নির্ঘুম রাত কাটছে গাড়িচালক আর যাত্রীদের

সারাবাংলা

ডেস্ক রিপোর্ট: গাড়ির অতিরিক্ত চাপ এবং ঘাট স্বল্পতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। আগের দিন রাতে আসা গাড়ি পরের দিন সকালে পার হচ্ছে। এ কারণে রাত কেটে যাচ্ছে ফেরিঘাটেই।

আজ রোববার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬ টায় দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে অপেক্ষমাণ রো রো (বড়) ফেরি খানজাহান আলীতে যে কয়টি পরিবহন উঠে, তার অধিকাংশ ছিল দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি।

বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা সোনার তরি নামের বাসের যাত্রী সুভজিৎ সরকার (৩০)। বাসে আসন না পেয়ে বসে আছেন চালকের পাশে ইঞ্জিনের কাভারে। ঘুমের চোখে আলাপকালে তিনি বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় ঢাকা ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার হিসেবে কাজ করেন তিনি। আজ থেকে অফিস করতে হবে। পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যশোর গিয়েছিলেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ের কথা জানান। তিনি বলেন, গতকাল শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮ টায় যশোর থেকে তিনি বাসে উঠেন। রাত ১১ টার আগেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পেছনে তিনি যানজটে আটকা ছিলেন। রাতভর এভাবে ইঞ্জিনের কাভারেই বসে ছিলেন। পুরো রাত এই ঘাটে কাটিয়ে সকাল সাড়ে ছয়টায় তাঁদের গাড়ি ফেরির নাগাল পায়। অধিকাংশ যাত্রীর অবস্থা তাঁর মতোই।

ফেরিঘাট সড়কের পুলিশ বক্সের সামনে যানজটে আটকা চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা পূর্বাশা পরিবহনের চালক জিয়া ইসলাম বলেন, দিবাগত রাত পৌনে ১টা থেকে যানজটে আটকা আছেন। ৭ ঘণ্টার পর এখনো ফেরির নাগাল পাননি। ফেরিতে উঠতে আরও অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগতে পারে। রাতভর যানজটে আটকে আছেন। একটুও ঘুমাতে পারেননি। সামনের গাড়ি টান দিলে তাঁকেও টান দিতে হয়। প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা করে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। এর সমাধান কবে হবে?’

আজ সকালে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার যানজট। যানজটে পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার পরিবহন রয়েছে। এর বেশির ভাগ পরিবহন আগের দিন গতকাল রাতে আসা। রাতের দূরপাল্লার পরিবহন পরের দিন সকালে পার হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের নদী পার হতে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গাড়িতেই নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন চালক–যাত্রীরা।

অপরদিকে পাটুরিয়া প্রান্তেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় চার কিলোমিটার যানবাহন রয়েছে। ফেরিঘাট সড়কে কিছু দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস থাকলেও বেশির ভাগ ছিল পণ্যবাহী গাড়ি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২০টি ফেরি আছে। একটি রো রো ফেরি ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলাকে গত বুধবার আরিচা ও কাজিরহাট নৌপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকি ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এ ছাড়া দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ায় ঘাট স্বল্পতাও রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসেন বলেন, দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে চালু রয়েছে পাঁচটি। বাকি ১ ও ২ নম্বর ঘাট দুই বছর আগে নদীভাঙনের কবলে পড়ায় এখনো চালু হয়নি। বাকি পাঁচটি ঘাটের মধ্যে গতকাল ৩ নম্বর ছোট ফেরির পন্টুন সরিয়ে সেখানে রো রো ফেরির পন্টুন বসানো হয়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে ৭ নম্বর ঘাটের কাছে পকেট বন্ধ রেখে ড্রেজিং করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি বন্ধ। এ কারণে ওই নৌপথের গাড়ি এই নৌপথ দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এসব কারণে বাড়তি চাপ থাকছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার বলেন, গতকাল দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের ছোট পন্টুন সরিয়ে বড় ফেরির পন্টুন বসানো হয়েছে। আজ পাটুরিয়ার ১ নম্বর ঘাট বন্ধ রেখে ছোট ফেরির পন্টুনটি সরিয়ে রো রো ফেরির পন্টুন স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছে। এতে কিছুটা হলেও ঘাট স্বল্পতা দূর হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *