দুর্গাপুরে যৌতুক না পেয়ে গায়ে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা

সারাবাংলা

শফিকুল ইসলাম কুদ্দুস, নেত্রকোনা থেকে :
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পূর্ব বিলাশপুর গ্রামে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী মুর্শিদা খাতুনের(২৫) গায়ে সিগারেটের ছ্যাকা দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী হুমায়ুনের (২৮) বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা মোহাম্মদ আলী শনিবার দুর্গাপুর থানায় হুমায়ুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, জেলার দুর্গাপুরের পূর্ব বিলাসপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে হুমায়ুনের সাথে একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মুর্শিদা খাতুনের সাথে প্রায় সাত বছর আগে বিয়ে হয়। এরই মধ্যে তাদের দাম্পত্ত জীবনে এক ছেলে সন্তান হয়। তার বয়স তিন বছর। বিয়ের সময় বরকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বিয়ের কিছুদিন পর বাবার বাড়ি থেকে আরও যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য মুর্শিদা খাতুনের ওপর চাপ দিতে থাকে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন। এক বছর আগে সন্তানসহ মুর্শিদা খাতুনকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে কাজ করার জন্য মুর্শিদা খাতুন ঢাকায় চলে যান। ঢাকা থেকে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরলে তার কাছে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন এক লাখ টাকা দাবী করে। গত ২০ অক্টোবর মুর্শিদাকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য খবর পাঠানো হয়। খবর পেয়ে মুর্শিদা স্বামীর বাড়ি যান। এ সময় টাকা দেয়ার জন্য ফের চাপ সৃষ্টি করে। টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করায় ওইদিন সকালে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন মুর্শিদার ওপর নির্যাতন শুরু করে। পায়ের তালু, হাতের কুনুইয়ের নীচেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয় এবং মাতার চুল ছিড়ে ফেলে নির্যাতনকারীরা। মুর্শিদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মূখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায় স্বামী হুমায়ুন। মুর্শিদা ছটপট করতে থাকলে বাড়ির লোকজন তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে ফেলে রেখে পালিয়য়ে যায়। খবর পেয়ে বাবা মোহাম্মদ আলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের গিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্মব্যরত চিকিৎসক দুইদিন পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ওই হাসপাতালে কিছুটা সুস্থ্য হলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ফের অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার মুর্শিদা খাতুনকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুর্শিদা খাতুনের বাবা মোহাম্মদ আলী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শুক্রবার রাতে হুমায়ুন, তার বাবা ছিদ্দিক মিয়া, মা ফাতেমা বেগম, আত্মীয় সাইফুলের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। দুর্গাপুর থানার ওসি শাহ্নূর এ আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *