পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্পে ত্রুটি : পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যয় বাড়ার ইঙ্গিত

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের নকশা ত্রুটি নিয়ে একে অন্যকে দুষছে দুইপক্ষ। সেতু বিভাগ বলছে এর দায় নিতে হবে রেলওয়েকে। আর রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এর দাবি, সড়ক বিবেচনা করেই নকশা করা হয়েছে, নতুন চাহিদা দিচ্ছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে মাওয়া ও জাজিরা অংশে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় এক মাস ধরে। ত্রুটি সংশোধনে দুটি টেকনিক্যাল টিম গঠন করেছে রেল মন্ত্রণালয়।

ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প। নারায়ণঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ ৮ জেলা হয়ে যশোর পৌঁছাবে ১৭২ কিলোমিটারের এই রেলপথ। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে গ্রæপ লিমিটেড। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরুর ৪ বছর আট মাসের মাথায় এর নকশায় দেখা গেছে বড় ধরণের ত্রুটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ আগস্টের শেষের দিকে মাওয়া অংশের দুটি ও জাজিরা প্রান্তের দুটি পিলারের নকশা নিয়ে আপত্তি জানায়।

৮০ কিলোমিটার বেগে দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা গাড়িগুলো পদ্মা সেতুতে ওঠার মুখে ঠিক এখানে এসে বাধাপ্রাপ্ত হবে। কেননা রেল প্রকল্পের যে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারটি নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে প্রয়োজনীয় ৫.৭ মিটার উচ্চতা নেই এবং একই সঙ্গে রাস্তার দুপাশে যে প্রশস্ততা দরকার সেটিও নেই। যার কারণে ভারি যে যানগুলো রয়েছে সেগুলো এই রেল লাইনের নিচ দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠতে পারবে না।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, নকশায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, স্ট্যান্ডার্ট যে হাইট আছে মহাসড়কের জন্য ৫.৭ মিটার এখানে কিছুটা কম আছে। যে হাইট দেয়া হয়েছে তাতে ন্যাশনাল হাইওয়েতেই সমস্যা হবে এটা তো আন্তর্জাতিক মহাসড়ক। এখানে যান চলাচলে সমস্যা হবে। প্লাস হরিজেন্টাল ক্লিয়ারেন্সও কম, ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্সও কম। এ ত্রুটির দায়ভার রেলওয়ের তারা আমাদের সাথে কোন মতবিনিময় বা আলোচনা করে নাই। এটা উচিত ছিল। তাদেরও স্ট্যান্ডার্টের খোঁজ নেওয়া দরকার ছিল।

তবে এ অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না রেল সংযোগ প্রকল্প। রেলমন্ত্রীর দাবি সড়কের বিষয়টি মাথায় রেখেই নকশা করা হয়েছে। নতুন করে উচ্চতা ও প্রশস্ত বাড়ানোর দাবি করছে সেতু বিভাগ।

রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, তাদের রিকোয়ারমেন্টের মধ্যেই করছিলাম। প্রশস্ততা নরমালি হয় ৯.১, কিন্তু তারা চাচ্ছে ১৫.৫ যেটা আনইউজুয়াল। আমাদের উচ্চতা আছে ৫.৫ মিটার, তারা চাচ্ছে ৫.৭ মিটার। এটা এডজাস্ট করা সম্ভব। কিন্তু দ্বিমত হচ্ছে প্রশস্ততা নিয়ে।

আমরা বলছি, রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী এই সড়কের ডিজাইন দাও। কিন্তু তারা এখনো করেনি ডিজাইন। কিন্তু আমরা যখন কাজ করছি তখন তারা বাধ্যবাধকতা তৈরি করে দিয়েছে। আমাদের বর্তমান যে স্পেস দেওয়া আছে সেটি যথেষ্ট। তারপরও রোডের সমস্যা হলে সেটি এডজাস্ট করতে দুটি টেকনিক্যাল টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রেলমন্ত্রী।

অর্থায়ন থেকে শুরু করে নানা জটিলতায় পিছিয়ে রেলসংযোগ প্রকল্প। নতুন করে দেখা দেয়া এ সমস্যায় প্রকল্প আরও পেছানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে ব্যয় বাড়ার ইঙ্গিতও দিলেন রেলমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *