শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নরসিংদীতে ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে আরাফাতের ঈদের নামাজ আদায় ঈদের দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, আর বিএনপি আসে নিতে : প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা দেশ থেকে যেন অপরাজনীতি যেন চিরতরে দূর হয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনসহ সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত নেতানিয়াহু গাজা প্রশ্নে ‘ভুল’ করছেন : বাইডেন বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতর শেখ হাসিনা গরীবের পরম বন্ধু : ড. মোমেন বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি এবং শিক্ষার পরিবেশ দুটিই থাকা উচিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : ওবায়দুল কাদের জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় কান্তা কন্সট্রাকশনের আয়োজনে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ উপহার দিচ্ছেন আমিনুল ঢাকাস্থ সরাইল সমিতি’র উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঢাকা-ব্রাজিল সামগ্রিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর গ্রামের বাড়িতে শতাধিক দুস্থদের মাঝে খোকনের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ শ্রীপুরে গরীব ও দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবারের ঈদে ঢাকা ছাড়তে ৯৮৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত ভাড়া গুনবেন যাত্রীরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ১০ জন নিহত অসহায় মানুষের সঙ্গে ঈদ আনন্দে সামিল হলো এনএফএস মানিক লাল ঘোষ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত পাইকগাছার কপিলমুনিতে ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরা হলো না বাবলু ডাক্তারের তাড়াশে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা শ্রীপুরে ৫শ অসহায় মানুষের মাঝে প্রতিমন্ত্রীর ঈদ সামগ্রী বিতরণ সালথায় ভেজাল তৈল তৈরির কারখানায় পুলিশের অভিযান: অসাধু ব্যবসায়ী আটক

তিতাস গ্যাস হরিলুট -২, শুধু বৃহত্তর মিরপুর অঞ্চল থেকেই বছরে শতকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি

সোহাগ হাওলাদার 
শনিবার, ৯ মার্চ, ২০২৪, ৮:২৭ অপরাহ্ন

বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র। মিরপুরের আনন্দনগর, বর্ধন বাড়ি, হরিরামপুর, জহুরাবাদ, গোলারটেক, ২য় কলোনী, মিরপুর ১, ২, ৬,৭, ১০, ১১, সাড়ে ১১, ১২, ১৩,১৪, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ৬০ ফুট, ও ভাষানটেক এলাকায় তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সিন্ডিকেট চক্র অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে প্রতিবছর শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, বমহতৃতর মিরপুর এলাকার দারুস সালামে কয়েক বছরে শত শত আবাসিক বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। সরকারি ভাবে আবাসিক গ্যাস-সংযোগ বন্ধ থাকলেও এসব ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে জ্বলছে গ্যাসের চুলা। আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকার পরও তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কেউ কেউ সংযোগ নিলেও অধিকাংশই অবৈধ। এছাড়াও ভবনগুলোতে যতগুলো বৈধ চুলা রয়েছে, তার চেয়েও অবৈধ চুলার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন কল কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও নব নির্মিত বহুতল ভবন গুলোতে মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ দিয়ে থাকে এই সিন্ডিকেট চক্র।

এসব অবৈধ চুলার বিলও নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা। আনন্দনগর, বর্ধন বাড়ি, হরিরামপুর, জহুরাবাদ, গোলারটেক, ২য় কলোনী এলাকায় ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের প্রধান হল শহিদুল ও টিপু। মিরপুরের গুদারাঘাট এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের সাথে জড়িত আছে তিতাসের ঠিকাদার জমির আলী ও পুলিশের সোর্স খলিল। পীরেরবাগ ঝিলপাড় এলাকায় আশরাফ আলী ও চান্দি অতুল। শিয়াল বাড়ি মাদবরের বস্তি, রূপনগর আবাসিক, দুয়ারীপাড়া ও ইস্টার্ণ হাউজিং এলাকায় অন্তত ২৮ টি ওয়াসিং ফ্যাক্টরি এবং কয়েক’শ আবাসিক ভবনে রয়েছে তিতাসের অবৈধ সংযোগ। লতিফ মোল্লা ও সুজন মোল্লার নেতৃত্বে একটি সিন্ডকেট এর সঙ্গে জড়িত। ভাষানটেক এলাকায় গ্যাস দুলাল,দারুস সালাম হিরক,লালাসরাই ফিমার বস্তিতে লিটন, আলমগীর ও পেটকাটা আবুলের নেতৃত্বে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা উত্তোলন করা হয় অবৈধ গ্যাস বিল বাবদ। এসব টাকা ভাগাভাগি হয় তিতাসের কর্মকর্তা,ঠিকাদার, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও চ্যালা চামুন্ডার মধ্যে।

একই অবস্থা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, হাজী রোডের পাশের বস্তি, রূপনগর আবাসিক,শিয়াল বাড়ি মাদবরের বস্তি,বড়পীরেরবাগ,ঝিলপাড়,ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পে আবুলের বস্তি, মিরপুর ১৩ লোহার ব্রীজের আসপাশের পুরো এলাকায় মাকড়সার জালের মতোই ছড়িয়ে আছে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ।

এছাড়া মিরপুর ১৩ এর ইমান নগর, পলাশ নগর ও শ্যামল পল্লীতে কমিশনারের ভাগিনা আলিম, কারেন্ট কামাল, নেওয়াজ, মোখলেস ও ডিএসপি বাবুর নেতৃত্বে প্রতিমাসে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা গ্যাস বিল উত্তোলন করা হয়। মাঝে মধ্যে তিতাসের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও রাতের আঁধারে মোটা অংকের টাকার বিনিময় সিন্ডিকেট সদস্যরা পুনরায় সংযোগ দিয়ে থাকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি ভবনের অবৈধ চুলা থেকে বিল নেয়া হয় ৫শ’ থেকে ৭শ’টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দারুস সালাম এলাকার সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, আমাদের প্রায় ৪০/৫০ টি বাড়ির সংযোগ দেওয়া আছে। অনেক ভবন মালিক ঠিকমতো বিল দেয়না। আর যেই বিল আসে তার একটি বড় অংশ তিতাসের বড় কর্মকর্তাদের কাছে চলে যায়। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের ও প্রশাসনকে দিতে হয়। বাকিটা নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে থাকি। ২২৮ আন্দনগর, ২/১৪ বর্ধন বাড়ি, এসি অফিসের পাশে দশ তলা ভবন সহ প্রায় ৩৫টি বাড়িতে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ রয়েছে। আর এইসব বাড়ি থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন শহিদুল ও টিপু সিন্ডিকেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ভবন মালিক জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস-সংযোগ নিয়ে তাদের কাছে বিল পরিশোধ করতে হয়। অন্যথায় তিতাসের লোকজন এনে অভিযান চালিয়ে ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে ভবন মালিকরা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা করে, অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করেন। গ্যাস সরকারি হলেও স্থানীয় সিন্ডিকেট বিল নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।


এই বিভাগের আরো খবর