https://www.dhakaprotidin.com/wp-content/uploads/2021/01/Kurigram-1.jpg

নাগেশ্বরী পৌরসভা : সরগরম ভোটের মাঠ

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। পোস্টার, ব্যানার, আর লিফলেটে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা। গানে ছন্দে প্রার্থীদের মাইকের আওয়াজ মুখরিত করেছে শহর-গ্রামে। গণসংযোগে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রার্থনা করছেন ভোট, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। যোগ দিচ্ছেন উঠান ও খুলি বৈঠকে। থেমে নেই কর্মীরা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে। থেমে নেই নারী কর্মীরা। তারাও দলে দলে ভোট চাইতে যাচ্ছেন এ বাড়ি ও বাড়ি।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হচ্ছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে হচ্ছে কোনো কোনো প্রার্থীর খুলি বৈঠক অথবা নির্বাচনী পথসভা। পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে অনেক রাত পর্যন্ত চলে সাধারণ ভোটারদের ভোটের করচা। চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে ছোট ছোট যুক্তিতর্কে ভোটের এবং প্রার্থীর আমলনামার হিসাব মেলান তারা।

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারি নাগেশ্বরী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফরহাদ হোসেন ধলু সওদাগর, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শহিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র আব্দুর রহমান মিয়া, নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ হোসেন ফাকু ও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম।

মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী ছাড়াও কাউন্সিলর পদে ৪৩ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এর সুবিধা ঘরে তুলতে চান অন্যান্য প্রার্থী। তবে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে বিএনপি এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগও রয়েছে। বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শহিদুল ইমলাম অভিযোগ করে বলেন, নৌকার প্রার্থী মাঠে ময়দানে বলে বেড়াচ্ছেন তারা একটি ভোট পেলেও জয়ী হবেন। এতে সাধারণ ভোটাররা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আশঙ্কায় আছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন ফাকু জানান, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায়। তাই তারা বিভিন্নভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে এবং আমার ভোটারদের হয়রানি করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন ধলু জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে যখন নৌকা ছিল তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল। এখন নৌকা চলে গেছে তার জনপ্রিয়তাও চলে গেছে। আমি মনে করি তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তাছাড়া কারও পক্ষে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বলেন, নাগেশ্বরী পৌরসভার ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। আশা করছি আগামী ১৬ জানুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *