নবাবগঞ্জে চাহিদা বাড়ছে মাছ ধরার উপকরণের

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে:
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর জল বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকার নবাবগঞ্জে মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ ঘুনির এর চাহিদা বেড়েছে। বৃষ্টিতে পুকুর ও জলাশয় জলে টুইটুম্বর। আর এতে করে চাহিদা বেড়েছে মাছ ধার উপকরণ ধিয়ালের। বর্ষার জলে তলিয়ে যায় নিচু অঞ্চলের ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। তখন মাছ ধরার জন্য পুকুর, জলাশয় ছাড়াও বাড়ির আশপাশেও ফাঁদ পেতে রাখা হয়। ফাঁদে সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে। আর মাছ ধরার অন্যতম বাঁশের তৈরি উপকরণÑ ডারকি, পলি, ঘুনি, টেপারী, বুচুঙ্গা, চাঁই। বর্ষার জলে ঢাকার নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলের বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। আর এসময় বাড়ির আনাচে কানাচে জলে টুইটুম্বর থাকে। তাই অনেকেই শখের বসেও মাছ ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রাখেন। মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ ঘুনি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমজুড়ে ঘুনির চাহিদা বাড়ে। এখনো বর্ষা মৌসুম আসেনি। তবুও বর্ষায় মাছ ধরার উপকরণ হিসেবে অনেকেই ঘুনি কিনে রাখছেন। নিচু এলাকার ফসলি জমি বৃষ্টিতে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এতে বর্ষার আগেই মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন উপকরণ ক্রয় করছেন অনেকেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার জল আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন এলাকায়। পুকুর ভরে গেছে বৃষ্টির জলে। আর নদ-নদীতেও বৃদ্ধি পেয়েছে জল। বর্ষায় মাছ ধরার উপকরণের চাহিদা বেড়ে যায়। বাঁশের তৈরি এসব ফাঁদ দিয়ে মুক্ত জলাশয়ে পেতে রাখা হয়। ফাঁদগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরা পড়ায় দিন দিন চাহিদাও বাড়ছে। জানা যায়, উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঘোষাইল, আর ঘোষাইল, রায়পুর কেদারপুর, কঠুরি, আশয়পুর সহ বারুয়াখালী ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বর্ষার জল প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমে এসব নিচু অঞ্চলের মানুষের জীবিকাও অনেকটা মাছ ধরার উপর নির্ভর করে। নিচু অঞ্চলের জমি তলিয়ে ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠও জলে ভরে যায়। এসময় মাছ ধরার উপকরণ ধিয়ালের চাহিদা বাড়ে। মাছ শিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, বৃষ্টির জলে পুকুর ভরে গেছে। নদ-নদীর জলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ঘুনির মাধ্যমে মাছ ধরি। ছোট-বড় সব ধরনের মাছই এ ফাঁদে ধরা পড়ে। অপর এক মাছ শিকারী মনির হোসেন বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ফাঁদ পেতে মাছ ধরি। এবার ধিয়াল কিনেছি। প্রতিটি ঘুনির দাম ৬০০ টাকা। কখনো কখনো চাহিদা বাড়লে ৮০০ টাকায় কিনতে হয়। মাছের ফাঁদ বিক্রেতা নূর ইসলাম বলেন, বর্ষা এলেই ব্যস্ত থাকতে হয় বিভিন্ন রকমের ফাঁদ তৈরিতে। বাঁশ দিয়ে এসব ফাঁদ তৈরি করতে খরচ হয় ২০০-২৫০ টাকা। আর প্রতিটি ফাঁদ বিক্রি করতে হয় ৫০০-৮০০ টাকায়। পরিবারের সবাই এ কাজে সহযোগীতা করে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *