নীলফামারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে

সারাবাংলা

একরামুল হক লাবু, নীলফামারী থেকে:
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে চলছে গ্রামঞ্চলের অভ্যন্তরীন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মজবুতকরণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত হবে ততই বদলাবে মানুষের জীবন মান উন্নয়ন। মানুষের জীবন মান উন্নয়নে গ্রামীন জনপদের মানুষ পাবে শহরের মত যাতায়াত সুযোগ সুবিধা এই ধারাবাহিকতায় নিদের্শনা বাস্তবায়নে গ্রামীন জনপদের সড়কগুলো টেকসই ও মজবুতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হযেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলের নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের টাকা দিয়ে ২টি উপজেলায় বিভিন্ন রাস্তা তৈরি ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৩০টি ও সৈয়দপুরের ৫টি ইউয়িনে ১২ টি রাস্তা তৈরি করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাথমিক অবস্থায় নির্বাচিত সড়কগুলো বরাদ্দ অনুযায়ী হেরিংবোর্ড (এইচবিবি) ও সিসি ছলিং এবং ব্যবহার উপযোগী টেকসই এবং মজবুতকরণ করা হবে। পরবর্তীতে এ সড়কগুলোকে পাকাকরণ করার পরিকল্লপনা নেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্য রাস্তাগুলো খানাখন্দে মাটি ভরাট সহ নানামূখি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এই দুই উপজেলার গ্রামীন জনপদের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু হাসনাত সরকার বলেন, গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাবিটার অর্থ দিয়ে ইতিপূর্বে গ্রামের খানাখন্দে ভরপুর রাস্তাগুলোতে মাটি ভরাট করা হতো। কিন্তু বর্ষা শুরুর আগেই এই রাস্তাগুলোতে মাটি ভরাট করা হলেও সামান্য বৃষ্টি পাতে মাটি ধুয়ে যায়। যার ফলে মাটি ভরাট করা হলেও বর্ষা মৌসুমে জনগনের দুর্ভোগ ছিল। বছরের পর বছর রাস্তাগুলোতে মাটি ভরাট করেও সুফল পায় না এলাকাবাসী। ফলে জনগণের কাছে দৃশ্যমান হয় না উন্নয়ন প্রকল্প। এ জন্য এই অর্থ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গ্রামের গ্রামীন সড়ক উন্নয়নে করনীয় দিক সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে টিআর ও কবিটা প্রকল্পের ২য় ও ৩য় পর্যায়ের বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীন এ সড়কগুলো দৃশ্যমান উন্নয়ন ও টেকশই মজবুতকরণের জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ও রণচন্ডি সহ অন্য ইউনিয়নের স্থানীয়রা জানায়, বর্ষা শুরু হলে এই রাস্তাগুলো দিয়ে যাওয়া আসা করা খুবেই কষ্ট ছিল। বর্তমানে এই সড়কগুলো তৈরি হওয়ায় খুব সহজে বাড়ি থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া আসা সহ অন্য জরুরি কাজের জন্য যাতায়াতে আর কষ্ট হবে না।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ মো. আবুল কালাম বারী বলেন, গ্রাম হবে শহর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গ্রামের প্রতিটি রাস্তা ব্যবহার উপযোগী করা হবে। যাতে করে গ্রামঞ্চলের রাস্তাঘাটের দুর্ভোগে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট লাঘব হয়।
সংসদ সদস্য ১৫ নীলফামারী-৪ সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার গ্রামীন জনপদের মানুষের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় যাতায়াতে এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগে পড়েন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামাঞ্চলের এই সড়কগুলো কাদা জলে পায়ে হেটেও চলাচলের অনুপযোগী হয়। তাদের এই দুর্ভোগ লাঘবে গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলোকে স্থায়ী ও মজবুতকরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ আমার কাছে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন চায়। এরই ধারাবাহিকতায় বরাদ্দ অনুযায়ী তালিকা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *