দশমিনায় ইউপি নির্বাচন কোন্দলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি

সারাবাংলা

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
দলীয় কোন্দলের কারনে দশমিনা উপজেলার তিনটি ইউপি নির্বাচনের দুটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতিকের প্রর্থীর ভরাডুবি হয়েছে বলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এদিকে ইউপি নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ ধারন করেছে। গত নির্বাচনে ওই দুটি ইউনিয়ন পরিষদ আওয়ামীলীগের দখলে ছিল। গত সোমবার দশমিনা উপজেলার ২ নম্বর আলীপুরা, ৫ নম্বর বহরমপুর ও ৬ নম্বর বাশবাড়ীয়া ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৬ নম্বর বাঁশবাড়ীয়া ইউপি নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কাজী আবুল কালাম ৫৩৫৫ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে ২ নম্বর আলীপুরা ইউনিয়নে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে নৌকার প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মিজান ভোটের আনুপাতিক হারে ১৮৫৪ ভোট পেয়ে চার নম্বরে রয়েছেন। বহরমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মৃধা ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর থেকে ৮১১ ভোট কম পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
এ ব্যপারে আলীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন সরদার বলেন, আপনারা সব দেখেছেন, আমি কোনো মন্তব্য করবো না। দশমিনা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ান বলেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন নৌকার পক্ষে কাজ না করায় দুই ইউনিয়নে নৌকার বিপর্যয় ঘটেছে। দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, বহরমপুর ইউপি নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়া ও তার অনুসারীরা নৌকার বিরোধিতা করায় নৌকার পরাজয় ঘটেছে। তিনি আরও জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করার অভিযোগে গত ১৫ জুন বহরমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল হক হাওলাার আব্দুল আজীজ মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এ ছাড়া আলীপুরা ইউনিয়নে কালো টাকা ও ভৌগলিক কারনে নৌকার পরাজয় ঘটেছে।
দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, সাধারণ সম্পাদকের করা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় ছিলাম নির্বাচনের দুইদিন আগে এলাকায় এসেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটে আত্বীয় স্বজন ও ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনায় মানুষ ভোট দেয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা সেটাও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস.এম শাহজাদা জানান, উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনটা ব্যাক্তি কেন্দ্রীক ও কুক্ষিগত করে রাখায় নৌকার দখলে থাকা দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *