সিলেটে পুলিশি নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু!

সারাবাংলা

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের পুলিশের নির্যাতনে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার ভোরে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামের ওই যুবক মারা যান। তিনি নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা।পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান।

তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। ভোরে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়েছিলো বলেও অভিযোগ পরিবারের।

এদিকে, রায়হান হত্যার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে নগরীর আখালিয়া এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এলাকাবাসীরও অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে খুন হয়েছেন রায়হান। মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

রায়হান উদ্দিনের বাবা নেই। বাবার মৃত্যুর তার মাকে বিয়ে করেন চাচা হাবিবুল্লাহ। তবে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রায়হান থাকেন আলাদা বাসায়। দুই মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে তার।

রায়হানের পরিবারের সদস্যরা জানান, নগরের মিরের ময়দান এলাকায় শাহজালাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এক চিকিৎসকের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন রায়হান। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১০টার দিকে তিনি অফিস শেষে বাসায় ফেরেন। খাওয়া দাওয়ার পর ১১টার দিকে বাসার সামনের রাস্তায় হাটাহাটি করতে বের হন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি ।

রায়হান উদ্দিনের চাচা হাবিবুল্লাহ বলেন, রোববার ভোর ৪টার দিকে একটি অপরিচিত নাম্বার (০১৭৮৩৫৬১১১১) থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়। ফোন ধরার পর কথা বলে রায়হান। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমারে বাঁচাওরেবা। আমারে বাঁচাও।’ এরপর আমি তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছে। এসময় ফাঁড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বলে রায়হান। হাবিবুল্লাহ বলেন, ফোন পেয়ে সাথেসাথেই আমি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। তখন সেখানে অবস্থানরত একজন বলেন, সে (রায়হান) ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন দেখা করা যাবে না।

এরপর পাশ্ববর্তী কুদরতউল্লাহ মসজিদে নামাজ আদায় করে সকালে আবার পুলিশ ফাঁড়িতে যান উল্লেখ করে হাবিবুল্লাহ বলেন, ফাঁড়িতে যাওয়ার পর একজন লোক আমাকে বলেন, ‘আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথাছিলো। টাকা এনেছেন?’ কিছু টাকা এনেছি জানানোর পর তারা আমাকে বসিয়ে রাখেন। এরপর ১০টার দিকে বলেন, ‘আপনার ছেলের শরীর খারাপ করেছিলো। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওসমানী হাসপাতাল গিয়ে তাকে দেখতে পারবেন।’ হাবিবুল্লাহ বলেন, এরপর আমি ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পারি হিমঘরে রায়হানের লাশ পড়ে আছে। পুলিশই নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ তার। ওসমানী হাসপাতালের নিবন্ধন শাখা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রায়হানের মরদেহ ওসমানী হাসপাতালে আনা হয়।

এ ব্যাপারে ভোরে হাবিবুল্লাহকে কল দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

বন্দর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে, কাষ্টঘরের কোন জায়গা থেকে রায়হানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কারা উদ্ধার অভিযানে ছিলেন তিনি এ বিষয়ে উর্ব্ধতন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তময় সরকার বলেন, বিষয়টি উপ কমিশনার (উত্তর)-এর নেতৃত্বে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

কাষ্টঘর এলাকার এক আইজীবী বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাই কাষ্টঘর পূজামন্ডপের পাশে আমার বাসার সামনে অনেক পুলিশ। তখন পুলিশ জানায়, এই এলাকায় গণপিটুনিতে একজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কেউই গণপিটুনির বিষয়টি টের পাইনি। কাষ্টঘর এলাকা নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত।

এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, আমি এলাকার অনেকের সাথে কথা বলেছি। কেউই গণপিটুনির বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। ভোরের দিকে এমন কিছু তারা শুনেননি বলেও জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *