দীর্ঘ যানজট কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে

সারাবাংলা

ফয়জুল ইসলাম ফয়সাল, মুরাদনগর থেকে:
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ যানজটের নগরী হিসেবে তকমা পেয়েছে। কয়েক ঘণ্টা লেগে যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে। দায় নিতে চান না কেউ! একে অপরকে দুষছেন। দায়িত্বশীলদের অবহেলা, ভঙ্গুর সড়ক আর যানবাহনের চাপ প্রধান কারণ। এ ছাড়া যানজটের জন্য বড় ধরনের একটি চক্র কাজ করছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, কৃত্তিম যানজট সৃষ্টি করে বিভিন্ন অজুহাতে একটি মহল ফয়দা লুটছে। বাগিয়ে নিচ্ছে অর্থ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই মহাসড়কটি সংস্কারের সময় মূল রাস্তা ছেড়ে কয়েক ফুট কমিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রশস্ততা কমে যাওয়ার দরুন যানজটের সৃষ্টি বলে জানায় গাড়ি চালক ও ভুক্তভোগীরা। শুধু কোম্পানীগঞ্জ থেকে পাশের উপজেলা দেবিদ্বার পাঁচ মিনিটের পথ যেতেই সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। বিষয়টি বিরক্তিকর বলে জানায় এক যাত্রী। আবু তোহা নামের আরেক যাত্রী জানালেন, কুমিল্লায় যাবো কোম্পানীগঞ্জ বসে আছি চল্লিশ মিনিটের মতো, হসপিটালে আমার খালা শাশুড়ি ভর্তি, আর কতোক্ষণ বসে থাকতে হবে তা জানি না। এ জ্যামের পরিস্থিতি কবে শেষ হয় তা জানি না। সাংবাদিকরা লিখলেও কাজ হয় না কেন, তাও বোঝে আসে না। এ সড়কে আর গাড়ি চালানো সম্ভব না বলে জানালেন তিশা সার্ভিসের এক গাড়ি চালক। কুমিল্লা থেকে কুটিগামী সুগন্ধা পরিবহনের এক হেলপার আক্ষেপের সুরে জানায়, আমাদের ট্রিপের ওপর বেতন হয়। দৈনিক চার সিঙ্গেল ট্রিপ আগে মারা গেলেও এখন দুই সিঙ্গেলও মারা সম্ভব হয় না। কোম্পানীগঞ্জের বাস স্ট্যান্ড ব্যবহারে অনুপযোগী হওয়ায় রাস্তায় পার্কিং করতে হচ্ছে গাড়ি ও অটো রিকশা। এগুলো আরো বেশ দায়ী বলে জানায়, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। যাত্রী ও গাড়ি চালকদের অভিযোগ, বাস স্ট্যান্ড এখন কাদার পাহাড় আর বর্ষায় হাঁটু সমান পানি থাকায়, তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এটি নতুন করে সংস্কার করলে আর সমস্যা থাকবে না। ঢাকাগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের ম্যানেজার মারুফ উদ্দিন বলেন, টার্মিনালের ভেতর গাড়ি না রেখে রাস্তার ওপর পার্কিং ও রোডের প্রশস্ততা কমে যাওয়া বড় কারণ। তিশা ছাড়া আর কোনো গাড়ী টার্মিনালে রাখে না। পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলোও সচল করতে হবে। দেবিদ্বার ট্রাফিক সাব-জোনের ইন্সপেক্টর সালেহ আহাম্মদ বলেন, কোম্পানীগঞ্জ আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। এই যানজট নিরসনে স্থানীয় দায়িত্ববানরা এগিয়ে আসতে হবে। টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। মিরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মৃদুল কান্তি কুরী বলেন, কোম্পনাীগঞ্জ এলাকাকে যানজট মুক্ত রাখতে প্রতিনিয়ত আমাদের টিম কাজ করছে। এর দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় নেতাদের সহযোগীতা প্রয়োজন। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। চলে আসলে যানজট আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এই যানজট মুক্ত করার ব্যাপারে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বহুবার কথা বলেছি। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে কোম্পানীগঞ্জকে যানজট মুক্ত রাখা যাবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *