ধর্ষণের নতুন আইন ও তরুণ সমাজের ভাবনা

মতামত

ধর্ষণ! চলমান সময়ে আমাদের দেশে বহুল আলোচিত শব্দ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। প্রতিদিন খবরের কাগজে চোখ রাখলেই কোন না কোন ধর্ষণের ঘটনা চোখে পড়বেই। বীভৎস ও নোংরা এই অপকর্ম থেকে শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই রেহাই পায় না।

ধর্ষক যে দলেই হোক না কেন, নতুন আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। সেটা না হলে নতুন আইন করেও কোন প্রতিকার সম্ভব নয়

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, দেশে জানুয়ারি- আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ৮৮৯ জন। কিন্তু কয়জন অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে? বছরের পর বছর চলে গেলেও ধর্ষণের বিচার না পেয়ে অনেক পরিবার বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করে, অনেক ভিক্টিম আবার বেছে নেয় আত্নহননের পথ। চলতি মাসে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনার পর রাজপথে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এরই ধারাবাহিকতায় পাস হয় ধর্ষণের জন্য নতুন আইন। এ আইনে বলা হয় ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। শুধু আইন তৈরির মাধ্যমেই নয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমের সমাধান হতে পারে প্রচলিত এই অপরাধ।

নতুন আইন ও ধর্ষণ রোধে তরুণ সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির ভাবনা-

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সামাদের মতে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারকার্য সম্পন্ন করে ধর্ষণের ঘটনা আদালতে প্রমাণ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ফাঁসি হওয়া উচিত। শাস্তি না হওয়ার পিছে সবচেয়ে বড় কারণ দুইটা। প্রথমত, বাংলাদেশের কোর্ট সিস্টেম খুবই ধীরগতি সম্পন্ন। এত দীর্ঘসূত্রতা হয় যে, এভিডেন্স আর এভিডেন্স থাকেনা, অপজিশন এভিডেন্স কে ফিকশন বানিয়ে দেয়। সে সুযোগ দেওয়ার আগেই কার্যকরী করতে হবে শাস্তি। দ্বিতীয়ত অপরাধী কোন না কোন ভাবে পাওয়ারফুল হয়ে থাকে। ধর্ষক যে দলেই হোক না কেন, নতুন আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। সেটা না হলে নতুন আইন করেও কোন প্রতিকার সম্ভব নয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিগার সুলতানা শশী বলেন, জ্যামিতিক হারে ধর্ষণ বাড়ছে। কারণ কি? এর দায় কার? এর দায় আমার, আপনার, পরিবারের, সমাজের, সরকারের। যেহেতু ধর্ষণের নতুন আইন হয়েছে তাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই দৃষ্টান্তমূলক বিচার কার্যকর করতে পারলেই কমে যাবে ধর্ষণের হার, আইন প্রণয়ন করে প্রয়োগ না করলে কোন ভাবেই সে আইন ফলপ্রসূ হবে না। সেইসাথে পারিবারিক শিক্ষা, পরিবার থেকেই প্রথম প্রতিকারটা শুরু করতে হবে। নির্দিষ্ট বয়েসের আগে মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহারে নজরদারি করতে হবে।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী দিদারুল ইসলামের মতে, যারা ধর্ষণ করে এবং প্রশ্রয় দেয় তাদের ও তাদের পরিবারকে জনসম্মুখে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে করে আবার কেউ ধর্ষণ করার আগে হাজার বার তার পরিবারের কথা চিন্তা করে। জনসম্মুখে দ্রুত ধর্ষণের শাস্তি হলেই তবে বন্ধ হবে নিকৃষ্ট এই অপরাধ। এবং নতুন আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাঝেই ধর্ষণ রোধ সম্ভব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফন্টু ত্রিপুরার মতে, পোশাক কখনও ধর্ষণের জন্য দায়ী হতে পারে না। পোশাকই যদি ধর্ষণের জন্য কারণ হতো তাহলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বেশি পরিমাণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতো। দেশে ধর্ষণ রোধের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তা অনুসারে গ্রেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। নতুন আইনের সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগই রোধ করতে পারে সমাজের এই জঘন্য আপরাধ।

লেখক : ইসরাত জাহান চৈতী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *