তুরস্কের সঙ্গে হতে পারে যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রেক্সিট পরবর্তী সুসম্পর্কের লক্ষ্যে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে আগামী মঙ্গলবার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য-তুরস্কের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নতুন কিছু নেই। লন্ডন-আঙ্কারার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক শর্তগুলোই থাকছে নতুন চুক্তিতে।

তবে গত রোববার ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই নতুন সম্পর্ক হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করা হচ্ছে। এটি আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করবে। এর ফলে যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রস্তুতকারক, গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পে হাজার হাজার চাকরির নিশ্চয়তা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এখন আমরা অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য-তুরস্কের মধ্যে উচ্চাভিলাষী বাণিজ্য চুক্তির আশা করছি।

২০১৯ সালে লন্ডন-আঙ্কারার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড (২৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, জাপান, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ের পর তুরস্কের সঙ্গেই তাদের বাণিজ্যিক লেনদেন সবচেয়ে বেশি।

ব্রেক্সিট ট্রানজিশন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নতুন নীতি চালুর বিষয়টি সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ৬২টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাজ্য। কিছুদিন আগেই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে ব্রেক্সিট ট্রানজিশন পিরিয়ড। অর্থাৎ, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আর ইইউ’র অংশ থাকছে না যুক্তরাজ্য। ফলে ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে তারা এতদিন অভিন্ন মুদ্রা, উন্মুক্ত সীমান্তের মতো যেসব সুযোগ-সুবিধা পেত, সেগুলো বন্ধ হতে চলেছে। একারণে ট্রানজিশন পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তির দরকার ছিল দুই পক্ষেরই।

অবশেষে বছরখানেক ধরে দফায় দফায় আলোচনা আর সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয়েছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই চুক্তি। নতুন চুক্তির ফলে তাদের মধ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত পদ্ধতিতেই পণ্য আমদানি-রফতানি চলবে। তবে উন্মুক্ত চলাচলের সুবিধা আর থাকছে না। ভবিষ্যতের বিরোধগুলোও মীমাংসা হবে স্বাধীনভাবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *