নলডাঙ্গার ব্রক্ষ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদ শিশুর জন্ম নিবন্ধন করলেই বাবা-মা পাচ্ছেন উপহার

সারাবাংলা

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি:
জন্ম নেওয়া শিশুর ২/১ দিনের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই বাবা অথবা মাকে দেওয়া হচ্ছে কম্বল বা চাদর ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবানসহ নানা সুরক্ষা উপকরণ। সঠিক সময়ে প্রতিটি বাবা-মাকে তাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধনে উৎসাহিত করতেই এই ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ১নং ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বাবু। ইতোমধ্যে তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ। শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে উৎসাহিত হচ্ছেন অভিভাবকরা। তাই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার দুই-একদিনের মধ্যেই জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ছুটে যাচ্ছেন বাবা-মায়েরা। এসময় জন্ম নিবন্ধন করেই তারা পাচ্ছেন একটি করে কম্বল বা চাদর, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, মাস্কসহ নানা উপকরণ। সোমবার সকালে ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বাবু এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধনে আগ্রহী হন না। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে গাফিলতি করেন। অথচ জন্ম নিবন্ধন একজন শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জন্ম নিবন্ধনের মধ্য দিয়েই একটি শিশুর ভবিষ্যতের অনেক কিছু নির্ভর করে। বিষয়টি জেনেও অনেক অভিভাবক অবহেলা করে থাকেন। তাই বিষয়টি মাথায় রেখে এবং শিশুদের বাবা-মাকে তাদের সন্তানের সঠিক সময়, সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আর তাই শিশু জন্ম গ্রহণের পর খবর পাওয়া মাত্রই জন্ম নিবন্ধন করার জন্য তাদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। এতে ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই শিশুর বাবা মা তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করছেন। তিনি বলেন, গত জানুয়ারি মাস থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ১৫ জনকে শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের পর এসব উপকরণ দেওয়া হয়েছে। কিছু অভিভাবকদের নগদ অর্থও পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এই ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সে চেষ্টা করবেন তিনি। তার ইউনিয়নে অন্তত ৫০ জন গর্ভবতী মা মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন। পুরাতন ১০০ জনকে এই ভাতা দেওয়া হয়েছে। নতুন কারো সন্তান ভূমিষ্ঠ হলেই জন্ম নিবন্ধন উৎসাহিত করা হবে। আর জন্ম নিবন্ধন করলে তাদের পুরস্কার স্বরূপ এসব উপকরণ সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু জন্ম নিবন্ধনই নয়। স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণে ও সরকারের নানামুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে শতভাগ কাজ করছেন তিনি। শতভাগ হোল্ডিং ট্যাক্স ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং, গ্রাম আদালতকে কার্যকরী করা, প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড সভা করা, উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণাসহ নাগরিকত্ব সনদপত্র দিতে সরকারি নির্দেশনাকে অনুসরণ করেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকরী ও শক্তিশালী করতেই স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এর বাইরে নয়। এতে কতিপয় ব্যক্তি বিষয়গুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন এবং অপপ্রচার চালান। অথচ তিনি যা করেন তা সরকারের এই প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক বলে দাবি করেন। এদিকে ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ভ্যানচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, দুই দিনের শিশুর জন্ম নিবন্ধন করার জন্য তাকে চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বাবু একটি কম্বলসহ করোনার সুরক্ষা সামগ্রী উপহার দিয়েছেন। এতে তিনি খুব খুশি এবং ব্যাতিক্রম উদ্যোগ বলে দাবি করেন। ৭নং ওয়ার্ডের হলুদঘর গ্রামের ভ্যান চালক জালাল বলেন, তিনিও তার ৪ দিনের শিশুর জন্ম নিবন্ধন করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন। সঠিক সময়ে নিবন্ধন করার জন্য চেয়ারম্যান তাকে একটি চাদরসহ সুরক্ষা সামগ্রী উপহার দিয়েছেন উপহার দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *