নবাবগঞ্জ : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ জলবন্দি ১৫ হাজার মানুষ দু’মুঠো খাবারও জুটছে না

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে
পদ্মার জল বৃদ্ধির কারণে ঢাকার নবাবগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার জলবন্দি রয়েছে। তাদের চলাচলের একমাত্র বাহন এখন নৌকা। জলবন্দির কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে নানা দুর্ভোগ। এ ছাড়া নবাবগঞ্জর সীমান্তবর্তী জয়কষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। ১২টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার জলবন্দি হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া চলাচল করার কোনো উপায় নেই। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার জলের অভাব। গবাদিপশু নিয়ে মহা বিপদে আছেন তারা। বাড়ি ঘর ফেলে আসতে নারাজ জলবন্দি মানুষজন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ রক্ষা বাঁধের পশ্চিম অংশের বিস্তীর্ণ ১২টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালিদয়া, পানিকাউর, কঠুরি, আশয়পুর, রায়পুর, ঘোষাইল, কেদারপুর, আর ঘোষাইল, রাজাপুর, বালেঙ্গা, কান্তারটেক, খাটবাজার, নয়াডাঙ্গী, চারাখালী ও পশ্চিম সোনাবাজু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জলবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ জলের অভাব। সরকারি বেসরকারি কোনো ত্রাণও পৌঁছায়নি। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বন্যাকবলিত এসব এলাকার বাসিন্দারা। পদ্মার জলে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। তলিয়ে গেছে স্কুল, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি সহ গুরুত্বপূূূূর্ণ স্থাপনা। জল বৃদ্ধির ফলে গৃহপালিত গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে একদিকে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাদিপাত করছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজন। করোন ভাইরাসের কারণে সবার উপার্জনই বন্ধ। এরই মধ্যে বন্যা দেখা দেওয়ায় অনেকেরই দু’বেলা দু’মুঠো খাবারও জুটছে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা জানা যায়, দুই সপ্তাহ ধরে পদ্মায় জল বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল জলে তলিয়ে গেছে। এত করে বাজারঘাট সহ গৃহ পালিত পশু নিয়ে অনেকেই বিপাকে পরেছে। আশয়পুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, পদ্মার জল বাইড়া পাট সহ সব ফসল এহন জলের নিচে। আমাগো কষ্ট কেউ দ্যাহে না। রায়পুর গ্রামের দিপালী রানী বলেন, সবাই খালি ছবি তুইলা নিয়া যায়। প্রতি বছর বন্যায় মাইসে আহে ছবি তুলবার। আমাগো তো সাহায্য দেয় না। এক মাস অইলো জল উঠছে। রাস্তাঘাট তলায় গেছে। হেই যে ১০ কেজি চাইল পাইছিলাম। বন্যা অইছে থিকা তো একটু আইসা দেখলোও না। হরিদাসী রানী বলেন, ১ মাস হয় ঘরে জল উঠছে। মাচা পাইতা পোলাপান নিয়া আছি। করোনায় কেউর কাম কাইজ নাই। কত কষ্টে চলি। ঘরে খাইবারও থাহে না। এহন তুরি তো সাহায্য করলো না কেউ। জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, পদ্মার তীরবর্তী এবং বেড়িবাঁধের বাইরে থাকায় প্রতি বছর পদ্মার জল ভেতরে ঠুকে সমস্যা বন্যার সৃষ্টি হয়। পদ্মার জল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ১২/১৩টি গ্রাম জলে তলিয়ে গেছে। পদ্মার পাড়ে বেড়িবাঁধ থাকায় পদ্মার জলের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। তাই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পদ্মার তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ৮/৯ গ্রামের মানুষ জলবন্দী যারা রয়েছেন তাদের থাকার সমস্যা হলে তাদের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য সংকট যাতে দেখা না দেয় তার জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *