নাগরপুরে সরকারি বিদ্যালয় ভবনের একাংশ ধস

সারাবাংলা

ইউসুফ হোসেন, নাগরপুর থেকে
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের সারটিয়াগাজী এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনের একাংশ ধসে পড়ায় পুরো বিদ্যালয় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং প্রায় ৪ বছর যাবৎ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে ভবন নির্মাণ ছাড়া এই বিদ্যালয়ে পাঠদান সম্ভব নয় হলে জানিয়েছে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়টি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ৪৮ নং সারটিয়াগাজী প্রাথমিক বিদ্যালয় গত ২০১৬ সালের বন্যায় বিদ্যালয়ের সামনের অংশের মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টির হয় এবং মূল ভবনের একাংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় পুরো বিদ্যালয় ধসে গিয়ে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। নাগরপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে নির্মিত এই সারটিয়াগাজী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাকা ভবন নির্মাণ করে ২০০৮ সালে। এরপর থেকে স্বাভাবিক ভাবে পাঠদান চললেও ২০১৬ সালের বন্যায় বিদ্যালয়টি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরেজমিনে, গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ের মাঠ পুকুরে পরিণত হয়েছে এবং মূল ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোরশেদ আলম বলেন, স্কুল ভবন ধসের বিষয়ে বার বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জরুরী ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও, তারা এখন পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে এই বর্ষা মৌসুমে আরো ব্যাপক আকারে ভবন ধসের আশংকা করা হচ্ছে। ৪৮নং সারটিয়া গাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবন করে দেয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালের বন্যায় বিদ্যালয়ের সামনের মাটি সরে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে এই গর্তের কারণে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের কয়েকটি শ্রেণীকক্ষ ধসে পড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে বিদ্যালয়টি। এজন্য গত ৪ বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঠিকমত ক্লাস করতে পারছে না, পাশাপাশি তাদের খেলার মাঠ পরিণত হয়েছে পুকুরে, এ কারণে শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। উক্ত বিষয়ে দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. ফিরোজ সিদ্দিকী জানায়, সারটিয়াগাজী স্কুলের ভবন ধসের বিষয়ে আমি অবগত আছি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অতিদ্রুত বিদ্যালয়ের ভাঙ্গন রোধ করে স্থায়ী সংস্কার করা হোক। ভবন ধসের ঘটনা জেনে নাগরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত এলে বিদ্যালয় সংলগ্ন ভবনে অস্থায়ী ভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত এলেও নাগরপুরের সব বিদ্যালয় খুলে দিলেও এলাকাবাসী মনে করছে সহজেই খোলা যাবে না এই সারটিয়াগাজী প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনায় ও শিক্ষাজীবন চলমান রাখতে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জোর দাবী জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *