ধর্ষণের জন্য হরমোনই দায়ী!

মতামত

পুরুষের সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরন সেক্সের ইচ্ছা এবং পারফরমেন্সের জন্য দায়ী। পুরুষের শুক্রাশয়ে এটি উৎপন্ন হয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে উচ্চমাত্রায় এই হরমোনের উপস্থিতি ব্যক্তিকে বেশি অনৈতিক করে তোলে। শরীরে এই হরমোনের উচ্চমাত্রার সঙ্গে অসামাজিক আচরণ ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের যোগসূত্র রয়েছে। একটা বয়স অতিক্রম করলে হরমোনের কারণেই স্বাভাবিকভাবেই যৌন তাড়না তৈরি হয়। যে সকল পুরুষ দীর্ঘদিন নারী সঙ্গ থেকে দূরে থাকে তাদের মধ্যে যৌন তাড়না অস্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। তৈরি হয় অনৈতিক কাজ করার চাপ। হিতাহিত জ্ঞান অনেকাংশেই লোপ পাইয়ে দেয় এই হরমোন। পরিণতি কি দেখি?

রাজশাহীর ওই ফাদারের মধ্যেও তৈরি হতো হরমোন। নারী সান্নিধ্য বঞ্চিত মাদ্রাসার শিক্ষক বা মন্দিরের পুরোহিতদের মধ্যেও তৈরি হয় হরমোন। সেই তাড়না তাদের বিপথগামী করে ফেলে। অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করে। কোনো পূর্ণবয়ষ্ক নারীর প্রতি হাত বাড়ানো সহজ হয় না। তাকে ভয় দেখানো যায় না, উল্টো চড়-থাপ্পড় খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফাঁস করে দিতে পারে। কিন্তু শিশুদের অনেকভাবেই বিভ্রান্ত করা যায়। ভয় দেখানো যায়- গজবের, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের, ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করিয়ে নিতে পারলে তারও দোহাই দেয়া যায়, প্রকাশ করলে মেরে ফেলার ভয়ও দেখানো যায়। কিন্তু শিশুটি একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ে বা গর্ভবতী হয়ে যায়। হরমোনের তাড়না ধর্ষককে ভবিষ্যৎ দেখতে দেয় না।

আমাকে একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বলেছিল- তার ওখানে সকলেই অপকর্মে লিপ্ত। কিছু বললেই খালি বলে, ‘গোপন করেন, গোপন করেন; পরকালে আপনার দোষ আল্লাহ গোপন করবেন’। উনি কারণ খুঁজে পান না! কেন ওনারা শিশুদের বলাৎকার করেন? শিশু-অনাথ পেলেই কেন ধর্ষণ করতে উতলা হয়ে পড়েন। আমরা যারা বিজ্ঞানমনস্ক তারা তো জানি- এগুলো শয়তানের কাজ নয়, ওই ব্যাটা হরমোনই দায়ী।

যৌন জীবনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে শরীরে বিভিন্ন হরমোনের উপস্থিতি। আমাদের অনুভূতির ওপরেও অনেকটা প্রভাব ফেলে এই হরমোন। সুস্থ, স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে এর ফলে বাড়ে আয়ু। আমার বেশ কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুই সোভিয়েত ইউনিয়নে অধ্যয়ন করেছেন। তারা অভিজ্ঞতার কথা লিখেন। জানতে পারি ওখানে হোস্টেলে ছেলেমেয়েরা একসাথেই থাকে। পছন্দের জুটিরা থাকে এক কক্ষেই। হরমোন যে চাহিদা তৈরি করে তারা নারী-পুরুষ দুজনই তা মিটিয়ে নেন। ফলে হরমোন তাদের অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করতে পারে না। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বহু উন্নত দেশেই এমনটা দেখা যায়।

পুরান ঢাকায় এক কাজী সাহেবের কথা শুনলাম। তার বক্তব্য হলো, ‘সামাজিক বিয়েতে আর কত আয় হয়? তা দিয়ে কি আর চলে? আমাদের মূল আয় হলো ওই ঘুরে বেড়ানো জুটিরা। তারা তাড়নায় বাধ্য হয়েই আসে বিয়ে করতে। সেই বিয়েতে ফিও বেশি আবার কিছুদিন পরেই তারা বুঝতে পারে ভুল বাছাই হয়েছে। আবারো আসে ডিভোর্স করতে।’ মস্কোতে সে ঝামেলা নাই। আজ যখন পটলো না, নিশ্চিত হওয়া গেল সুখের হবে না এক সাথে থাকা; আলাদা হয়ে যাও! আবার বেছে নাও জীবনের নতুন সঙ্গী।

আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য যদি বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেই তাহলেই সমাধান হবে সঠিক। নতুবা যার দোহাই-ই দেন না কেন, যত নিন্দাই করেন না কেন শিশু বলাৎকার/ধর্ষণ বন্ধ করতে পারবেন না।

লেখক: মজিব রহমান, সভাপতি, বিক্রমপুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *