দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করলো সশস্ত্র বাহিনী

জাতীয়

এসএম দেলোয়ার হোসেন:
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ সেনা-নৌ ও বিমানবাহিনী। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ১০১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হয়। এরপর সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনীর উদ্যোগে দেশের সকল সেনানিবাসে নৌ বাহিনীর জাহাজ/ঘাঁটিতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলায় উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান প্রদর্শন করেছে বিমান বাহিনী। আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পৃথক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের সব সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপন ঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপন করেছে সেনাবাহিনী। আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একযোগে ঢাকাসহ দেশের সকল সেনানিবাসে উদযাপন করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাজধানী ঢাকার পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় ১০১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হয়। এদিন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুস্পস্তবক অর্পণকালে আন্তঃবাহিনী অনার গার্ড প্রদান করা হয়। জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে সেনাবাহিনীর সকল স্তরের সামরিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে সকল সেনানিবাসে বিবিধ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকাসহ সকল সেনানিবাসের প্রতিটি প্রবেশ পথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ সুসজ্জিত করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শ, মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, দেশ গঠনে রাজনৈতিক অবদান ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক চিত্র তুলে ধরে সকল সেনানিবাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি’র আয়োজন করা হয়। সেনাবাহিনীর সকল ইউনিট, প্রতিষ্ঠান এবং সদর দপ্তরসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীর উপর আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সকল স্কুল, কলেজ ও বিশ¡বিদ্যালয়সমূহে অনলাইনে আলোচনা অনুষ্ঠান, কুইজ, রচনা, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ দিনে জাতির পিতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সেনানিবাসসমূহের সকল মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
মিরপুর সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ঃ সদর দপ্তর ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের ব্যবস্থাপনায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) মিরপুর সেনানিবাসে যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে জাঁকজমকপূর্ণভাবে একটি র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন এসবিপি, এসইউপি (বার), এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি+, পিএইচডি। উক্ত র‌্যালিতে মিরপুর সেনানিবাসের সকল ইউনিট/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, মিরপুর সেনানিবাসে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দ উক্ত র‌্যালিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
নৌবাহিনীতে র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচি উদযাপন ঃ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) নৌবাহিনীর সকল জাহাজ/ঘাঁটিসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলে নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এতে নৌবাহিনীর সকল স্তরের সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নাবিকগণ অংশগ্রহণ করে। পরে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সকল নৌঅঞ্চলের মসজিদগুলোতে বাদ যোহর মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকল জাহাজ/ঘাঁটিতে জাতির পিতার জীবনী ও কর্মকাণ্ডের ওপরে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকল জাহাজ ও ঘাঁটিসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে নৌবাহিনীর সকল জাহাজ/ঘাঁটিসমূহে দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান স¤¦লিত বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দ্বারা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। তছাড়া সূর্যাস্ত হতে মধ্যরাত পর্যন্ত সকল ঘাঁটির প্রধান প্রধান গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আলোকসজ্জা করা হয়।

বিমান বাহিনীর বিমানের মাধ্যমে উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শন ঃ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। এ উপলক্ষে আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এক মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি এর দিক-নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানের আকাশে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ধরণের বিমানের মাধ্যমে ১০০ তৈরির এই উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উদযাপনে উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত বাংলার আকাশ ও বাতাস। এই উচ্ছ্বাসের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দক্ষ বৈমানিকগণ এই মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলীর মাধ্যমে বাংলার আকাশে অতি মমতায় এঁকে দিয়েছে ‘একশত’। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭, মিগ-২৯, ইয়াক-১৩০, কে-৮ডব্লিউ ও পিটি-৬ বিমান ও হেলিকপ্টার এর সমন্বয়ে এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীতে বিমান বাহিনীর দক্ষ বৈমানিকগণ বাংলাদেশের নীলাকাশে ফরমেশন ফ্লাইং-এর মাধ্যমে ১০০ তৈরি করে সমগ্র জাতির উৎসব ও উচ্ছ্বাসের রঙে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। ১০০ তৈরির উড্ডয়ন শৈলীটি দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও, বিমান বাহিনীর বৈমানিকগণ বিমানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সম্বলিত ব্যানার ফ্লাই করা হয়। জাতির এই আনন্দঘন মাহেন্দ্রক্ষণে সকলের সাথে একাত্ম থাকবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।


প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি এ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
পতাকা উত্তোলন শেষে সিনিয়র সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অতঃপর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতির পিতার ১০১তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এরপর অতিরিক্ত সচিব মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক এর সভাপতিত্বে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২১’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা টুঙ্গিপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্ম নেয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খোকা থেকে জাতির পিতা ও বিশ্বনেতা হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন এ দেশের মাটি ও মানুষের অধিকার আদায় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন।
প্রধান অথিতির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন বাঙালি জাতির জন্য এক মাহেন্দ্রক্ষণ। এ বছর মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির পিতার জন্মদিন উদযাপন সকলের কাছে অনন্য ঐতিহাসিক মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো আজও এদেশ স্বাধীন হতো না। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল অগ্রণী ও অপরিসীম। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান পেরিয়ে’ ৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও তিনি ছিলেন অসাধারণের মধ্যে অসাধারণ। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী কুটনৈতিক। তাঁর অবস্থান ছিল সবসময় শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে। বিশ্ব মানবতার জন্য তার ভালোবাসা ছিল প্রবল। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টা ছিল নিরন্তর। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাওয়া যায় ছেলে বেলা থেকে আমৃত্যু তার চরিত্রে সকল মানবিক গুণাবলির সন্নিবেশ ঘটেছিল- যা আমাদের সকলের জন্য, বিশেষ করে এ দেশের শিশু-কিশোরদের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। পরিশেষে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শকে লালন করে দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর উপস্থিতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ভিত্তিক ভিডিও ক্লিপিংস/ফুটেজ প্রর্দশন করা হয়। অতঃপর সিনিয়র সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগারে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সম্পর্কিত ডকুমেন্টেশন সেন্টার’ এর শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর বাদ যোহর গণভবন জামে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তির ঘোষণা করা হয়।

বিইউপিতে ‘জাতির পিতার মহিমান্বিত জীবন এবং তার অবদান’ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ঃ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। করোনা মহামারির কারণে আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) সীমিতপরিসরে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম আয়োজন ছিল ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহিমান্বিত জীবন এবং তাঁর অবদান শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২১’। উক্ত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) বিইউপি’র বিজয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বিইউপি’র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত কুইজার্স সোসাইটি ক্লাবের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতাটি গত ৪ মার্চ শুরু হয়ে আজ বুধবার ১৭ মার্চ শেষ হয়। শিক্ষার্থীদেরকে বঙ্গবন্ধু, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামী চেতনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানের উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উক্ত কুইজ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসাদুজ্জমান নূর, এমপি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউপি’র উপাচার্য মেজর জেনারেল মোঃ মোশফেকুর রহমান, এসজিপি, এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার এবং বঙ্গবন্ধু চেয়ার, বিইউপি’র অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। দুই সপ্তাহব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫শ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে ২৫ জন প্রতিযোগী সেমিফাইনালে এবং ১০ জন প্রতিযোগী গ্রান্ডফিনালে উত্তীর্ণ হন। ফ্যাকাল্টি অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্রাটেজি স্টাডিজ এর কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত গ্রান্ডফিনালে ৫ জন প্রতিযোগী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। ৫ জন বিজয়ীর মধ্যে ১ জন বিজয়ী আদমজী ক্যান্টঃ কলেজ থেকে এবং ৪ জন বিজয়ী বিইউপি’র শিক্ষার্থী। উক্ত সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি আসাদুজ্জমান নূর এমপি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালী এবং জাতীয় জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে তাকে বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে কিন্তু সত্যকে কখনই গোপন রাখা যায় না, আর সে কারণেই তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীরা যদি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি বিষয়গুলো অনুধাবন করেন, তবে নিজেরাই উপকৃত হবেন। উক্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, বিইউপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। বিসিএস অডিট অ্যান্ড একাউন্টস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন ঃ
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপনের অংশ হিসেবে এই মহান নেতার ১০১তম জন্মদিন পালন করেছে বিসিএস অডিট এন্ড একাউন্টস এসোসিয়েশন। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার (১৭ মার্চ, ২০২১) সংগঠনের পক্ষ হতে দিনব্যাপী কোরান খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মোহাম্মদ গোলাম ছরওয়ার ভূঁঞা সিনিয়র অর্থ নিয়ন্ত্রক, আর্মি (অতিরিক্ত সচিব) ও মহাসচিব, বিসিএস অডিট এন্ড একাউন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে এসোসিয়েশনের সকল স্তরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকলের জন্য মহান রাব্বুল আল-আমিনের নিকট বিশেষ দোয়া করা হয়।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *