ধর্ষণ মামলার ১৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষক

সারাবাংলা

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আদরির (ছদ্দ নাম) বয়স মাত্র ৯ বছর। তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে বড় হবে, চাকরি করবে, দুঃখী মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবে! তাদের অভাব অনটন দূর হবে। কিন্তু তা আর হলো না! একটি দুর্ঘটনা তার জীবনে সবকিছু তছনছ করে দিলো। হ্যাঁ ঘটনাটি হচ্ছে এক মা মরা মেয়ের জীবন কাহিনী! ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার খরকাডাংঙ্গা (বরডাংঙ্গা) গ্রামে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মেয়েটির পিতা কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিল। মা আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সদস্য। তিনি গিয়েছিলেন গোমস্তাপুর উপজেলার আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার সঙ্গে রহনপুরে দেখা করতে। মেয়েটি বাড়িতে একাই অবস্থান করছিল। সেই সুবাদে এক কুলাঙ্গার দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে জল খেতে চাইলে, জল খেতে দেই। কিন্তু জলে ময়লা আছে বলে ফেলে দেই। তখন আবার জল চায় ছেলেটি। তখন মেয়েটি বাড়ির বারান্দায় কলস থেকে জল ঢালতে গেলে পেছন থেকে ছেলেটি তাকে জাপটে ধরে। ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তার বস্ত্রহরণ করে মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। একপর্যায়ে মেয়েটি বাঁধা দিলে ধর্ষক তাকে হাঁসুয়ার ভয় দেখিয়ে অনবরত নির্যাতন করতে থাকে। মেয়েটি এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষক পালিয়ে যায়। তারপর মেয়েটির জ্ঞান ফিরে আসলে, সে দেখে তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে আছে। সে অবস্থায় তার নিজের ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য জমির আইল দিয়ে, যাওয়ার পথে পড়ে গেলে আবারও সে জ্ঞান হারায়। তারপর জ্ঞান ফিরলে তার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সবকিছু খুলে বলে। তখন তার ভাই তার মা-বাবাকে ঘটনাটি জানায় এবং মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে সিএনজিতে করে ১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ও.সি.সি.) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর গোমস্তাপুর থানায় মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির নামে মামলা নং-০৯, তারিখ:-১১-০২-২০২১ দায়ের করে। মেয়েটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাই গত ১৩ ফেব্রুয়ারি।
মেয়েটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমি তার পিতার দ্বিতীয় স্ত্রী, আমার স্বামীর স্বল্প আয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। মেয়েটির পড়ালেখার প্রতি অদম্য ইচ্ছা থাকায় আমি খুব কষ্ট করে তাকে পড়ালেখা শিখাচ্ছি। ঘটনার পরে এনজিও থেকে কিস্তির টাকা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটির চিকিৎসা করতে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। মেয়েটির উন্নত চিকিৎসার জন্য আরো অনেক অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। তার সৎ ছেলেরা হাতে খাঁটে, পেঁটে খায়, তার বোনের চিকিৎসার জন্য তারা কোনো সহযোগিতা করতে পারছে না। কিন্তু আমি মেয়েটিকে আমার পেটে না ধরলেও আমার মেয়ে অর্থের কারণে আমি মেয়েটির চিকিৎসা করতে পারছিনা। চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের শরণাপন্ন হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। তাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আমার। কিভাবে মেয়েটির চিকিৎসা করে সুস্থ করব। তাই মেয়েটির মা’র দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই কুলাঙ্গারের সুষ্ঠু বিচার করুক এবং আমাদের মতো গরীবদের একটু নজর দিক। মেয়েটির পিতা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের একটু সহযোগিতা করুক মেয়েটির চিকিৎসার জন্য। তিনি আরো বলেন পুলিশ পারে না এমন কোন কাজ নেই। অথচ গত ১১ফেব্রুয়ারি মামলা হলেও এখনো পর্যন্ত সেই নরপশু ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি গোমস্তাপুর থানা পুলিশ। তার মামলা চালানোর মতো তার কাছে কোনো অর্থ নেই। তাই মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সেই সঙ্গে সেই ধর্ষককে দ্রুত আটক করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করছেন।
মামলার বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোমস্তাপুর থানা ওসি তদন্ত সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামীকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে, অচিরেই মূল আসামিকে ধরে ফেলবে বলেন। অপরদিকে গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, এ মামলায় সন্দেহভাজন ১১ জনকে আটক করে ভিকটিমকে দেখানো হয়েছিল আসামিকে চেনার জন্য। কিন্তু তারা জড়িত নয়, তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মূল আসামি আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করেন, মেয়েটির সুচিকিৎসা এবং সে নরপশু ধর্ষককে আটক করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করা একান্ত জরুরি বলে মনে করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *