ধর্ষণ মামলায় জড়ানো বলিউড তারকা

বিনোদন

সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ কাণ্ড যেন বেড়েই চলেছে। তা শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও এমন চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এসব নেক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু বলিউডে বেশ কিছু তারকা অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কেউ কেউ জেলও খেটেছেন। এমন কজন তারকা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

মধুর ভাণ্ডারকর

বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকর। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে প্রীতি জৈন নামে এক মডেল-অভিনেত্রী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে দাবি করেন ওই মডেল। ২০১১ সালে মুম্বাইয়ের এক নিম্ন আদালতে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয়। ওই বছরের নভেম্বরে জামিন পান মধুর। পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। তার অভিযোগ, এই মামলায় এক পক্ষের কথা শুনেই তদন্ত হচ্ছে। ২০১৭ সালে এ মামলা থেকে খালাস পান মধুর ভাণ্ডারকর।

শাইনি আহুজা

বলিউড অভিনেতা শাইনি আহুজা। গৃহ পরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে এই অভিনেতার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত শাইনিকে এ দণ্ড প্রদান করেন। গৃহ পরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০০৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ শাইনি আহুজাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিরুদ্ধে গৃহ পরিচারিকাকে ধর্ষণ, হুমকি প্রদান ও জিম্মি করার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তিনি জামিন পান।

২০১০ সালে ওই গৃহ পরিচারিকা শাইনির বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। মামলা প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে অভিযোগকারী বলেন—অপর এক নারীর কথা মতো শাইনির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। মামলা প্রত্যাহার সত্ত্বেও আদালত শাইনির অপরাধ আমলে নিয়ে মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। যদিও শাইনি আহুজা প্রথম থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ২০১১ সালে মুম্বাই আদালত পুনরায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মহাক্ষয় চক্রবর্তী

বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর পুত্র মহাক্ষয় চক্রবর্তী। তিনি ‘হন্টেড থ্রিডি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ধর্ষণের অভিযোগে এই অভিনেতার বিরুদ্ধে দিল্লির একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। যে নারী এই অভিযোগ করেন তার ভাষ্য ছিল—মহাক্ষয় তার সঙ্গে সম্পর্ক করার পর তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তার গর্ভপাতের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন মিঠুনপুত্র। এই অভিযোগ প্রথমে মুম্বাইয়ের একটি আদালতে করা হলেও অভিযোগকারীর জীবন হুমকির মুখে পড়েছে—এমন দাবিতে তা নতুন দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

আদিত্য পাঞ্চোলি

বলিউড অভিনেতা ও প্রযোজক আদিত্য পাঞ্চোলি। ২০১৯ সালে ২৮ জুন তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন এক অভিনেত্রী। মুম্বাইয়ের ভারসোভা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত অভিনেতার নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৩২৮, ৩৮৪, ৩৪১, ৩৪২, ৩২৩ ও ৫০ ধারায় মামলা করা হয়। তবে পুলিশ অভিযোগকারীর নাম জানায়নি। ধারণা করা হয়, কঙ্গনা রাণৌত এ অভিযোগ করেন।

অঙ্কিত তেওয়ারি

বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক অঙ্কিত তেওয়ারি। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক নারী। তিনি তার প্রাক্তন বান্ধবী ছিলেন। ওই নারী দাবি করেন—বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন অঙ্কিত। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। এমন অভিযোগ এনে ২০১৪ সালের মে মাসে শহরতলির ভারসোভা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্লেব্যাক গায়ক অঙ্কিতকে। পরে অবশ্য জামিন পান তিনি। ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল এই মামলা থেকে খালাস পান এই সংগীতশিল্পী।

ইন্দর কুমার

বলিউড অভিনেতা ইন্দর কুমার। এক তরুণী মডেলকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। ওই মডেলের অভিযোগ—তাকে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে আন্ধেরির বাড়িতে আটকে রেখেছিলেন ইন্দর কুমার। তখন তাকে দুবার ধর্ষণ করা হয়।

করিম মুরানি

বলিউডের প্রবীণ প্রযোজক করিম মুরানি। দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘রা-ওয়ান’ সিনেমার প্রযোজক তিনি। দিল্লির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালে করিম মুরানির বিরুদ্ধে মামলা মামলা দায়ের হয়। সর্বশেষ এই মামলায় জামিন পান করিম মুরানি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *