দুর্বিষহ জীবন রিপন ঋষির

সারাবাংলা

মনির হোসেন, নবীনগর থেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর পৌরসভায় দোলা বাড়ি নিশি পাড়ায় দুটি পা বিহীন ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে রিপন ঋষি। নবীনগর পৌরসভার দোলাবাড়ি ঋষিপাড়ার প্রয়াত চন্দ্র মহন ঋষি ছেলে রিপন। ২০০৪ ছোট বেলায় ভৈরব রেলস্টেশনে ট্রেনের নীচে পড়ে দুটি পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন এই রিপন। এরই মধ্যে বাবা হারা হয়ে তিন বোন সহ মায়ের দায়িত্ব পড়ে তার উপরে। এ যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া।
নিজের যখন কোল নেই সেখানে পরিবারের সদস্যদের কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সে। জোতা সেলাই আর পালিশ করার কাজ জানতো রিপন। স্থানীয় ভাষায় কাঠের পিড়ির উপর ভর করে অন্যের সহযোগিতায় এই কাজটি তিনি বিভিন্ন অফিস আদালতে করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি তিন বোনের বিয়ে দিয়েছেন। নিজেও বিয়ে করলেন। এখনো তার নিজের কোন মাথা গোঁজার চালজোড়া নেই। বড় ভাইয়ের ছোট দুইচালা ঘরে মা বউ,ভাই ভাবী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে খুবই দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তিনি। তার মা ও স্ত্রী দুজনেই রিপন ঋষির সামান্য আয় রোজগারে সন্তুষ্ট। যদিও সে সরকারের দেয়া প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের কারো রিপন এর প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তারা সরকারের প্রতিনিধি মেয়র,এমপি সর্বাপরি প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটা ঘর চায় রিপনের জন্য। ২৮ বছর বয়সী রিপন ঋষি নিজের পেশার আয় ও মানুষের সহযোগিতা নিয়ে কোন ভাবেই অসন্তুষ্ট নন। জীবদ্দশায় একটা মাথা গোঁজার চালজোড়া দেখে যেতে চান। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। সমাজে বিদ্যমানদের কাছে আকুল আবেদন আপনারা অসহায় পরিবাটির মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আসুন সবাই মিলে আমাদের সাধ্য মতে সাহায্য হাত বাড়িয়ে দেই। যাতে করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে তার পরিবার।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *