পথে পথে বিপত্তি

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে
কিশোরগঞ্জ-লতিফপুর আঞ্চলিক সড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়কের বেহাল অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে গর্ত। বর্ষাকালে এই সড়কটি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ শহরের উদ্দেশ্যে লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে এই সড়কটি দিয়ে। বর্তমানে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর আগেও এই সড়কটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। কিশোরগঞ্জ শহরের সরকারি গোরস্থান থেকে লতিফপুর হয়ে শ্রীমন্তপুর বারতোপা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ ৩০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। কোন রকম ইটের খোয়া ফেলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজটি। সংস্কার কাজের নির্ধারিত তারিখ থেকে ১৫ মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্স সিন্ডিকেট কাজটি শেষ করতে পারেনি।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় এবং জেলা এলজিআরডি সদর হাওড় অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে কিশোরগঞ্জ-লতিফপুর, কাপাসাটিয়া সিসিক সড়কটি প্রায় ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মার্স সিন্ডিকেট নির্ধারিত সময় থেকে ১৭ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো শেষ করতে পারেনি রাস্তা সংস্কারের কাজ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এই রাস্তা সংস্কার কাজটি ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪১৩ টাকা মূল্যে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্স সিন্ডিকেট। আরসিসি বিটুমিনাস কার্পেটিং রাস্তা ও ইউড্রেন কালভার্ট দ্বারা উন্নয়ন কাজের ধরণটি ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। কাজটি শেষ হওয়ার তারিখ ছিল ২০১৯ সালের ৫ মে। অথচ নির্ধারিত তারিখের চেয়ে ১৫ মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্স সিন্ডিকেট কাজটি শেষ করতে পারেনি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের সরকারি গোরস্থান থেকে লতিফপুর হয়ে শ্রীমন্তপুর বারতোপা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তার খুবই বেহাল দশা। সম্পূর্ণরূপে সংস্কার কাজটি শেষ করতে না পারায় রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এককথায় এই আঞ্চলিক সড়কটি কিশোরগঞ্জ শহরের উদ্দেশ্যে লক্ষাধিক যাতায়াতকারীদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানিতে পরিণত হচ্ছে রাস্তাটি। বলা যায় বর্ষাকালে এই সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে যায়।
লতিফপুর বাজারের ব্যবসায়ী বকুল মিয়া জানান, আমরা সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করে থাকি। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় এমন বেহাল রাস্তা আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। এই সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ করছি কর্তৃপক্ষকে। লতিবাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুল আরেফিন ফরিদ জানান, প্রায় আড়াই বছরের উপরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছে। এই সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. আমিরুজ্জামানকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফুঁসছে। সেই সঙ্গে অতি দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *