নলছিটিতে আওয়ামী লীগের ওয়াহেদ খান জয়ী

সারাবাংলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ খান ১৪ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে গত শনিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রে বিরতিহীন ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মেয়র পদে ৪ জন, কাউন্সিলর পদে ৪০জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায়, গত শনিবার ভোর থেকেই তীব্র শীতের মধ্যেও সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করার আগেই নারী ভোটাররা কেন্দ্র লাইন দিতে শুরু করে। সকাল ৮টা বাজলেই শুরু হয় ভোট গ্রহণ কার্যক্রম। ভোটাররা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ভোট কেন্দ্রে ঢুকে স্বতস্ফূর্ত ভোট উৎসবে মেতে ওঠে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সকাল ১০টার দিকে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছিল। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ খান, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকে প্রার্থী মজিবর রহমান, স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মাসুদ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী শাহজালাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
দুপুর ১২টা বাজলে এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, নৌকায় জোর করে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকে মজিবর রহমান ও স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মাসুদ খান। সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান, ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ খান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। সারাদিনেও দেখা মেলেনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী শাহজালাল হোসেনের। শহরের শংকরপাশা কেন্দ্র থেকে ছুড়িসহ আব্দুর রহমান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান মুন্সি জানান, মেয়র পদে ২ প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘটনা সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। কিন্তু কারো পক্ষ থেকে কোন লিখিত পাইনি। নির্বাচন শান্তিপুর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আব্দুল ওয়াহেদ খান জানান, শান্তি পুর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। পুরুষ-মহিলা সব ভোটারদেরই সরব উপস্থিতি ছিলো। মহিলাদের উপস্থিতি ছিলো দেখারমতো। রাত সাড়ে ৮টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান মুন্সি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ খান ১৪ হাজার ৫শ ৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারী ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী শাহজালাল হোসেন পেয়েছেন ৯শ ২৪ভোট, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকে প্রার্থী মজিবর রহমান পেয়েছেন ৩৭৫ ভোট, স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মাসুদ খান পেয়েছেন ৩শ ২৮ ভোট ।
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে খাদিজা পারভিন, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে দিলরুবা বেগম, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে নুর নাহার বেগম নির্বাচিত হয়েছেন।
কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে পলাশ তালুকদার, ২নং ওয়ার্ডে নুরে আলম, ৩নং ওয়ার্ডে রেজাউল চৌধুরী, ৪নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল, ৫নং ওয়ার্ডে মামুন মাহমুদ, ৬নং ওয়ার্ডে ফিরোজ আলম, ৭নং ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম টিটু, ৮নং ওয়ার্ডে আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভু ও ৯নং ওয়ার্ডে মানিক হাওলাদার বিজয়ী হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *