালা উপজেলার কৃষকরা নিজেদের উদ্দ্যেগে ড্রাগন ফলের চাষে এগিয়ে আসলে এই এলাকায় এই ফলের চাষ বৃদ্ধি পাবে বিশেষ করে বেকার সমস্যা সমাধান হবে। কৃষকদের পাশে তালা উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় আছে এবং কৃষকদের পাশে সব সহযোগীতায় থাকবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *