তৎপর অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী চক্র, বছরে ১১ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

জাতীয় রাজধানী

এসএম দেলোয়ার হোসেন : তৎপর হয়ে উঠেছে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী চক্র। সংঘবদ্ধ এ চক্রটি নানা কৌশলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও ফ্লোর ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। সংঘবদ্ধ ওই চক্রের মূলহোতাসহ সক্রিয় ৩ ব্যবসায়ী র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে। এরা হচ্ছেন- অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা মো. কাজী এম এম মাহামুদ ছোটন, রাকিব হাসান ও বাবর উদ্দিন। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি টাকার অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামাদি। এই চক্রটি বছরে সরকারের প্রায় ১১ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিল বলে দাবি করেছে র‌্যাব। ফলে এই চক্রের হাত থেকে বছরে ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি,২০২১) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদে গতকাল বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি,২০২১) দুপুর ২টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি,২০২১) সকাল ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর নিউমার্কেট, তুরাগ ও শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-১০ এর একটি দল। এ সময় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা মো. কাজী এম এম মাহামুদ ছোটনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তাদের হেফাজত থেকে ৫ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামাদি উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান জানান, চক্রটি অবৈধ টেলিযোগাযোগ স্থাপনার মাধ্যমে প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ৬ লাখ আন্তর্জাতিক কল মিনিট অবৈধভাবে বাংলাদেশে টার্মিনেট করছে। সংঘবদ্ধ চক্রটির অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার কারণে সরকার দৈনিক প্রায় ৩ লাখ টাকা (বর্তমান আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট অনুযায়ী) এবং বছরে প্রায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

র‌্যাব-১০ এর প্রধান বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দলটি জানতে পারে, রাজধানী ঢাকার নিউ মার্কেট থানাধীন কাটাবন এলাকার এলিফ্যান্ট রোডের ২৭৮/৩ সরদার ভিলার ২য় তলার ‘তালহা এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ভিওআইপির যন্ত্রাংশ বিক্রয় করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় ৪টি সিম বক্স ডিভাইস (যার গায়ে অ্যামপ্লিফায়ার ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম লেখা আছে) ও ২টি মোবাইল ফোনসহ রাকিব হাসান ও বাবর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন রমজান মার্কেট ভাবনারটেক এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলমের বাড়ির একটি তালাবদ্ধ কক্ষ (যা চলমান ভিওআইপি কন্ট্রোলরুম) হতে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার চক্রের মূলহোতা কাজী এম এম মাহামুদ ছোটনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহৃত ১৯টি সিম বক্স ডিভাইস, ৪১৬টি জিএসএম এন্টেনা, ৩৪শ’ পিস টেলিটক সিম, ৭টি মিনি কম্পিউটার, ৩টি ওয়ারলেস রাউটার, ৫টি বাংলা লায়ন মডেম ও রাউটার, ৩টি ল্যাপটপসহ ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু চক্রটি কিভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের ৩ হাজার ৪০০ সিম ক্রয় ও ব্যবহার করে আসছিল গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১০ এর প্রধান বলেন, বিষয়টি র‌্যাব ও বিটিআরসি’র নজরে এসেছে। এটা নিয়ে গভীর তদন্ত করা হবে।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, বিটিআরসি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যমতে অবৈধ টেলিযোগাযোগ স্থাপনার মাধ্যমে চক্রটি প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ৬ লাখ আন্তর্জাতিক কল মিনিট অবৈধভাবে দেশে টার্মিনেট করছিল। এতে তারা সরকারকে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবকে জানায়, তারা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার ও ভিওআইপির যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয়কারী। তারা দীর্ঘ এক বছর ধরে সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপি এর ব্যবসায়ী চালিয়ে আসছিল।

অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং ভিওআইপি কল কোনো অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করে আসছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, যেহেতু তারা অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা ও সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন। তাদের এই ভিওআইপি কলে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। এ অভিযানসহ যেকোন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড রোধে র‌্যাবের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *