ত্রাণের জন্য আকুতি যৌনকর্মীদের

সারাবাংলা

রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী থেকে:
সর্বাত্মক লকডাউনে দেশের সর্ববৃহৎ রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পতীতা পল্লিতে খরিদ্দার আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় উপার্জন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে পল্লীর প্রায় দেড় হাজারের মত যৌনকর্মী। করোনা সংক্রমনের শুাংতে যৌনকর্মীরা পুলিশ সহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার ত্রাণ সহায়তা পেলেও এবারের লকডাউনে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। দৌলতদিয়া পতীতাপল্লী গোয়ালন্দ ঘাট রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বর্তমানে উত্তর পাড়া নামে পরিচিত। যেখানে যৌনকর্মী সহ প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের বসবাস। জৈবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ পল্লিতে আসা-যাওয়া করে। ফলে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সর্বাত্মক লকডাউনে পতীতাপল্লীতে খরিদ্দার আসা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে খরিদ্দার না আসায় খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন যৌনকর্মী ও পল্লীর বাসিন্দারা। কোনো রকম ধারদেনা করে চলছেন তাদের জীবন জীবিকা এবং পার করছেন অলস সময়। অপরদিকে পল্লীতে লকডাউন বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে পুলিশ। যৌনকর্মীরা বলেন, গত বছরের লকডাউনে তারা পুলিশসহ অনেকের ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু এবারের লকডাউনে এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্যে সহযোগিতা পাননি। এখন খদ্দের না আসাতে হচ্ছে না আয় রোজগার। সন্তান-সন্ততি নিয়ে ধারদেনা করে, কোনো রকম না খেয়ে দিন পার করছেন। এভাবে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে তারা ত্রাণ সহায়তার অনুরোধ জানান। পল্লীর ভেতরের হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, পল্লির মেয়েদের নিয়ে তাদের ব্যবসা। এখন মেয়েরাই ভাত পাচ্ছে না। এবার এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সহযোগিতা করেনি। মহাজনদের থেকে বাকী এনে মেয়েদের দিচ্ছেন, কিন্তু কষ্ট সবার হচ্ছে। মেয়েরা কোনো সহযোগিতা পেলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে তারাও ভালো থাকতো।
অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের নারী নেত্রী ঝুমুর আক্তার বলেন, আগের লকডাউনে জিআইজি হাবিব স্যার পুলিশ ও তাদের মাধ্যমে যৌনকর্মীদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু এবার একটি সংগঠনের মাধ্যমে শুধু ২শ জনের খাবার পেয়েছেন। এখানে যৌনকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। লকডাউন বাড়লে এখানকার কেউ করোনায় মারা যাবে না। মারা যাবে না খেয়ে। সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য কত কিছু করছে। আর তারা তো এদেশের নাগরিক। তাই যৌনকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে সরকারকে অনুরোধ জানান তিনি। গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি ও ভাইচ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, করোনার প্রথম পর্যায়ের লকডাউনে যৌনকর্মীদের সর্বোচ্চ সরকারি সহযোগিতা দিয়েছেন। এবারও তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা শেষ হলে তারা সহযোগিতা পাবে। এ ছাড়া তারাও ব্যক্তিগত ভাবে যৌনকর্মীদের জন্য ভাবছেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, করোনার শুরুতে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজ হাবিবুর রহমান স্যার ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে যৌনকর্মীদের বেশ কয়েকবার ত্রাণ দিয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সংস্থ্যাও সহযোগিতা করেছেন। এবারও অনেকে সহযোগিতা করছেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি বছরে পতীতা পল্লি থেকে ১৫ জনের মত কিশোরীকে উদ্ধার করে অনেককে তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন। আর যাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে সেভ কাস্টরিতে পাঠিয়েছেন। মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার সঙ্গে জরিতদের গ্রেফতার ও অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *