দুর্গাপুরে নারী নির্যাতন : চার আসামি কারাগারে

সারাবাংলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের পূর্ব বিলাসপুর গ্রামের গৃহবধূ মুর্শেদা খাতুনের (২৫) ওপর নির্যাতন ও বিষপান করিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার স্বামী হুমায়ুনসহ চারজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিরা হচ্ছে- গৃহবধূর শশুর ছিদ্দিক মিয়া, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম, আত্মীয় সাইফুল ইসলাম।

আসামিরা সোমবার বিকেলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক স্বর্ণ কমল সেনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থণা করেন।

বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযোগে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার পূর্ব বিলাসপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে হুমায়ুনের সাথে একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মুর্শিদা খাতুনের সাথে প্রায় সাত বছর আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় বরকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বিয়ের কিছুদিন পর বাবার বাড়ি থেকে আরও যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য মুর্শিদা খাতুনের ওপর চাপ দিতে থাকে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন। এক বছর আগে সন্তানসহ মুর্শিদা খাতুনকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন আরও এক লাখ টাকা দাবী করে। গত ২০ অক্টোবর মুর্শিদাকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য খবর পাঠানো হয়। খবর পেয়ে মুর্শিদা স্বামীর বাড়ি যান।

এ সময় টাকা দেয়ার জন্য ফের চাপ সৃষ্টি করে। টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করায় ওইদিন সকালে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন মুর্শিদার ওপর নির্যাতন শুরু করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয় এবং মাতার চুল ছিড়ে ফেলে নির্যাতনকারীরা। মুর্শিদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মূখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায় স্বামী হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন। মুর্শিদাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বাবা মোহাম্মদ আলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের গিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

মুর্শিদা খাতুনের বাবা মোহাম্মদ আলী এ ব্যাপারে ২২ অক্টোবর রাতে হুমায়ুন, তার বাবা ছিদ্দিক মিয়া, মা ফাতেমা বেগম, আত্মীয় সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত সোমবার মামলার চারজন আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্গাপুর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনিস আহমেদ জানান, আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থণা করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামি চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *