শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিশ্ব সম্মেলনে দেশের প্রকৌশল দক্ষতা তুলে ধরেছে আইইবি মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুলে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল শেরপুর – ৩ আসনে নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পাইকগাছায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যায্য মুল্যে নিত্য পণ্যের বাজার উদ্বোধন : চলবে মাস ব্যাপী ভাণ্ডারিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা শেরপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের দায়ে এমআরবি ব্রিকসকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা শ্রীপুরে ২২ কোটি টাকার ৭ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারি আটক ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন: শাহাদাত সভাপতি, সোহেল সম্পাদক ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: শাল্লায় জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ সওজ জোনের নতুন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোহনপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্বৃত্তদের আগুন: এলাকায় উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সায়মা করিম আনোয়ারায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন সরিষাবাড়ীতে “শান্তি- শৃঙ্খলা-উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতায় যুবদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একটি মোবাইল কোর্টে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা নবীনগরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহককে অনুসরণের সময় নারী চোর আটক,পুলিশে সোপর্দ কমিউনিটি ব্যাংকের সঙ্গে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের “ওয়ান পার্টনারশিপ, কমপ্লিট প্রোটেকশন” বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যার ঘটনায় নারী উন্নয়ন শক্তির তীব্র প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সেচ-চ্যালেঞ্জ জয় করে নবীনগরে গম চাষে উজ্জ্বল ফলন প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন গ্যাস সংকটে বন্ধ চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড সুনামগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ: আলামতসহ ৩ আসামী গ্রেপ্তার ভৈরবে ৩ বছর ধরে বিনামূল্যে সেহরি করাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা’র কন্যা জোনাকি মিরপুরে এমপি আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে সংবর্ধনা বিজিবি’র উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির সমন্বয় সভা ও ইফতার অনুষ্ঠিত

নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আগামী নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও স্ক্রিনশট

নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আগামী নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশবাসীর কাছে এই সমর্থন চান।

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আমি এই স্বল্প সময় যতটুকু সম্ভব আপনাদের কাছে ছুটে গিয়েছি। আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ এবং ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারো আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন। ‘

‘অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোন কোন ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলা দেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারো আমি আপনাদের সমর্থন চাই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি দেশ এবং জনগণের জন্য আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং আপনাদের ভোট চাই।’

জনগনের কাছে জবাবদিহিতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে দেশের আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’

‘দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায় বিএনপি সরকার ইনশাআল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার। আপনাদের কাছে আমার অঙ্গীকারের কারণ আপনারাই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।’

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তথাকথিত নির্বাচনের প্রসঙ্গে টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান  বলেন, ‘ ফ্যাসিবাদ আমলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তথাকথিত ডামি নির্বাচনে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলাম, ৭ জানুয়ারি সারাদিন পরিবারকে সময় দিন।’

‘বর্তমানে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এবার দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন। ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন। ‘

‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ‘

বিএনপির মূল মন্ত্র হবে মহানবীর ন্যায়পরায়নতা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যদি আপনাদের সমর্থন পায় তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূল মন্ত্র থাকবে মহানবীর মহান আদর্শ ন্যায় পরায়ণতা। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই দিনে আমি আল্লাহর দরবারে ধানের শীষের বিজয় কামনা করছি।’

৩৭ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশ পরিচালনায় জনগণের জন্য কী করতে চান, কীভাবে তার প্রণীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের চূড়ান্ত বিজয় দেখে যেতে পারেননি। প্রিয় দেশবাসী, সারা দেশের সকল ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক, রিকক্সাচালক, গার্মেন্টস কর্মী, ফুটপাথের হকার থেকে শুরু করে শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী-শ্রমজীবী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা শিল্প উদ্যোক্তা এবং দেশের সকল মায়েরা বোনেরা সবার কাছে আমার বিনীত আবেদন আপনারা যারা জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয় করুন।’

‘ধানের শীষের বিজয়ের অর্থ বাংলাদেশের বিজয়। ধানের শীষের বিজয়ের অর্থ স্বাধীন সার্বভৌম তাবেদার মুক্ত বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাফল্য যাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি আমার দলের নেতা-কর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন থেকে হাতে কলমে প্রস্তুতি নিয়েছি। ‘

‘পরিস্থিতির কারণে বিদেশে থাকতে বাধ্য হলেও হৃদয় মন সত্তা জুড়েছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ। আমি তাই বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও দেশের প্রতিটি এলাকায় আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি।’

জনগণ ধর্মীয় চরমপন্থা ও উগ্রবাদ পছন্দ করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ করতে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ সময় কে কোন ধর্মের.. এটি কোন জিজ্ঞাসা ছিল না। ২০২৪ সালের, স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও, কে কোন ধর্মের? কার কি ধর্মীয় পরিচয় এটি কোন জিজ্ঞাসা ছিল না। আমরা মনে করি ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রীতি অনুযায়ী যার যার ধর্ম পালন করবেন। এটি একটি আধুনিক সভ্য সমাজের রীতি।’

‘সকল নাগরিকের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। দেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের স্বাধীনতা হরণকারী স্বৈরাচার ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কোনটিকেই পছন্দ করে না। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি বজায় রেখেই যাতে আমরা সকলে মিলেমিশে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি। এ লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই বাংলাদেশী।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,  দেশের জনগণের সমর্থনে বিএনপি অতীতে বহুবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে থাকার কারণেই তাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যাকে বাংলাদেশের জনগণ অর্থাৎ আপনারাই দেশনেত্রী উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি কখনোই আপনাদের সম্মানের অমর্যাদা করেননি। জীবনের শেষ বয়সে এসেও তিনি জেল জুলুম বরণ করেছেন কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে আপোষ করেননি।’

‘সন্তান হিসেবে আমি জানি তার কাছে অনেক প্রস্তাব এসেছিল। তিনি চাইলেই সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে জেল-জুলুম এড়িয়ে বিদেশে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তার হৃদয় জুড়েছিল বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রকে জনগণের বিশ্বাস ছিল। খালেদা জিয়া জালিমের কারাগারে থাকলেও তিনি তাবেদার অপশক্তির ভয়ের কারণ।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াও জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার মর্যাদা দিয়েছিলেন। তিনি দেশেই থেকেছিলেন শেষ দিন পর্যন্ত। ‘

‘ফ্যান্সিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে আপোষীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে পুনরায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছিলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিকী জনগণের সামনে খালেদা জিয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণের সেই সময় উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র এবং সরকার প্রতিষ্ঠার দিন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবদ অপশক্তি দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছিল। প্রশাসনকে চূড়ান্ত রকমের দলীয়করণ করে ফেলেছিল। প্রশাসন পরিচালনায় বিএনপির নীতি হবে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে সাংবিধানিক নিয়মে। প্রশাসনকে দলীয়করণ নয় প্রশাসনের নিয়ম কিংবা পদোন্নতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। ‘

তিনি বলেন,  ‘জনপ্রশাসন সঠিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে আমাদের কোন উদ্যোগী সুফল মিলবে না আমরা ইতিমধ্যেই জনগণের সামনে উপস্থাপিত আমাদের দলিল ইশতেহারে বলেছি জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।’

এ সময় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বেকারদের কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা চালু, সংবিধানে আল্লাহ ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পূনঃস্থাপন, প্রবাসী কার্ড, বিদেশে চাকুরি পেলে তাদের অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে ঋণ সুবিধা প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে দলের ইশতেহার যেসব প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে তাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ মুসলমান। মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের সকলের একটাই প্রার্থনা, রাব্বানা আতেয়া ফিদ দুনিয়া হাসানাতা ওয়াফির আখিরাতি হাসানাতাঁ ওয়াকিনা আজাবান নার; হে আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখেরাতে কল্যাণ দাও, দোজগের আগুন থেকে বাঁচাও। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস..এই কথাটি সন্নিবেশিত করেছিলেন।’

‘কিন্তু তাবেদার সরকার সংবিধান থেকে এই কথাটি বাদ দিয়েছে। আল্লাহর রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায় বিএনপি পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস… এই কথাটি সংবিধানে পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক রাজনৈতিক আগ্রাসন চালানোর অপচেষ্টা হয়েছিল। অপরদিকে দেশ বরেণ্য অনেক আলেম-উলেমা সোচ্চার কন্ঠে বলেছেন কেউ কেউ স্রেফ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

‘সুতরাং সকল বিশ্বাসীদের প্রতি আহ্বান কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’


এই বিভাগের আরো খবর