পর্যটন সুবিধা নেই

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
বিস্তৃত সংরক্ষিত বনাঞ্চল, চা বাগান, জলপ্রপাত, ঝরনা, সর্পিল পথ, উঁচু পাহাড় আর বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদসহ নৃগোষ্টি নিয়েই বৈচিত্র্যময় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা। ভারত সীমান্ত ঘেষা বিশাল এই বনাঞ্চল এবং পাহাড় ঘেরা ৪২৬.৭২ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনের কমলগঞ্জে মনিপুরী, খাসিয়া, মুন্ডাসহ প্রায় ২৫টি জাতি গোষ্ঠীর বসবাস এখানে। এসব মানুষের জীবন সংগ্রাম কৃষ্টি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও জীবনযাপনে যুক্ত করেছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনার। ঘন সবুজ বন, ঝরনা, চা বাগান এ অঞ্চলটি বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। বৃহত্তর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের পর্যটন খাতে একটা বৃহৎ সম্ভাবনা থাকলেও এখনো এই খাতের তেমন কোন উন্নতি হয়নি। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কমলগঞ্জের পর্যটন স্পটগুলোকে ঘিরে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক আসছে। তবে পর্যটকদের প্রয়োজনে আধুনিক হোটেল-মোটেল গড়ে উঠেনি। এছাড়া পাহাড়ে দুর্গম এলাকা সমূহে অবস্থিত প্রাকৃতিক ঝরনা বা ঝিরি এলাকায় নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। ফলে সব শ্রেণির পর্যটকরা পাহাড়ে আসছে না। মূলত অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তরুণ-তরুণীরা পাহাড়ে বেশি আসছে।
কমলগঞ্জের পর্যটকদের মূল আকর্ষণ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেইক, হামহাম জলপ্রপাত, খাসিয়া পুঞ্জি, বাঘিছড়া লেক, মনোরম চা বাগান ইত্যাদি। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবকাঠামো গড়ে না উঠা, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা, দুর্গম এলাকায় প্রাকৃতিক ঝরনায় যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামগার, শৌচাগার, যাতায়াতের রাস্তার সুবিধা না থাকার কারণে কমলগঞ্জে পর্যটনের বিকাশ হচ্ছে না। হামহাম জলপ্রপাত পর্যটনের অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও পর্যাপ্ত গাইড সুবিধা না থাকা, দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকরা ঝরনায় যেতে পারছে না। দুর্গম পাহাড়ি আঁকা বাঁকা উঁচু নিচু টিলা বেয়ে পর্যটকরা যেতে চান না। পায়ে হেটে প্রায় ৩ ঘণ্টায় যেতে হয় হামহামে। অথচ সরকারিভাবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিলে পর্যটকদের আরও বৃদ্ধি পেতো। চা বাগানের মধ্যখানে কৃত্রিম লেকটি উন্নয়ন করতে চা বাগান কর্তৃপক্ষের বাঁধায় কোন উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। বিগত সময় ৪৬ লাখ টাকা ফেরত গিয়েছি বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। অথচ সরকারের খাস জায়গায় চা বাগান। জমির মালিক সরকার। অথচ সরকারের উন্নয়ন করতে চা বাগান কর্তৃপক্ষ বাঁধা দিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি লেইকের জায়গাটি লিজ বাতিল করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হোক। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন থেকে ২০১৭ সালে হামহাম জলপ্রপাতকে ঘিরে ৮৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে পাঠালেও সেটা ফাইল বন্দি রয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলে স্থানীয় পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। বাংলাদেশ পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে কমলগঞ্জ উপজেলায় সরকারিভাবে হোটেল বা মোটেল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে পর্যটন খাতে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতো। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরকারের এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। কমলগঞ্জের ভানুবিলকে কেন্দ্র করে টুরিজম বেইজ তৈরি করতে সরকার একটি প্রকল্প নিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *