পটুয়াখালীতে নিজের জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গিয়ে মিথ্যা মামলার শিকার অসহায় হারুন সিকদার

সারাবাংলা

মোসাম্মাৎ মাহিনুর বেগম, পটুয়াখালী থেকে :
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস সিকদারের ছেলে মো. হারুন সিকদার হাল সাং দূর্গাপুর, ডাকঘর ইটবাড়ীয়া। হারুন সিকদার আনুমানিক ২১ বছর আগে জেএল-৩৯, এস.এ. খতিয়ান নং-১৪৮, দাগ নং-১০১৯, ১০২০, বাটা ১২২৫, মৌজা- পটুয়াখালী ৩৬.৫০ শতাংশ জমি সাব কবলা মূলে ক্রয় করেন। তিনটি দাগ থেকে মোট ১৮ শতাংশ জমি বিক্রি করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে কোন রকম কাজকর্ম করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে সে পটুয়াখালী এসে তার ক্রয় করা জমিতে তার নির্মাণ করা বসতঘরে বসবাস করতে গেলে মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার, আফছের ফকির, রব তালুকদার, শহীদুল মৃধা, নুরিবান ফকির, আলম ফকির বাঁধা দেয়। তারা হারুন সিকদারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। বাঁধা প্রদানকারীদের মধ্যে মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদারের কাছে হারুন হাওলাদার ১২২৫ নং দাগ থেকে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করে চৌহদ্দি দিয়ে ভোগদখল বুঝিয়ে দেন। মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার ১০১৯ দাগে হারুন সিকদার নির্মিত বসতঘরে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট রাত ১০টার দিকে
সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাংচুর করে ঘরের মালামাল নিয়ে যায়। এসময় বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা হারুন সিকদারের স্ত্রী নিলুফাকে আহত করে এক ভরির স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। এঘটনায় নিলুফা বেগম বাদী হয়ে মো. হারুন অর রশিদ (৪৫), মোঃ আবু তালেব ঘরামী (৬০) ও মো. হালিম ঘরামী কে (৩০) আসামি করে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৭১/২০। এই মামলাটি থানা থেকে আদালতে গেলে হারুন হাওলাদার ১৪ দিন কারাগারে থাকেন। জেল থেকে জামিনে বের হয়ে হারুন হাওলাদার বিভিন্ন লোকজন ধরে শালিশ ব্যবস্থার জন্য পাঁয়তারা চালাতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে শালিশ ব্যবস্থা করে কোন মিমাংসা না করতে না পারায় উভয়পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। প্রাণহানিও ঘটতে পারে জেনে পটুয়াখালী সদর সার্কেল এসপি মিমাংসা করে একটি রয়েদাদ করেন। রয়েদাদে উল্লেখ আছে হারুন শিকদার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের কাছে যে শতাংশ জায়গা বিক্রি করেছেন, তা ফেরত দেবে এবং হারুন সিকদার হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে ১০ লাখ টাকা ফেরত দেবে। কিন্তু বর্তমানে হারুন সিকদারের কাছে কোন নগদ টাকা না থাকায় তিন মাসের মধ্যে জায়গা বিক্রি করে টাকা দেবে বলে সার্কেল এসপির কাছে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছেন। যার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড পটুয়াখালী শাখার হিসাব নং- ২০৫০১৯২০২০১৫৪১৮০০, চেক নং- এমসিএফ ৮৩৯৮৬৭৩। এঘটনার পর সার্কেল এসপি ছুটিতে ঢাকায় গেলে এই ফাঁকে হারুন সিকদারের উপর হামলা চালিয়ে পুনঃরায় ঘর ভেঙে যায়। হারুন সিকদারের পরিবারের লোকদের টেনে হিচড়ে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা চালায়। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে হারুন হাওলাদার হারুন সিকদারের নামে ২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৬/২০ ও মামলা নং-৬৪৫/২০। ওই মিথ্যা মামলার কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং হারুন সিকদার সহ তার পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *