তীব্র ভাঙনে আতংক

সারাবাংলা

মোস্তাফিজুর রহমান জিতু, পাথরঘাটা থেকে
বরগুনার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি চর অর্ধেক পড়েছে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নে। অন্য অংশ আরেক ইউনিয়নে। দুই ইউনিয়নের কয়েকটা গ্রাম আছে চরটিতে। তবে কাকচিড়া ইউনিয়নের মধ্যে চরের প্রায় দুই হাজার মানুষ বাস করে। চরের বাকি অংশেও প্রায় সমান সংখ্যক মানুষের বসবাস। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়ায় উত্তল প্রমত্তা বিশখালি নদীর তীব্র ভাঙনে আতংকিত হয়ে পড়েছে কারচিড়ার মাঝেরচর এলাকার মানুষজন। ইতোমধ্যে কাকচিড়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাটের বরা বর মাঝের চর এলাকা থেকে বেড়িবাঁধ ভেঙে বেশ কিছু আবাদী জমি ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করার পরও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভয়াবহ তাণ্ডবে চালিয়ে চলে গেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। তবে এর প্রভাবে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন এই চর অঞ্চলের মানুষরা। বেশিরভাগ এলাকায় বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় বা ধসে যাওয়ায় জল ঢুকে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের সংকট।
উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত দক্ষিণের উপকূলীয় এ এলাকাবাসি চরম আতংকের দিন কাটাচ্ছেন। সহায় সম্বল হারিয়ে অনেকই নিঃস্ব হয়ে চলে গেছেন অন্যত্র। এলাকাবাসি জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে আম্পানে পর থকে গত কয়েক মাস ধরে ভাঙছে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই বিশখালি নদীর মধ্যেখানে জেগে উঠেছে এই চর। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এই চরে ইতিমধ্যে অন্যত্র চলে গেছে অনেক পরিবার। যারা পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি আকড়ে পড়ে রয়েছে তারা রয়েছে আতংক আর উৎকণ্ঠায়। বর্ষা মৌসুমে বিশখালি বিশাল ঢেউয়ের আঁচড়ে পড়ার স্রোতে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙনের তীব্রতাও। এসময় বিশখালি যেন বিধ্বংসী সুনামী রূপ ধারণ করে। ভয়ংকর এ নদীটি ভেঙে তছনছ করে দেয় নদী তীরের আশপাশ এলাকায় ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে জেলে পরিবারগুলো। ভুক্তভোগীরা জানায়, চলতি শুকনো মৌসুমে বিশখালি নদীর ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীগর্ভে বিলীন হবে আরও বহু বাড়িঘর, আবাদি জমি ও এই চরাঞ্চল। ভাঙনে কবলিত অনেকেই জানান, ঘূর্ণিঝড়ে আম্পানের পর স্থানীয় সংসদ সওকাত হাচানুর রহমান রিমন ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন এবং সংস্কার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী ভাঙন ঠেকানোর জন্য প্রতি বছর আমরা নিজস্ব অর্থায়নে মাটি দেই, কিন্তু সেই মাটি দিয়ে রক্ষা করা যায় না।
স্থানীয় মোহাম্মদ আলি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জানান, বিশখালী নদীর মধ্যে এই চর, এখানে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিডা ইউনিয়নের দুই হাজার লোকের বসতবাড়ি। অন্য উপজেলারও রয়েছে সমান সংখ্যক মানুষের বসতভিটা, রয়েছে অনুমোদিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এগুলো রক্ষার্থে এই চরাঞ্চল এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেই কেবল ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
এখনই ভাঙনরোধে বেড়িবাঁধ পুনরায় নির্মাণ এবং নদী শাসন না করা হলে ভয়াল রাক্ষুসে বিশখালীর গ্রাসে বিলীন হয়ে পাল্টে যাবে এই মাঝেরচরের মানচিত্র। হুমকিতে পড়বে মৎস্য ও কৃষি সম্পদ। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে শত শত পরিবারের বসতঘরসহ ফসলী জমি। মাঝেরচরের একটি অংশ বরগুনা সদর উপজেলায় এবং অন্য অংশটি পাথরঘাটা উপজেলার অর্ন্তগত। দুই উপজেলার অংশ হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ চরের মানুষ। বরগুনা-২ এর সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন (এমপি) এর কাছে মুঠোফোনে বলেন, আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে সঙ্গে গিয়ে কাকচিড়া মাঝেরচর পরিদর্শন করছি এবং এই ভাঙন নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *