পবিপ্রবি ঘাসফুল বিদ্যালয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো

সারাবাংলা

পবিপ্রবি প্রতিনিধি
অস্বচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে সুশিক্ষা এবং জাতি গঠনের হাতিয়ার, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও পাক শিক্ষার অধিকার অভিলক্ষ্য কে সামনে রেখে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একদল শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ঘাসফুল বিদ্যালয় নামের একটি স্বতন্ত্র সামাজিক সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ক্যাম্পাসে কিছু তরুণ পবিপ্রবিয়ানেদের হাত ধরে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর। ঘাসে ফোটা ফুলগুলো কখনো বিলাশ বহুল কক্ষে দামী ফুলদানিতে জায়গা পায়না। মানুষের পদদলিত হওয়াই যেন ভাগ্যে লিখন তাদের। তবু এরই মাঝে শত অযত্ন,অবহেলাতেও কিছু কিছু ঘাসফুল অবিরাম সৌন্দর্য বর্ধন করে চলে। ঠিক তেমনিভাবে ঘাসফুল বিদ্যালয় বিশ্বাস করে, আমাদের চারপাশের এমন অবহেলিত, অস্বচ্ছল, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝেও রয়েছে সেই প্রতিভা যা ভূমিকা রাখবে দেশ ও জাতির কল্যাণে। এ সম্পর্কে ঘাসফুল বিদ্যালয়টির সভাপতি জনাব মমিনুল ইসলাম তারেক বলেন, অত্র এলাকার ( দুমকি,পটুয়াখালী) যে সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিংবা পরিবার থেকে শিক্ষার অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে অক্ষম, মূলত সে-সকল শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঘাসফুল বিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধান সেই সঙ্গে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি ও সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের দৈহিক সহযোগিতা, সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের জ্ঞান বিকশে ভূমিকা রেখে চলেছে যা ভবিষ্যতেও অব্যহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে চলেছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে অর্জন করেছে বেশ কিছু সফলতা, যার মধ্যে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ঘাসফুল শিক্ষার্থীদের ঈর্ষনীয় ফলাফল এবং সাঈদা নামের এক শিক্ষার্থীর জিপিএ ৫.০ অর্জন ছিল অভাবনীয়।বর্তমানে বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ষাট-সত্তর ছাড়িয়েছে এবং শিশু থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হলেও নেই কোন নির্দিষ্ট ক্লাসরুম। রোদ,ঝড় বৃষ্টিতে তাই অনেকটাই ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। পদদলিত শিশুদের মাঝে থেকে ফুল ফুটিয়ে সুগন্ধ বিলিয়ে, পৃথিবীর সৌন্দর্য বর্ধন করতে চায় ঘাসফুল বিদ্যালয়।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *