দেড় বছর পর স্কুলে শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বরণ শিক্ষকদের উপস্থিতি

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
দেড় বছর পর সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্কুল-কলেজ। অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দেখা যায়, উপজেলার প্রায় সব স্কুল ৮০ ভাগ ও কলেজে ৫০ ভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। গতকাল রোববার সকালে সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা যায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘ দেড় বছর পর কমলগঞ্জের স্কুল-কলেজগুলো খোলা হয়েছে। স্কুলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের। ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। দীর্ঘ দিন পর চিরচেনা পরিবেশ ফিরে পাওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বইছে। স্কুলে-স্কুলে তৈরি হয়েছে মিলন মেলা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও নানা নির্দেশনা বাস্তবায়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশ পথসহ বিভিন্ন জায়গায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ঝুলতে দেখা যায় করোনা থেকে সুরক্ষায় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নানা ফেস্টুন। শ্রেণিকক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। স্কুলে একটি কক্ষকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইসোলেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দেখে সন্তুষ্ট মনে করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি বিঞ্জান বিভাগের পরীক্ষার্থী তাহেরা ও মারিয়া বিনতে মশি বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য অনেক দিন স্কুল বন্ধ ছিল। বহু প্রতীক্ষার পর আজ (গতকাল রোববার) আমাদের স্কুল খুলেছে। এজন্য অনেক ভালো লাগছে। নিয়মিত ক্লাস করতে পারবো ভেবেই খুশি লাগছে। কমলগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মিলি মকবুল আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রিয়াংখা বলেন, দেড় বছর পর স্কুলটা খুলেছে। কি যে ভাল লাগছে বুঝাতে পারবো না। স্যার ও বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হলো। খুবই ভালো লাগছে।
কমলগঞ্জ সরকারি গনমহা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী জান্নাতুল কারিমা বলেন, আমার মনে হচ্ছিল জেলখানা থেকে ছাড়া পেলাম। ঘরবন্দি জীবন খুব কষ্টের ছিল। আজ (গতকাল রোববার) আবারও কলেজের চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছি। কলেজ খোলার কারণে এখন থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আগের মতো খেলাধুলা করতে পারবো। কলেজ খোলায় খুব আনন্দ লাগছে। কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী ইমামা খাতুন বলেন, আমরা চাই নিয়মিত ক্লাস হোক। সরকার শর্ট সিলেবাস দিয়েছে সেগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা হোক। তারপর পরীক্ষা হোক। বহুদিন পর কলেজ খোলার কারণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মনে হচ্ছে, আমি একটি উৎসবে যুক্ত হয়েছি। অভিভাবক সাজু মিয়া জানান, ছেলে-মেয়েদের প্রথম দিনে স্কুলে যেতে যে আনন্দ, বাকি জীবন যেন এমন আনন্দ নিয়েই যায়। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ায় সন্তানদের পাশাপাশি আমরাও খুশি। স্কুল যখন খোলা ছিল তখন প্রতিদিন ছাত্র ও ছাত্রীদের নিয়ে স্কুলে আসতেন রিকশাচালক সেলিম রেজা। তবে স্কুল খোলার বিষয়ে তিনি জানান, স্কুল-কলেজ খোলা থাকলে আমাদের আয়-উপার্জন একটু ভালো হবে। আমরাও লকডাউনের মধ্যে খুব খারাপ সময় পার করেছি। আর করোনা আসার পর থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় যাত্রীর অভাব ছিল। আর যদি স্কুল বন্ধ না হয়, তাহলে এখন থেকে তা পুষিয়ে নিতে পারবো।
কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব ও মকবুল আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সলমান আহমদ বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল খুলছি। আগে থেকেই আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। আজ (গতকাল রোববার) শিক্ষার্থীদের পদচারণায় স্কুলের প্রাণ ফিরেছে। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্কুলে প্রবেশ করানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করানো হয়েছে। স্কুলে উৎসবের আমেজ বইছে। খুব ভালো লাগছে। কমলগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিলকিস বেগম বলেন, স্কুল খোলা উপলক্ষ্যে স্কুলের গেটের সামনে আমরা বিভিন্ন ধরনের রঙ-বেরঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুব আনন্দের বন্যা বইছে। সব নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কমলগঞ্জ সরকারি গনমহা কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিয়া ও আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হেলাল মিয়া বলেন, দেড় বছর পর ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ প্রাঙ্গণে দেখতে পেরেছি, খুব ভালো লাগছে বলে বুঝানো যাবে না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুব আনন্দের বন্যা বইছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তা ছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের ফুল ও কলম দিয়ে বরণ কিেছ। আমাদের কলেজে প্রায় ৫০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভিন বলেন, উপজেলার সব স্কুল-কলেজ দেড় বছর পর খোলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সময়মতো তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করেছে। আজ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এখনও পর্যন্ত কারো কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, উপজেলার প্রায় সব স্কুল ৮০ ভাগ ও কলেজে ৫০ ভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *