নাগরপুর : পাট বিক্রিতে দ্বিগুণ দাম উচ্ছ্বসিত চাষি

সারাবাংলা

ইউসুফ হোসেন, নাগরপুর থেকে
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের উচ্চ বিক্রয় মূল্য পেয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত স্থানীয় পাট চাষিরা। একই সঙ্গে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে পাটের ব্যাপক চাষের সঙ্গে ফলন ভালো পেয়েছে কৃষকরা। বর্তমানে বন্যার জলে পুরো উপজেলার পাট ক্ষেত ডুবু ডুবু থাকায় সর্বত্র পাট কাটা, আঁশ ছাড়ানো, জাগ দেওয়া থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষের সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ থেকে ২,৭০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকরা এর আগে কখনও মৌসুমে এত দামে পাট বিক্রি করতে পারেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা পূর্ব পাড়া গ্রামের পাট চাষি সানি মিয়া এ বছর চার বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে জল জমে থাকায় অনেক পাট নষ্ট হলেও ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষতি হয়নি এবং দাম ভালো পেয়েছি। আমি ২ হাজার ১শ টাকা মণ দরে পাট আগেই বিক্রি করে দিয়েছি। ধুবড়িয়া সেনমাইঝাইল গ্রামের পাট চাষী গোপাল সরকার জানায়, তিন বিঘা জমিতে তিনি পাট চাষ করেছেন এবং ২ হাজার ৩শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন। ভাড়রা ইউনিয়নের পাট ব্যবসায়ী মুরাদ হোসেন আপন বলেন, গত বছর এই সময় পাটের দাম ছিল ১,৫০০ টাকা মণ। এখন মান ভেদে ২,২০০ টাকা থেকে ৩,৫০০ টাকা মণ দাম যাচ্ছ। গতবারের থেকে এবার অধিক মূল্যে পাট কিনতে হচ্ছে আমাদের। নাগরপুর, মোকনা, পাকুটিয়া, গয়হাটা ও ধুবড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পাট কাটা ও পাট জাগ দিচ্ছেন। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও বন্যা পানি থাকায় তারা পাট ক্ষেতেই জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ সারছেন। কৃষকরা বলেন, পাট মূলত বৃষ্টি নির্ভর ফসল। পাট কাটার সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন সমস্যা হয়নি এবং পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে অন্য সময়ের তুলনায় এবার খরচ অনেক কম হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা কৃষি-সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাট চাষে পুরো জেলায় যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার থেকে পাট উৎপাদন এবারের মৌসুমে বেশি হয়েছে। শুধুমাত্র নাগরপুর উপজেলাতেই এবার ১ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, এবার নাগরপুরে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষক ভালো দাম পাচ্ছে এবং পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। নাগরপুরের ন্যায় পুরো দেশে কৃষকের ঘরে ঘরে পাটের স্বর্ণযুগ যেন ফিরে এসেছে। বাজারে পাট বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। গ্রামের হাট-বাজারে প্রচুর পাট উঠেছে। আমাদের গৌরবের কৃষি পণ্য নিয়ে দেশে কৃষকের মুখে হাসি বিদ্যমান থাকুক এটিই কাম্য।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *