পটুয়াখালীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলা ॥ আদালতে মামলা

সারাবাংলা

বাদল হোসেন, পটুয়াখালী থেকে
পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন বড়বিঘাই ইউনিয়নের মৃত হাজী বাকে আলী হাওলাদারের ছেলে আঃ লতিফ মাষ্টার হাইস্কুলে শিক্ষাকতা করতেন। কিন্তু তার অ্যাপেনডিস, হারনিয়া এবং মেরুদণ্ড অপারেশন করায় শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করে। কিছুটা সুস্থ হয়ে খাটাশিয়া বাজারে বইয়ের দোকান সহ ষ্টেশনারী দিয়ে ব্যবসা করেন। কিন্তু কিছু দিন আগে স্থানীয় কিছু বখাটে প্রকৃতির লোক আঃ লতিফ মাষ্টারদের জমিতে জন্মানো গাছপালা, ফলফলাদি জোরপূর্বক নিয়ে গেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই রেশ ধরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে খাটাশিয়া বাজারের উত্তর পাশে ফারুকের দোকানের সামনে আঃ লতিফ মাষ্টারের উপর পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় তাকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এই হামলার ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আবদুল মতিন মাস্টার বাদী হয়ে বড়বিঘাই ইউনিয়নের শহিদুল (২৫), মো. সেলিম (৪৫), মো. সুলতান (৪২), মামুন (২৬), মাসুদ ( ২১) ও মো. শামীমকে আসামি করে পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৩৭০/২০।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে ও ভিকটিম আঃ লতিফ মাষ্টারের বক্তব্যে জানা যায়, উপরোক্ত আসামিরা এলাকায় দস্যু প্রকৃতির লোক। তারা আইনের কোন তোয়াক্কা করে না। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিরা ঘটনার দিন আঃ লতিফ মাষ্টারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত ও নীলা ফুলা জখম করে। তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার আশি হাজার টাকা এবং দশ হাজার টাকার মূল্যের মুঠোফোনে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আঃ লতিফ মাষ্টারের ডাকচিৎকার শুনে তার ভাই এবং অন্য স্বাক্ষীরা এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুত্বর আহত অবস্থায় পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতলে ভর্তি করেন। বর্তমানে আঃ লতিফ মাষ্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বলেন, মামলার ৩নং আসামি সুলতানের নামে ডাকাতি ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। ২নং আসামি সেলিমের মেয়ে নাজমা ও তার স্বামী মনির ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যা এলাকার লোকজন জানে। এ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত সব আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার দাবি জানান চিকিৎসাধীন আঃ লতিফ মাষ্টার ও তার পরিবার।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *