দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট : বিধিনিষেধ না মানছে না যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে

সারাবাংলা

রনি মন্ডল, গোয়ালন্দ থেকে:
কঠোর লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঢাকা মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঘাট পার হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই।
সড়কে কড়া নজরদারি। প্রশাসন যানবাহন থামিয়ে নামিয়ে দিচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু তারপরও দৌলতদিয়া নৌ-পথ দিয়ে মানুষের পারাপার থামানো যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২২ জুন থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে ফেরি চলাচল। তাই মহাসড়কে বাধা পাওয়া যাত্রীরা ঘাটে আসছেন বিকল্প পথে এবং ঘাট পাড়ি দিচ্ছে। সরজমিন দেখা যায়, গতকাল শুক্রবার ঘাট এলাকায় মাহিন্দ্রা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল করে ঘাটে আসছে ঢাকা মুখি মানুষ। আর এরা সবাই ২ থেকে ৩ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সড়ক মহাসড়ক এড়িয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে আসছেন তারা। বর্তমানে দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট সচল আছে, এ চারটি ঘাটে ফেরি চলাচল করছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন ফেরিতে উঠছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যক্তিগত যানবাহন ও যাত্রীরা ফেরিতে স্বাভাবিকভাবে পারাপার হচ্ছেন। পাশাপাশি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিতেও পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রী ও অন্য যানবাহন দেখা যায়। এসময় দেখা যায় অনেক যাত্রী ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে দিলে তাতে ঝুঁকি নিয়েই উঠে পড়ছেন।
কুষ্টিয়া কুমারখালি থেকে আসা যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল করে গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত আসি পুলিশের বাধা পেলে নেমে গ্রামের রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক করে ঘাটে আসলাম। এখন ঘাট পার হয়ে রিক্সা, ভ্যান, মোটরসাইকেল যা পাই তাতে করে সাভারে যেতে হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীরের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে মাহিন্দ্রা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে করে অনেকে ঘাটে পে^ৗছানোর চেষ্টা করছেন। এই ধরনের গাড়ি দেখলে পুলিশ গতিরোধ করে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এসময় তিনি বলেন, আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। মহাসড়কে মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, রিক্সা চলবেনা এমন নির্দেশনা আমাদের এসেছে, আমরা সেই মোতাবেক কাজ করছি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, আমাদের নির্দেশনা আছে পণ্যবাহী ট্রাক, জরুরি সেবার যানবাহন, গ্লানযান (অ্যাম্বুলেন্স), লাশবাহী গাড়ি পারাপার হতে পারবে। কিন্তু এরপরও ঘাটে ফেরি ভেরার সুযোগে যাত্রী উঠে পরছে এতে আমাদের কিছু করার থাকছে না। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *