দেশব্যাপী করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

সারাবাংলা

ডেস্ক রিপোর্ট : সারা দেশে একযোগে করোনার প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার ৯৫৫টি হাসপাতালে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের সব টিকা কেন্দ্রে নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, রাজনীতিবিদসহ জনপ্রতিনিধিরা টিকা নেবেন। তারা এই টিকা কার্যক্রমকে চালিয়ে নেওয়ার জন্য অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন এবং বিশেষ করে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের টিকা নেওয়ার সুযোগ করে দেবেন। গতকাল রোববার সারা দেশে ঢাকা প্রতিদিন- এর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ তুলে ধরা হলো-

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দেশব্যাপী করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের ভিডিও কনফারেন্সের পর ৯টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরই করোনার টিকা দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নার্সিং কলেজ কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক এস.এম. ফেরদৌস, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম ও সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আকন্দ প্রথম করোনার টিকা গ্রহণ করেন। দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রথম দিনের মত টিকাদান করা হয়। সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৪৮ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজে ১টি, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১টি, পুলিশ হাসপাতালে ১টি এবং ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১টি করে করোনার টিকা প্রদান কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের টিকা প্রয়োগে ৩৭টি দল কাজ করবে। কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে ৮টি, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮টি, পুলিশ হাসপাতালে ১টি এবং উপজেলাগুলোতে ৩টি করে মেডিকেল দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২টি দল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রির্জাভ থাকবে। প্রতিটি দলে ২ জন করে টিকাদান কর্মী ও ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। জেলায় করোনার টিকা গ্রহণের জন্য এ পর্যন্ত ১৯শ জন রেজিষ্ট্রেশন করেছে। রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান আছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদের টিকা দেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আকন্দ বলেন, সকালে ডিসি, এসপি ও আমি নিজে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেলায় এ পর্যন্ত ১৯শ জন টিকা গ্রহণের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। প্রতিদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলবে।

জেলা প্রশাসক এস.এম. ফেরদৌস বলেন, যে সব বিজ্ঞানীরা এ ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। করোনা প্রতিরোধে সবাইকে এ ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, ডা. মো. জাকির হোসেন, পৌর মেয়র, কাজী লিয়াকত আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক, সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নিহাদ আদনান তাইয়ান প্রমুখ।

রোববার জেলার পাঁচ উপজেলা থেকে ৪৮০ জনকে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জেলার চিকিৎসক, সেবিকা, স্বাস্থ্য কর্মীদের এবং পরে পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের এই টিকা দেওয়া হবে। টিকাদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলার প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দুইজন টিকা দেওয়র কর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে। নিবন্ধন করেছেন যারা পর্যায়ক্রমে সবাই এই টিকা পাবে। এর আগে গতকাল রোববার সারা দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, সারা দেশব্যাপী করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন গ্রহন করলেন নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের করোনার সম্মুখ যোদ্ধা সিনিয়র স্টাফ স্বাস্থ্য সেবিকা জেসমিন নাহার সেতু। রোববার সকালে করোনা টিকা দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির প্রমুখ। জেলায় প্রথম করোনা টিকা তালিকায় নাম লিখিয়ে সবাইকে নির্ভয়ে করোনা টিকা নেওয়ার সাহস যোগালেন সেতু। টিকা নেওয়ার পর তিনি তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং আমার নিজস্ব ইচ্ছায় এই করোনা টিকা গ্রহন করেছি। প্রথম টিকা নিতে পেরে আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই কোনো ভয় না করে আসুন আমরা সবাই টিকা গ্রহন করি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুর পাশাপাশি টিকা নেন সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির, নীলফামারী সদর থানার পুলিশ (তদন্ত) মাহমুদ-উন নবীসহ প্রথম দিনের রেজিস্ট্রেশন তালিকায় থাকা চিকিৎসক, নার্স সহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ। সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, সবাইকে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে। রেজিষ্ট্রেশনের বাইরে কোনো ভাবেই এ টিকা নেওযার সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমি নিজেও রেজিষ্ট্রেশন করে এ টিকা গ্রহন করেছি। সবাইকে নির্ভয়ে রেজিষ্ট্রেশন করে নির্ধারিত করোনা টিকা দান কেন্দ্রে এসে টিকা নেওয়ার আহ্বান করছি।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে প্রথম করোনা টিকা নিলেন জেলার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রোববার সকালে বাগেরহাট সদর হাতপাতালে প্রথম করোনা টিকা নেয় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক। প্রথম টিকাটি সিনিয়র স্টাফ নার্স শামীম আরা খানম জেলা প্রশাসককে পুশ করেন। এরপরই পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়কে টিকা দেন সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খানম। ডিসি ও এসপির পরে টিকা নেন সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির। এরপর একে একে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যুগ্ন পরিচালক শরীফ উদ্দিন আহমেদ, মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ-ই-আলম বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোছাব্বেরুল ইসলাম, বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীব কুমার বকসি, জনপ্রতিনিধি আফরোজা খানম গনমাধ্যমকর্মী বিষ্ণ প্রসাদ চক্রবর্তী, আলী আকবর টুটুলসহ অনেকেই টিকা গ্রহন করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে টিকা কার্যক্রম চলবে। প্রথম দিনে ১৫০ জনকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানান সিভিল সার্জন। এর আগে ফিতা কেটে এই টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আনম ফয়জুল হক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়, সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব প্রসাদ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দোকার মোহাম্মাদ রিজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাহিনুজ্জামান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান, বাগেরহাট বিএমএ-র সাধারণ সম্পাদক ডা. মোশাররফ হোসেন।

টিকা গ্রহন শেষে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আনম ফয়জুল হক বলেন, আপনারা জানেন সারা দেশে এক সাথে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আমরা বাগেরহাট জেলায়ও টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছি। টিকা গ্রহন শেষে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছি। কোনো প্রকার শারীরিক সমস্যা হয়নি। আমি বাগেরহাটবাসীকে অনুরোধ করবো রেজিষ্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন গ্রহন করুন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। আমি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়সহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টিকা গ্রহন করেছি। সবার উচিত নির্দিষ্ট নিয়মে নিবন্ধন করে টিকা গ্রহন করা। প্রতিদিন ৮টি উপজেলায় ২শ করে, পুলিশ হাসপাতালে ১শ, বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৬শ করে টিকা দেওয়া হবে। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। বাগেরহাট জেলায় প্রথম ধাপে ৪৮ হাজার ডোজ টিকা এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে উদ্বোধন হলো করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি। রোববার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধুনিক সদর হাসপাতাল এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক এরপর টিকা নেন সিভিল সার্জন ডাক্তার জাহিদ নজরুল চৌধুরী, আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ শহিদুল ইসলাম খান, প্রথম আলোর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন দিলু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, ডা. গোলাম রাব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. দুররুল হুদা, পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম। এরপর সরকারি বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাদের টিকা দেওয়া হয়। উদ্বোধনী দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ১১৬ জনকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন- হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার মমিনুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম তাজকির উজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেবেন্দ্রনাথ উরাও।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে কভিট-১৯ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে রোববার দুপুরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জোহর আলী প্রথমে টিকা নেন। এরপর অন্যদের টিকা দেয়া হয়। জেলার জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ১২ হাজার ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্য থেকে প্রথম ধাপে ৬ হাজার এবং এর এক মাস পর বাকি ৬ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। গতকাল পর্যন্ত ৭৪৫ জনে রেজিস্ট্রশন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোট ৮টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান প্রমুখ।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালী সদর-সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী নিজে টিকা দিয়ে জেলায় টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। রোববার সকাল ১০টায় ২৫০শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত বুথে তিনি টিকা দেন। এরপর জেলা প্রশাসক মো. খুরশিদ আলম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম শামছুদ্দিন জেহান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মানিক সহ সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের টিকা দেওয়া হয়। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেন, আমি নিজে টিকা দিয়েছি। কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে টিকা দিয়ে নিরাপদ থাকার আহ্বান জানান। ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ২২০ জনকে এবং পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ৫০জনকে টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়ার জন্য জেলায় ১০টি কেন্দ্রে ৩৩টি বুথ খোলা হয়েছে। প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে দুইজন করে স্বাস্থকর্মী ও চারজন করে স্বেচ্চাসেবক নিয়োজিত করা হয়েছে। টিকা দেওয়ার জন্য এ পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে প্রায় তিন হাজার।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের টিকা নিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হুদা মুকুট, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, বিএম এর সভাপতি ডা. আব্দুল হেমিক ও মুক্তিযোদ্ধাসহ সমাজের বিশিষ্টজনরা। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করে জনপ্রতিনিধিরা এ কার্যক্রমের সূচনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা, হাসপাতালের আর এম ও ডা. রফিকুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক ডা. মোজাম্মেল হক, সহকারী পরিচালক ডা. ইনী ভূষন তালুকদার, সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈকত দাস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এড. মো. আবুল হোসেন প্রমুখ।

সকাল থেকে জেলা সদর হাসপাতালসহ ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার সব প্রকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে তা চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতলের নতুন ভবরের নিচতলার বাম পাশের একটি কক্ষে শয্যা, চেয়ার টেবিলসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপন করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সদর হাসপাতালের ৮টি বুথে ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তিনটি করে করোনা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৩টি বুথ ও সদর হাসপাতালের ১০টি বুথে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া চলছে। প্রতিটি বুথে একজন টিকাদান কর্মী দায়িত্বে একজন চিকিৎসক একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক টিকা প্রদানকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে ২ জন টিকাদান কর্মী এবং চারজন করে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে। জরুরী কোন সমস্যা দেখা দিলে কুইক রেসপন্স দল সব রকমের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি বুথে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটার, পাল্স মিটার, ইনজেকশন কার্সন, বিপি সহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল উপকরণ রাখা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ টিকা প্রদানের জন্য ডাক্তার, নার্স, আয়া, ব্রাদারসহ ফ্রন্ট লাইনাদের টিকা প্রদানের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া টিকা গ্রহণকারীদের সহযোগিতার জন্য এএফআই ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়। সুরক্ষা অ্যাপস দিয়ে টিকা প্রদানকারীদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের আইটি তৈরি করা হয়েছে। তারা সুরক্ষা অ্যাপসে রেজিস্ট্রেশনকারীদের সেবা প্রদান করবেন।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, বিশ্বের মহামারি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি সাড়া দেশের ন্যায় মৌলভীবাজারেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। রোববার সকালে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে প্রথম করোনা টিকার আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করে টিকা গ্রহণ করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ এমপি। এরপর টিকা গ্রহণ করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিভিল সার্জন ডাক্তার চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ সালাম, সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহবুব, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মাসুদ সহ ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ নাগরিকসহ ৮১৬ জন। টিকাদান কর্মসূচি চলবে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত।

টিকা গ্রহণের জন্য গতকাল পর্যন্ত রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন ৫ হাজার ৭৫৪ জন। এর মধ্যে আজ টিকা গ্রহণ করেন ৮১৬ জন। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ২৯৭ জন, রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০জন, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯জন, বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০ জন, জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন এবং কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০জন।

টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দীন মোর্শেদ, তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পার্থ সারথি দত্ত কানুনগো, উপপরিচালক ডা: বিনেন্দু ভৌমিক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার আহমেদ ফয়সাল জামানসহ অন্যান্যরা। করোনা টিকা প্রদানের জন্য সদর হাসপাতালে ৮টি বুথ ও প্রতিটি উপজেলায় থাকবে ৩টি করে বুথ খোলা হয়েছে ।

যশোর প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রোববার থেকে শুরু হয়েছে বহু প্রত্যাশিত টিকাদান কর্মসূচি। সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যমস্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে এ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর যশোরের ১১ কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদসহ কয়েকজন আগে টিকা নিয়েছেন। ভ্যাকসিন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, যশোরে ৯ হাজার ৬শ ভায়ালে ৮৬ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অনলাইন সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে কোভিড-১৯ নিতে হবে। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। গত শনিবার দুপুর পর্যন্ত যশোরে ৩ হাজার ৮৬৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন করোনা ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য।

যশোর সদরে ২ হাজার ৮৬ জন , যশোর সিএমএইচ-এ ৯৪৭ জন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেন। শার্শা উপজেলায় ৫৫৬ জন, অভয়নগরে ১৯৭ জন, বাঘারপাড়ায় ১৫৫ জন, চৌগাছায় ১৭৮ জন, ঝিকরগাছায় ১৪৯ জন, কেশবপুর ২০৩ জন, মনিরামপুরে ৩৯৬ জন ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোরে যারা আবেদন করেছেন তাদের ভেতর প্রথম দিনে ২ হাজার ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। ৬ সদস্য বিশিস্ট এক একটি টিম ১শ থেকে ১৫০ জন ব্যক্তিকে প্রতিদিন ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে মোতাবেক যশোরে ৩৬টি টিম গঠন করা হয়েছে। এর ভেতর ৩৪টি টিম ভ্যাকসিন প্রদানে কাজ করছে। ২টি টিম অতিরিক্ত থাকবে প্রয়োজনে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৮টি দল, সিএমএইচ এ ৪টি টিম শহরে ৪টি দল পুলিশ লাইনে ১টি দল, ৭ উপজেলায় ৩টি করে ২১টি দল টিকা প্রদান করছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রতিদিন এ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, রোববার সকালে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজেই করোনা টিকা গ্রহণ করে দিনাজপুর জেলায় বহুল প্রতিক্ষিত করোনা টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। এসময় উপস্থিত ছিলেন- দিনাজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মো. নাদের হোসেন, এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ মোজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, করেনা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান পরিচালনা করা হবে। টিকাদানের জন্য এরই মধ্যে চিকিৎসক, টিকাদানকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া টিকাদানের জন্য দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ৮টি, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪টি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর প্রতিটিতে দু’টি করে সর্বমোট ৩৮টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে দু’জন করে টিকাদান কর্মী ও ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।

সিভিল সার্জন জানান, টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রোববার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষ টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। প্রতি মিনিটেই নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি নিবন্ধিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব করোনা টিকা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারী দিনাজপুর জেলায় প্রথম ধাপে ৯৬ হাজার অর্থাৎ ৯ হাজার ৬০০ ভায়েল করোনা টিকার ডোজ এসে পৌঁছে। প্রাপ্ত ৯৬ হাজার করোনা টিকার ডোজ দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই সেন্টারের কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে এসব করোনা টিকার ডোজ সংশ্লিষ্টদের প্রদান করা হবে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের টিকা নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সাতক্ষীরায় কভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণের কার্যক্রম। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রোববার দুপুর ১২টায় এর উদ্বোধন করেন সদর আসনের সাংসদ মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি। এরপর একে একে টিকা গ্রহণ করেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন সাফায়েত, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাঞ্জিলুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এমএম মাহামুদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জুবায়ের হোসেন, বিজিবি’র মাদ্রা কোম্পানী কমান্ডার (মেজর সিটি) নায়েক মীর আবু সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন সাফায়েত জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার থেকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়ার কাজ শুরু কয়েছে। একটানা ১২ দিন এ কার্যক্রম চলবে। প্রথম দিনে জেলায় ৮৪৬ জনকে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন তারা জেলায় এক হাজার ২০০ লোককে টিকা দিতে পারবেন। প্রতি হাসপাতালে ১৬ জন সেবিকা ও ৩২ জন স্বেচ্ছাসেবক টিকা দেয়ার কাজ করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্ফা কামাল টিকা গ্রহণের পর বলেন, বিশ্বের অনেক ধনী দেশ থাকতেও বাংলাদেশের মত একটি দেশে এত তাড়াতাড়ি টিকা পাওয়া এবং তিনি তা গ্রহণে করতে পারায় নিজেকে গর্বিত বোধ করছেন। তিনি আরো জানান, এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তিনি এ সময় কোন গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের ন্যায় নেত্রকোনায় কভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে রোববার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রথম টিকা গ্রহন করেন নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী খান খসরু। পরবর্তীতে টিকা গ্রহন করেন নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল, জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি ও সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিয়া।

নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিয়া জানান, জেলায় ৭২ হাজার টিকার ভ্যাকসিন এসেছে। প্রত্যেককে ২ ডোজ করে ৩৬ হাজার ব্যক্তিকে এই টিকা প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ে টিকা নেয়া ব্যাক্তিদেরকে চার সপ্তাহ পর ভ্যাকসিনের আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। টিকাদান উদ্বোধনের প্রথম দিনে সারা জেলায় এক হাজার ৭ জন ব্যক্তিকে ভ্যাকসিনের টিকা প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৩হাজার ৪ শত ৪১ জন ব্যক্তি নিবন্ধিত হয়েছে।

এর আগে সকাল সোয়া দশটার দিকে নেত্রকোনা ইপিআই ভবনে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী খান খসরু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল, নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি মানু মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী, সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিয়া প্রমুখ।

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন নারী ও দুইজন পুরুষকে টিকাদানের মাধ্যমে কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজ রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত টিকাদান কেন্দ্রে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। যে তিনজন টিকা গ্রহণ করেন তারা প্রত্যেকেই ওই হাসপাতালে কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রথম একজন নারী। ফিরোজা খাতুন (৩২) নামে ওই নারী একই হাসপাতালের একজন প্রসূতিকর্মী। দ্বিতীয় টিকা গ্রহণ করেন স্বাস্থ্য সহকারী অঅমীরুজ্জামান (৪৭) ও চিকিৎসক নাজমুল আহসান (৩২)। তাদের টীকা প্রদান করেন নার্স সুপারভাইজার ফরিদা খাতুন ও সিনিয়র স্টাফ নার্স বিলকিস বেগম। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষন বলেন, তার উপজেলায় ৯ হাজার ডোজ টীকা সরবরাহ করা হয়েছে। সরবরাহকৃত ডোজ দিয়ে সাড়ে ৪ হাজার ব্যাক্তিকে টীকা দেওয়া সম্ভব। অনলাইনে ২০ জন তাদের হাসপাতালের অধীনে নিবন্ধন করেছেন। প্রত্যেককে শনিবার টিকা গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় কভিড-১৯ টীকা প্রদানের আনুষ্ঠঅনকি উদ্বোধন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান, ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমা মোস্তারী, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার ইমাম হোসেন, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আকন্দ, শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আকন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নেতারা। বিকেল তিনটা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত সকল কমিউনিটির লোকদের টিকা দেওয়া হয়।

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আয়োজনে রোববার বেলা ১১টায় নভেল করোনা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ ওমর ফয়সলের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে টিকা দান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূরবী গোলদার, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সজল চন্দ্র শীল। টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম টিকা গ্রহন করেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসাইনদের করোনা টিকা প্রদান করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাথে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলায় অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত ২০৯ জনের মধ্যে রোববার ২০ জনকে করোনা টিকা প্রদান করা হয়। এছাড়া পর্যায়ক্রমে উপজেলার ২ হাজার ৯শত জনকে প্রথম ও দ্বিতীয় ড্রোজ করোনা টিকা প্রদান করা হবে।

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের চিতলমারীতে করোনা ভাইরাস ডিজিজ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় প্রথমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভ্যাকসিনের প্রথশ ডোজ নেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মামুন হাসান, থানার ওসি মীর শরীফুল হক, চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বিভাষ দাস, স্বাস্থ্য কর্মী, শিক্ষক, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মী টিকা নেয়।

চিতলমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গোবিন্দ মজুমদার বলেন, আমি করোনা টিকা নেয়ার পরে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক আছি। কোন অসুবিধা বোধ করছি না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মামুন হাসান জানান, আমরা সুন্দর পরিবেশে টিকা প্রদান অনুষ্ঠান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন স্তরের জনগণ স্বতঃষ্ফূর্তভাবে রেজিষ্ট্রেশন করে টিকা গ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মীরা যথাযথভাবে টিকা প্রদান করছেন। টিকা গ্রহণের হার আশানুরূপ হওয়ায় আমরা খুশি। এ পর্যন্ত যারা টিকা গ্রহণ করেছেন তারা সবাই সুস্থ আছেন। কোন পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, যশোর জেলার মণিরামপুরেও করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নুরজাহান নামের এক ব্যাংকার ও তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমানের প্রথম টিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ উপজেলার টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, মণিরামপুরের জন্য প্রথম ডোজে ৭শ ভ্যাকসিন পৌছুয়েছে। এছাড়াও গতকাল পর্যন্ত টিকা গ্রহণ করতে ৪১৩ জন নিবন্ধনভুক্ত হয়েছেন। তবে টিকা নিতে সাধারণ জনগণ খুবই আগ্রহী।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রথম রাউন্ডে কভিট-১৯ টিকা গ্রহনে রেজিষ্ট্রেশন করলেন ২৭৬ জন। রোববার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্যোগে এ টিকাদান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে সকাল ১০টায় কমপ্লেক্স চত্ত্বরে দুটি বুথে প্রথম দিনে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় চিকিসক, নার্স, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যাংক কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, বেসরকারি কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য সেবাকর্মী ২৭৬ রেজিষ্ট্রেশন করেন। টিকা গ্রহন করেন- থানার এসআই আব্দুল কাদের, জাহাঙ্গীর হোসেন, কাজল রঞ্জন ঘোষ, মতিউর রহমান বলেন, এ টিকা গ্রহন করে তারা কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মনে করছে না। স্বাভাবিকভাবে কর্মচাঞ্চল্য তাদের মধ্যে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই উপজেলায় এ কার্যক্রম দুটি বুথে শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৬ জন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ টিকা গ্রহন করেছেন। বাকিরা পর্যায়ক্রমে গ্রহন করবে। ২৮দিন পরে দ্বিতীয় রাউন্ডে টিকা তারা পাবেন। স্বতঃষ্ফূর্তভাবে সকলে টিকা গ্রহন করছে।

এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কভিট-১৯ টিকা গ্রহনে সচেতনতায় রেজিষ্ট্রেশন গ্রহন করেছেন। প্রথমে কোভিটের সাথে সংশ্লিষ্টরা এ টিকা পাচ্ছেন পর্যায়ক্রমে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আসবে সকলে।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা দান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলনায়তনে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস ১ম টিকা গ্রহণ করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকাশ কুমার কুন্ডু, উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সিফাত, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আঃ হক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা শাহ আলম দুলাল, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ উদ্দিন পলাশ, ডাঃ কাজী সিরাজুল ইসলাম, ডা. সৌমিত্র সিনহা রায়, ডা. তারিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান মিজু প্রমুখ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী হাসান জানান, উদ্বোধনীতে রাজনৈতিক নেতারা, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, সাংবাদিক ও হাসপাতালে স্টাফসহ ৫০ জন টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তিনি আরও জানান, মঠবাড়িয়ায় প্রথম ধাপে ৮ হাজার ৫শ ডোজ করোনা টিকা এসেছে।

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প.কর্মকর্তা ডা: দিলরুবা ইয়াসমিন লিজাকে করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে মির্জাগঞ্জে টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রমের উদ্ভোধন করা হয়।

রোববার সকাল ১০টায় কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মো: আবুবকর সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি গাজি আতাহার উদ্দিন আহমেদ, সাধারন সম্পাদক মো:জসিম উদ্দিন জুয়েল বেপারি, মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম,সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ: আজিজ হাওলাদার প্রমুখ।এ সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী সাইফুল ওয়ালীদ সহ ৩০ জন টিকা গ্রহন করেন ।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ তোহিদুল হাসান তুহিনের টিকাদানের মধ্যে দিয়ে দৌলতপুরে কর্মসুচী শুরু হয়। রোববার বেলা ১১টার সময় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ। উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তোহিদুল হাসান তুহিন জানান, দুইশোর বেশী লোকজন টিকার জন্য অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করেছে। দৌলতপুরে আমি সর্ব প্রথম টিকা নিয়েছি, এ পর্যন্ত ২০ জন টিকা গ্রহন করেছে।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম রোববার বেলা ১১টায় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুরু হয়। প্রথমেই টিকা নিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান, উপজেলা পরিষদেও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার রুবি, উপজেলা শিক্ষ অফিসার মনিকা পারভীন, ডাঃ আয়েশা বেগ, এসএসইএমও ডাঃ মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ। এ টিকাদানের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় ৯০৫০ জনকে ১ম ডোজ হিসেবে করোনার টিকাদান শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে। ২য় ডোজ ২৮ দিন পরে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, টিকা দেয়ার জন্য ৩টি বুথে ২ জন করে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি জানান, রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আনুষ্ঠানিক ভাবে কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক এ কার্যক্রম উদ্বোধন করে তিনি নিজে টিকা গ্রহণ করেন। এর পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ তরিকুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার রায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল জব্বার, ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ হাবিবুল ইসলাম, হাসপাতাল স্টাফ মোঃ মোস্তফা আলম সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ টিকা গ্রহণ করেছেন। ঐদিনে নিবন্ধন কৃত ৮৩ জন ব্যক্তিকে টিকা দেওয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়। অফিস সহকারী মাইজুল ইসলাম জানায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি টিকা ভ্যাকসিন ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহাফুজার রহমান সরকার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ হাজার মানুষের মাঝে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। এতে ২৬ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও ৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রাথমিক পর্যায়ের ১৯ ধরনের নাগরিক এ টিকা বিনামূল্যে দিতে পারবেন।

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, গুজবে কান দিবেন না, সুরক্ষা অ্যাপস-এর মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করুন, টীকা নিন নিরাপদে থাকুন। রোববার সারাদেশে ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা প্রদানের উদ্বোধন এরই ধারাবাহিকতাই ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ তবিবুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে ভ্যাকসিন গ্রহন করেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ তবিবুল ইসলাম, ইউএনও জয়শ্রী রাণী রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সারোয়ার আলম, অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাজহারুল ইসলাম লিটন, ইউএনও ড্রাইভার মোঃ রেজাউল ইসলাম, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়ীচালক মোঃ নিবির হোসেন প্রমুখ।

শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান, রোববার ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রঈসউজ্জামান, শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুসাফির নজরুল, দ্বারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কাননসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রঈসউজ্জামান প্রথম টিকা গ্রহণ করেন । তারপর একে একে ইপিআই টেকনিশিয়ান তুষার কান্তি ঢালি ও আমলসার ইউনিয়নের সিএইচসিপি লিখনুজ্জামানকে টিকা প্রদান করা হয়। টিকা প্রদান করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স টুম্পা রায় ও আফিফা খাতুন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রঈসউজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন করেছে। এ টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ৪৪ জনকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। টিকা প্রদানের জন্য তিনটি টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল নাগরিককে টিকা প্রদান করা হবে। সকলকে স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে নিবন্ধন করার জন্য তিনি আহবান জানান। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে স্থানীয় দ্বারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন নিবন্ধন বুথ চালু করেছেন। জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিবন্ধন করছেন।

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, দেশব্যাপী করোনা টিকা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুর্গাপুরেও শুরু হয়েছে টিকাদান কর্মসূচি। রাববার সকালে সর্বস্তরের অংশগ্রহনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ কর্মসুচীর উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে প্রথম টিকা গ্রহন করেন- স্বাস্থ্য সহকারী মো.শাহীনুল ইসলাম ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফতেহ আকরাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুনুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলা উদ্দিন আল আজাদ ও দুর্গাপুর থানার ওসি শাহ্ নূর এ আলম।

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, করোনার টিকা নিয়ে কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান। রোববার সকালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্ত্বরে কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।এসময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেসবুক ও ইউটিউবের গুজবে কান না দিয়ে আমাদের সকলকে কভিড-১৯ এর টিকা নিতে হবে। উদ্বোধনের পর প্রথম টিকা নেন মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম। এরপর নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এম আবু তাহের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. জামাল আব্দুর নাছের বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা মানিকুল ইসলাম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকছুদ চৌধুরী প্রমুখ। জানা যায়, উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে এবং গতকাল ৪৯ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ভালুকায় জনপ্রতিনিধিগণের শরীরে কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টারের ২য় তলায় টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু এমপি। উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা টিকা গ্রহন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ড. সেলিনা রশিদ, প.প,কর্মকর্তা ডাঃ সোহেলী শারমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *