নওগাঁয় বাড়ছে চালের দাম

সারাবাংলা

সোহেল রানা, নওগাঁ থেকে:
উদ্বৃত্ত ধান-চাল উৎপাদনের জেলা নওগাঁ। দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকামও এ জেলায়। চলতি বছর আমন মৌসুমে বন্যার কারণে ধানের উৎপাদন কম হওয়ার প্রভাব পড়েছে চালের ওপর। সপ্তাহের ব্যবধানে নওগাঁর পাইকারি বাজারে মোটা ও চিকন চালের দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা বেড়েছে, যা খুচরা বাজারে বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ধানের আমদানি কম, ধানের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভাবনায় ফেলেছে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষকে। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে চালের দাম। বর্তমানে পাইকারি বাজারে চিকন চাল কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা এবং মোট চাল কেজিপ্রতি ৪-৬ টাকা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নওগাঁ শহরের পৌর খুচরা বাজারে চাল কিনতে আসা হাট নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা মো. শাহীন বলেন, এক সপ্তাহ আগে কাটারিভোগ চাল ৫৬ টাকা কেজি দরে কিনেছি। সেই চাল এখন ৬০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের বেশি দামে চাল কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের গোস্তহাটি মোড়ের রিকশাচালক লিটন চন্দ্র বলেন, চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৪-৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে চাল বেশি দামে কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার পদক্ষেপ নিলে আমরা বাঁচতাম। নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, আমরা প্রতিদিন চাল কিনি এবং প্রতিদিনই বিক্রি করি। হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের বেচাকেনাও কমে গেছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে চালের দাম ৫-৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৪২ টাকা কেজি ছিল, আজকের (মঙ্গলবার) বাজারে ৪৬ টাকা কেজি; আটাশ চাল ৪৮ টাকা কেজি ছিল, এখন ৫২ টাকা কেজি; জিরাশাইল চাল ৫২ টাকা কেজি ছিল, এখন ৫৬ টাকা; কাটারিভোগ-সম্পাকাটারি ৫৬ টাকা কেজি ছিল, এখন ৬০ টাকা কেজি আর আতপ চাল ৮০ টাকা কেজি ছিল, এখন সেটা প্রকারভেদে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দন বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে আমন ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা ধান কাটার পরই ধান বিক্রি করায় এখন ধানের বাজারে আমদানি সংকট দেখা দিয়েছে। দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দন বলেন, আমন মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। আমাদের হিসাব অনুয়ারী ২০-২৫ লাখ টন ধানের উৎপাদন কম হয়েছে, যা চালের ক্ষেত্রে ২০-২২ লাখ টন উৎপাদন ঘাটতি হবে। এসব কারণেই চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তিনি বলেন, আমদানি শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত চাল বিদেশ থেকে আমদানি করলে চালের বাজারের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ মুহূর্তে সরকার বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত চাল আমদানি করতে না পারলে বাজারে চালের দাম আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *