নিষ্ঠুর নির্যাতন

সারাবাংলা

রনি মন্ডল, গোয়ালন্দ থেকে:
দেশের সর্ববৃহৎ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দা এক যৌনকর্মীকে অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে গেছে দৌলতদিয়া যৌনকর্মীদের সংগঠন অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগমের বিরুদ্ধে। আহত যৌনকর্মীর নাম রেহেনা বেগম (৪০)। আহত অবস্থায় তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। এঘটনায় অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগম, লিলি বাড়িওয়ালী, আলেয়া বাড়ীওয়ালী, দুলালী, ছলে বাড়িওয়ালী ও পারভীনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত রেহেনা বেগম।বুধবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোহেনা বেগম জানান, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগম তার স্বামী ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকিরের সঙ্গে আমার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এই সন্দেহে গত রোববার রাত ৯টায় আমাকে তুলে নিয়ে অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের অফিস কক্ষে আটকে উলঙ্গ করে লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিট করে। এতে রক্তাক্ত হয়ে গেলে জখমের স্থানসহ গোপনাঙ্গে শুকনো মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, আমার উপর নির্মম নির্যাতন ও আত্মচিৎকারের পুরো দৃশ্য ঝুমুর তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখে। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে এক প্রকার গৃহবন্দি করে রাখে। গত সোমবার প্রায় সারাদিন ঘরবন্দি থেকে সন্ধ্যার পর সুযোগ বুঝে পালিয়ে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হই। হাসপাতালের ইনডোরে কর্তব্যরত সিনিয়র নার্স মুক্তা সরকার বলেন, রেহেনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। চিকিৎসকের নির্দেশনা মতে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ঝুমুর বেগম বলেন, রেহেনা একই সঙ্গে ঢাকার সাভারের এক লোক ও স্থানীয় আরেকজন লোকের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকের সঙ্গে প্রায়ই তার ঝামেলা হয়। গত সোমবার রাতেও তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে সে কিছুটা আহত হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া রেহেনা যৌনপল্লীর একজন চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী। তার অপরাধের জন্য সে জেলও খেটেছে। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, রেহেনা বেগমের দেওয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *