পাথরঘাটা বাইনচটকী ফেরিঘাট মহাসড়ক

Uncategorized

মোস্তাফিজুর রহমান জিতু, পাথরঘাটা থেকে
বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় অধিকাংশ আঞ্চলিক ও মহাসড়কে ধানের খড় শুকানোয় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার সড়কগুলোর দুই পাশজুড়ে চলছে আউশ ধান মাড়াইয়ের কাজ। মাড়াই শেষে ধানের খড় রাস্তার ওপর বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে। পাথরঘাটা হতে বাইনচটকী ফেরিঘাট, বামনা, আমুয়া ও বরিশালমুখি সড়কের দু’পাশের তিন ভাগের একভাগ দখল করে খড়ের স্তুপ রাখা হয়েছে। সেখানেই বিছিয়ে শুকানোও হচ্ছে খড়। এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। বৃষ্টিতে খড় পঁচে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিভিন্ন সড়কে ধানের খড় শুকানোর ফলে যানবাহন চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন দুর্ঘটনা।
জানা যায়, পাথরঘাটা, কালমেঘা, কমারহাট, রুপধন, গুধীঘাটা বাইনচটকী ফেরিঘাট মহাসড়ক, এমনকি বরিশাল প্রবেশ পথের মুল সড়কের উপর ধান মাড়াই, ধানের খড় শুকানো, খড়ের গাদা তৈরি, ঘাস শুকানোর কারণে চলাচলের অনপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ঘটছে নানাবিধ দুর্ঘটনা। বর্তমানে পাথরঘাটা থেকে বরগুনা প্রবেশ পথগুলোর মধ্যে সবচেয়ে করুণ অবস্থা বাইনচটকী ফেরিঘাট মহাসড়ক।
পথচারিরা জানান, খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা। এই রাস্তায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা এমনিতেই বেশি। তার উপরে আছে বিভিন্ন জায়গায় ধানের খড় শুকানোর জন্য রাস্তার উপর বিছানো। রাস্তার উপর বিছানো প্রায় সব উপাদান গুলোই একদিকে পিচ্ছিল অন্যদিকে রাস্তার খানাখন্দগুলো এমনভাবে ঢেকে ফেলেছে এতে আসলে বুঝা যায় না যে, কোথায় খানাখন্দ আছে, কতখানি খাল আছে বা কোন দিক দিয়ে কত গতিতে যেতে হবে।
দুর্ঘটনার শিকার কাকচিড়ার ব্যবসায়ী লিটন ইলেকট্রনিক এর মালিক মো. লিটন বলেন, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। রাস্তায় সাধারণত সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই থাকেন। সে হোক ড্রাইভার বা যাত্রী, উভয়ের ঘাড়েই সংসারের বোঝা। তাই একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও যদি এই খড়ের কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান বা পঙ্গু হোন তাহলে সেই সংসারের দায়িত্ব নিবেন কে? তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে এটি অপসারণের জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, এলাকার যেসব সড়কে খড়ের কারণে চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে আমরা অভিযানে নামবো এবং জনগণকে নিরাপদ সড়ক উপহার দেবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *