নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ১৯ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার

সারাবাংলা

আব্দুর রহমান বুলবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে রাস্তা সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের ফেসবুকে এখন সমালোচনার ঝড়। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও পুরাতন পিচ দিয়ে কাজ করছেন ঠিকাদার। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উপজেলার সিংগারবিল থেকে হরষপুর ভায়া মির্জাপুর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। কাজটি যৌথভাবে পেয়েছেন মেসার্স মোস্তফা কামাল ও মাহাবুব ট্রেডার্স নামে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা জানান, সংস্কার কাজে যে মালামাল ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো আগের কাজের ব্যবহৃত মালামাল। আগের ব্যবহৃত ইট ও পিচ তোলে সেই মালামাল নতুন নিম্নমানের ইটের খোয়ার সঙ্গে মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় বালু না দিয়েই ইটের খোয়া ফেলে কাজ করা হচ্ছে। আগের কাজের পিচ ও ইটের খোয়ার সঙ্গে ময়লা-আবর্জনাসহ রোলারের ব্যবহার সঠিক হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আশরাফুল ভূইয়া সুমন জানান, আমাদের এমপি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী উন্নত মানের কাজ হওয়ার জন্য বিপুল টাকা বরাদ্দ এনেছেন সরকার থেকে। যেন ভালোভাবে কাজটি সম্পূর্ণ হয়। অথচ রাস্তায় খুবই নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। আগের ব্যবহৃত পুরাতন রাস্তার পিচ ও ইটগুলো তোলে সেই ইটের খোয়া দিয়েই রোলার দিয়ে চাপিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পুরাতন ইট হাতের আঙুল দিয়ে টিপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি আসলে কয়েকদিনের মধ্যেই এই রাস্তা আবার ভেঙে যাবে। রাস্তায় ইটের খোয়া ও বালুর পরিমাণে ও নিয়ম মানা হচ্ছেনা। স্থানীয়জন প্রতিনিধি, প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজন।
বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস.এম মাহাবুব হোসাইন বলেন, রাস্তাটি সংস্কারে যে পরিমাণ নিম্নমানের কাজ হচ্ছে, তা জীবনেও দেখিনি। বর্তমানে পুরাতন ইটের খোয়া, পুরাতন পিচ ও নতুন যে নিম্নমানের মালামাল দিচ্ছে তা কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা আগের মতো হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে অনেকেই অভিযোগ দিয়েছে। আমি নিজেও ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছি রাস্তা নিম্নমানের হওয়ায়। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাবৃন্দ উপজেলা প্রকৌশলীকে অভিযোগ জানিয়েছি। এখনই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিভাগীয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন নয়তো বেশি দিন রাস্তাটি টিকবে না।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মারুফ আহম্মেদ রনি বলেন, আপনি সাংবাদিক উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কাজ ১২ দিন হলো শুরু হলেও তিনি মাত্র দুই দিন পরিদর্শন করে আসছে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিস কাজ তদারকি করছে। মেসার্স মোস্তফা কামাল প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ দানা মিয়াকে নিম্মমানের কাজের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মানুষের অভিযোগ থাকতে পারে। আমরা বাঙালিদের কাজই হলো অভিযোগ দেওয়া। কাজ ভালো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, আমার কাছে অনেকেই অভিযোগ দিয়েছে। আমি গিয়ে দেখে আসছি ও বলে দিয়েছি যেন ভাল ভাবে কাজ করা হয়। রাস্তার কাজ যদি খারাপ হয় আমি বিল আটকিয়ে দেবো। বিজয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা মুকাই আলী বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ দিয়েছে। রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ আমি নিজে গিয়ে দেখে এমপিকে জানাবো এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে ভালভাবে তদারকি করারজন্য নির্দেশ দেবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *