তীর্থক্ষেত্র লাঙ্গলবন্দ এবারও পূণ্যার্থীশূন্য

সারাবাংলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
করোনা মহামারী আসার দু’বছর পূর্বেও ১০ লাখ দর্শনার্থী এসেছিল। কিন্তু এ বছর নেই দশজনও। গাড়ি কিংবা কোন পরিবহনই চলছে না কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে। তাই অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে এবারের লাঙ্গলবন্দে স্নানোৎসব। মহাভারতের বর্ণনায় জানা যায়, পরশুরাম মুনি পাপ মুক্তির জন্য ব্রহ্মপূত্র নদের যে স্থানের জলে স্নান করেছিলেন, তা লাঙ্গলবন্দ অবস্থিত। সেই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান খুবই পূণ্যের। এ স্নানের ফলে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপমোচন হয়। এ বিশ্বাস নিয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে প্রতিবছর বাংলাদেশ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল থেকে প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী এ উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। চান্দ্রবর্ষ লগ্ন অনুযায়ী, ১৯ ও ২০ এপ্রিল বন্দরের লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নানোৎসব হওয়ার কথা ছিল। বহুল প্রসিদ্ধ এই লাঙ্গলবন্দ তীর্থক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে লাঙ্গলবন্দের দুই দিন ব্যাপী স্নানোৎসব বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাই প্রবেশ পথে দু’দিন ধরেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। একটি রিকশা বা সাধারণ পরিবহনও ডুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আশপাশের এলাকার মানুষ কিছু মানুষ উৎসবে অংশ নিলেও অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুক্লা সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সভা, সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব রকম জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *