দিনাজপুর থেকে পায়ে হেঁটেই উল্লাপাড়ায় যাচ্ছেন আলম ও মনির

সারাবাংলা

মোস্তফা বায়েজিদ কাদের, লালপুর থেকে:
ঢাকায় রিকশা চালিয়ে বাড়িতে মায়ের কাছে টাকা পাঠাতেন নূর আলম (২০) ও মনির হোসেন (২২) দুই ভাই। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের গোলাপবাগ গ্রামে। বাবা-মা এর বিচ্ছেদের কারণে মা ও বোন নিয়ে আলাদা থাকেন তারা। মা ও ছোট বোন গ্রামেই থাকেন। আর দুই ভাই ঢাকায় রিকশা চালিয়ে মায়ের কাছে টাকা পাঠান। করেছেন রাজমিস্ত্রীর কাজও। হঠাৎ মা অসুস্থ হওয়ায় মাকে দেখতে নিজ গ্রাম দিনাজপুরে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরায় করোনার অজুহাতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গ্রামে প্রবেশ করতে দেয় নি তাদের। তবে মায়ের সঙ্গে দেখা না হলেও মায়ের কাছে টাকা পৌঁছে দিয়েছেন ।
এদিকে, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরে আগেভাগেই লকডাউনের ঘোষণা দেয় স্থানীয় প্রশাসন। নিজ বাড়িতে জায়গা না হওয়ায় নিজ কর্মস্থলে ফিরতে যানবাহন না পেয়ে রেললাইন ধরেই হাঁটা ধরেন নূর আলম (২০) ও মনির হোসেন (২২) দুই ভাই। পথে খুয়েছেন মোবাইল ও কাছে থাকা টাকা পয়সা। কথা গুলি কাতো কাতো কণ্ঠে বলছিলেন নূরে আলম ও মনির।
গত শুক্রবার রাত তখন প্রায় সাড়ে ৭টা। নাটোর জেলুুার লালপুরে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে রেললাইন ধরে হেঁটে আসছিলেন নূরে আলম ও মনির। এসময় কথা হয় সানী ও রাব্বি নামে স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে। স্টেশন থেকে ঢাকা গামী ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হোন তারা। যাত্রী নেওয়ার নিয়ম না থাকায় ট্রেনে উঠতে দেয় নি ট্রেনের কর্তব্যরত পুলিশ। নূরে আলম ও মনির আরও জানায়, নিজ বাড়িতে জায়গা না হওয়ায় যেতে চেয়েছিলেন কর্মস্থলে। তবে লকডাউনের সেখানেও কাজ না থাকায় সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় নির্মাণ কাজের উদ্দেশ্য রেললাইন ধরে কয়েকদিন আগে রওনা দেন তারা। শান্তাহার স্টেশনে ঘুমিয়ে পড়লে চুরি হয়ে যায় কাছে থাকা মোবাইল ফোনটাও টাকা। তাই নিরুপায় হয়ে রেল লাইন ধরে পায়ে হেঁটেই কাজের সন্ধনে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় যাচ্ছেন।
গোপালপুরের স্থানীয় দুই তরুণ সানী ও রাব্বি জানান, সবকিছু শোনার পর রাতের খাবার ব্যবস্থা করে দেন তারা। এসময় রাজশাহী থেকে ঢাকা গামী ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন আজিমনগর স্টেশনে থামলে ট্রেনের জিআরপি দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বললে তারা ট্রেনের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে যাত্রী নেয়ার নিয়ম না থাকায় দুই ভাইয়ের কান্নাও ট্রেন পরিচালকের মন গলাতে পারেনি। আম ও অল্পকিছু যাত্রী নিয়ে চলে গেলো ট্রেন। জায়গা হয় নি আলম ও মনিরের। পুনরায় তারা কাজের সন্ধনে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ার উদ্দেশ্যে রেল লাইন ধরে পায়ে হাঁটা শুরু করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *