ধোবাউড়ায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট

সারাবাংলা

এমএ আজিজ, ময়মনসিংহ অফিস:
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রকাশ্য হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে চান্দের নগর গ্রামের মরম আলীর প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের এঘটনায় মরম আলীর ছেলে মোতাছিম বিল্লাহ বাদি হয়ে ধোবাউড়া আমলী আদালতে মামলা নং ৫১৫/২০১৯ করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। ঘটনার দেড় বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। মামলা সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে চান্দের নগরের মরম আলীর বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, গাছকাটাসহ পুকুরে মাছ ধরে নিয়ে যায় খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চক্রটি। এ ঘটনায় ২৮ নভেম্বর ২০১৮ সালে ধোবাউড়া থানায় ১২(১১)২০১৮ নং মামলা করে। মামলায় খলিলুর রহমানসহ ২৬জনকে আসামী করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার চার্জসীটের বিপরীতে মরম আলী নারাজী দেয়। আদালত মরম আলীর আবেদন গ্রহণ করে পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই মামলাটি তদন্তকালে গাছ কাটার অভিযোগ পান এবং ঘটনার সঙ্গে নজর আলী, আজিজুল ইসলামসহ মাত্র ৯ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন আহমেদ ১৪/৫/১৯ তারিখে সম্পুরক চার্জসীট দাখিল করেন। মরম আলী মামলায় অভিযোগ করেছেন, উল্লেখিত মামলা প্রত্যাহার দাবিতে নজর আলী ও খলিলুর রহমানে নেতৃত্বে চক্রটি তাকে বার বার ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছে। মামলা প্রত্যাহার না করায় নজর আলী ও খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে ২০/২১ জনের একটি চক্র গত ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মরম আলীর বাড়িতে হামলা করে। এ সময় চক্রটির ভয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা আসবাবপত্র ভাংচুর ও লটপাট করে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ ঘটনায় মরম আলীর ছেলে ধোবাউড়া আমলী আদালতে মামলা নং ৫১৫/২০১৯ মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। দেড় বছরেও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনায় নজর আলীসহ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠে। চক্রটির ভয়ে মরম আলীর পরিবার বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে গাজীপুরে বসবাস করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, মরম আলীর ১৬ শতক জমি পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার সহকারী প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের সঙ্গে এওয়াজ বদল করেন। পরবর্তীতে উভয় জমি মরম আলী দখলে রাখেন। এ নিয়ে বিরোধ আরও চলছে।
গামারীতলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন, প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা। মরম আলীর পরিবারের সঙ্গে নজর আলীদের বিরোধ নিরসনে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সহায়তায় মিমাংশা করে দেওয়া হয়েছে। শালিস না মেনে তিনি উচ্ছৃংখলতা করে চলে যান। মরম আলী নিজেই উচ্ছৃংখল এবং অশান্তির কারণ। কেউ উচ্ছৃংখলের কারণ হলে সে তো ভয় পাবেই। সেই ভয় থেকেই মরম আলী অন্যত্র বসবাস করছেন। এ ব্যাপারে নজর আলীর মোবাইলে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দৌলত উল্লাহ মুরাদ বলেন, করোনার কারণে লকডাউন চলছে। মামলায় অনেক আসামী হওয়ায়। লকডাউনকালে তাদেরকে ডেকে তদন্ত সম্ভব হয়নি। অতিসত্বর তিনি রিপোর্ট প্রদান করবেন বলে জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *