নাগরপুরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ডেঙ্গু প্রকোপের অশনি সংকেত

সারাবাংলা

ইউসুফ হোসেন, নাগরপুর থেকে:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদর এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার ডোবা-পুকুরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। ফলে স¦াস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে সদর এলাকায় বসবাসরত প্রায় ২০ হাজার জনসাধারণ এবং এই বৃষ্টি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগ বৃদ্ধির আশংকা বাড়ছে। সদর এলাকার গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে চরম বিপাকে পড়ছে নাগরপুর সদর কাঁচাবাজারে আসা জনসাধারণ। সাপ্তাহিক হাটের দিনে জনসমাগম বৃদ্ধির ফলে ময়লা-আবর্জনা বেড়েই চলে এবং দুর্ভোগ ভোগান্তিও বৃদ্ধি পায়। এই পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বাজার প্রশাসনকেই দায়ী করছে স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাগরপুর সদর কাঁচাবাজার, তালতলা স্ট্যান্ড, যদুনাথ স্কুল সড়ক, কলেজ রোড, কেন্দ্রীয় মন্দির, পুরাতন গরুর হাট, নাগরপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা সহ বিভিন্ন অলিগলিতে আশেপাশে ছোট-বড় স্তুপ আকারে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা বিভিন্ন স্থান প্রায় সব জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। তবে মালিকপক্ষের রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে উল্লেখিত জায়গা এমন ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা জনসাধারণের। প্রতি বুধবার স্থানীয় সাপ্তাহিক হাটের দিনের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন অনেকে। হাটের ইজারাদারগণ ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেয় না বলে অভিযোগ করে স্থানীয় দোকানীরা।
এ বিষয়ে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মনি বলেন, আমি অবগত আছি যে নাগরপুর সদর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপ করা হয়েছে যার ফলে ডেঙ্গু প্রকোপের আশংকা রয়েছে। অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসন এবং নাগরপুর বাজার বণিক সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। নাগরপুর বাজার বণিক সমিতি ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান ঠিক না করায় ও সঠিক ময়লা ব্যবস্থাপনা না করায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা এবং ডেঙ্গু রোগ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি। হাট-বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশিত জায়গা না থাকায় আমাদের দোকানিরা ব্যক্তি মালিকানাধীন পরিত্যক্ত জায়গায় ময়লা ফেলছে। আমাদের জায়গা নির্ধারণ করে ডাস্টবিন নির্মাণ করে দিলে এই সমস্যার সমাধান হবে। এই বিষয়ে নাগরপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর রশীদ হারুন জানায়, স্কুলের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা একেবারেই কাম্য নয়। ময়লা-আবর্জনার স্তুপের ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অসুবিধা হয়। এছাড়াও পথচারীদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। নাগরপুর তালতলা স্ট্যান্ড সংলগ্ন এক দোকানী মুরাদ হোসেন আপন অভিযোগ করে বলেন, প্রতি মাসে বিভিন্ন ধরনের লোক এসে বাজার ঝাড়ুদার পরিচয়ে মাসিক টাকা নিয়ে যায় কিন্তু কখনো ঝাড়ু দেওয়া কিংবা ময়লা ব্যবস্থাপনা করতে তেমন দেখা যায় না। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরপুর সদর এলাকা পরিষ্কার রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এখনি কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ হতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *