নওগাঁয় বিশেষ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন অকারণে বাইরে বেরুলে বাড়ি পাঠাচ্ছে পুলিশ

সারাবাংলা

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৭দিনের বিশেষ লকডাউনের শুক্রবার দ্বিতীয় দিন। বিশেষ লকডাউন বাস্তবায়নে ২য় দিনের সকাল থেকেই নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা। একই সাথে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট। বিশেষ লকডাউনের ২য় দিনে কিছু কিছু যানবাহন শহরের ভেতরে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পায়ে হেঁটে বেরিয়েছে মানুষ। সকাল থেকে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় লকডাউনের আওতাভুক্ত সব দোকান পাট বন্ধ আছে। অকারণে যেসব মানুষ বেরিয়েছে তাদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠাচ্ছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আর যে সব যানবাহন বের হয়েছে সেগুলোর বের হওয়ার বৈধ কোন কারণ না থাকলে দেয়া হচ্ছে মামলা। পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেছেন শহরের সবগুলো রাস্তায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় সমুহে পুলিশের পাহাড়া চৌকি সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এবং অকারনে যেসকল মানুষ বেরিয়েছে তাদের বুঝিয়ে প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের গাড়িতে করে বাড়ীতে পাঠাচ্ছি। জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ জানিয়েছেন. নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত টহলরত রয়েছে। সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে যে কোন মূল্যে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় নতুন করে আরও এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছেন। জেলায় সর্বমোট মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৪৪ জন-এ। এ সময় জেলায় নতুন করে আরও ২৪ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৩ জন, রানীনগর উপজেলায় ১ জন, মহাদেবপুর উপজেলায় ১ জন, ধামইরহাট উপজেলায় ১ জন, নিয়ামতপুর উপজেলায় ১৪ জন, সাপাহার উপজেলায় ৩ জন এবং পোরশা উপজেলায় ১ জন। এ নিয়ে জেলায় ভাইরাসে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩৬৩ জন। এ সময় নুতন করে সুস্থ্য হয়েছেন ১২ জন এবং এ পর্যন্ত মোট সুস্থ্য হয়েছেন ২০৪৭ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন ৩১৬ ব্যক্তি। গত চব্বিশ ঘন্টায় জেলায় কোয়ারেনটাইনে নেয়া হয়েছে ৮১ ব্যক্তিকে। এ পর্যণÍ সর্বমোট কোয়ানেটাইনে নেয়া ব্যক্তির সংখ্যা ২২ হাজার ৫শ ৩ জন। চব্বিশ ঘন্টায় কোয়ারেনটাইন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৫১ জন্যকে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২১ হাজার ৪শ ৫০ ব্যক্তিকে। বর্তমানে কোয়ারেনটাইনে রয়েছেন ১ হাজার ৫৩ জন। বর্তমানে জেলায় আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *