বুধবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতু রেল সংযোগে বাড়তে পারে সময়-ব্যয়

ডিসেম্বর ১৩, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৪ সালের জুন নাগাদ শেষ হচ্ছে না পদ্মা সেতুর রেল লিংক প্রকল্পের কাজ। সময় বাড়তে পারে আরও দেড় বছর। রেলে চড়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে অপেক্ষা করতে হতে পারে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। একই সঙ্গে বাড়তে পারে এ প্রকল্পের ব্যয়। শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে আরও এক হাজার ১৭৭ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে পরিকল্পনা কমিশনকে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ ও পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা ছিল ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সব কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সময়-ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সম্প্রতি রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) চতুর্থ’ সভা হয়। সভায় প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়ানো নিয়ে পিআইসির চতুর্থ কার্যবিবরণী পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, নানা কারণে প্রকল্পের আওতায় বাড়তি ব্যয় প্রয়োজন। ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া তৃতীয় ডুয়েলগেজ লাইন, ভাঙ্গা জংশনে ওভারহেড স্টেশন, কমলাপুরের টিটিপাড়ায় আন্ডারপাস, নড়াইলের তুলারামপুরে নতুন আন্ডারপাস, ভায়াডাক্টের পিয়ারের নকশা পরিবর্তন, একশটি বিজি কোচের ডিজাইন পরিবর্তন, মাওয়া, পদ্মবিলা, কাশিয়ানি, রুপদিয়া স্টেশনগুলোতে অপারেশনাল সুবিধা বৃদ্ধিজনিত পরিবর্তনও ব্যয় বাড়ার জন্য দায়ী। নদীর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স বৃদ্ধিজনিত অতিরিক্ত সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৩৮ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ১৭৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

নির্মাণকাজের চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ডিসেম্বর ২০২২ এবং ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড বিবেচনায় ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত। ঠিকাদারের দাখিল করা সবশেষ ওয়ার্ক প্রোগ্রাম (এফ) অনুযায়ী বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত। ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি শিফটিং, ভেরিয়েশন, বর্ষাকাল, করোনার প্রকোপের কারণে ঠিকাদার প্রায় দেড় বছর প্রকল্প বাস্তবায়নকাল বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন।

জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ভূমি অধিগ্রহণ। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৫২ একর অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান। ঢাকা জেলায় ১৮ দশমিক ২৩৯১ একর, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২ দশমিক ৭৩২১ একর, মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৩৩ দশমিক ২২৭৫ একর, মাদারীপুর জেলায় ৩১ দশমিক ৭৫৪৫ একর, ফরিদপুর জেলায় ২৭ দশমিক ৫৬৩০ একর, গোপালগঞ্জ জেলায় ১৩ দশমিক ১৩৬২ একর, নড়াইল জেলায় ২২ দশমিক ৯৭৭৫ একর ও যশোর জেলায় ২ দশমিক ৯৪ একর ভূমি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন। যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ করে ঠিকাদারকে সাইট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।

ব্যয় বাড়ছে ইউটিলিটি শিফটিং ও পরামর্শক সেবায়ও। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর থেকে ইউটিলিটি শিফটিং বাবদ ৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নে পরামর্শক সেবাও বাড়াতে হবে। বর্তমান সাইট কন্ডিশন ও বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত পরিপালনের জন্য ভেরিয়েশন দেওয়ায় কাজের পরিধি বেড়েছে। তাই প্রকল্পের মূল স্কোপ থেকে অতিরিক্ত কাজ সুষ্ঠু তদারকির জন্য কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টের (সিএসসি) জনমাস বাড়ানোসহ নতুন পদ সৃষ্টিও অত্যাবশ্যক বলে জানায় রেলওয়ে।

বর্তমানে প্রস্তাবিত প্রকল্পের একটি খাতের চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা মূল চুক্তিমূল্য ও সবশেষ অনুমোদিত চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৪৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি। ট্যাক্স-ভ্যাট ছাড়া এ ব্যয় ৩৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। নির্মাণকাজের ব্যয় বাড়ানোসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনের জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, করোনা সংকটে অনেক সময় অপচয় হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক সেবা খাতে হয়েছে বাড়তি ব্যয়। এসব কারণে প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়, প্রাথমিক পর্যায়ে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
সর্বশেষ

করোনা শনাক্ত, হার ২৫.১১ শতাংশ

বিশেষ সংবাদদাতা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) নতুন ধরন ‌‘ওমিক্রন’র প্রভাবে দেশে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31